bangla-vasay-biggan
Madhyamik

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান

বাংলা দশম শ্রেনি – বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান(প্রবন্ধ)


লেখক পরিচিতি

বাংলা সাহিত্যে রাজশেখর বসু, পরশুরাম ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত। রাজশেখর বসু বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য চরিত্র, তাকে কোনভাবেই শুধুমাত্র সাধারণ সাহিত্যিকের দলে ফেলা যায় না।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে তিনি ছিলেন একজন রসায়নবিদ। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কেমিক্যাল কোম্পানি থেকে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। স্বকীয় দক্ষতায় তিনি সামান্য পদ থেকে খুব অল্পদিনের মধ্যেই কোম্পানির ডিরেক্টরের পদ অর্জন করেন। তাঁর সময়ে কোম্পানি ব্যাপক উন্নতি লাভ করে এবং তিনি আমৃত্যু বেঙ্গল কেমিক্যালের সাথে জড়িয়ে ছিলেন।

বিজ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর ভালোবাসা থেকে এবং জনসাধারণের কাছে সহজভাবে বিজ্ঞান ও বাংলাভাষাকে পৌঁছে দেবার উদ্দেশ্যে তিনি বাংলা পরিভাষার কাজ শুরু করেন। এছাড়া তিনি আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান – চলন্তিকা প্রণয়ন করে ছিলেন।

চলন্তিকা অভিধান রাজশেখর বসু
চলন্তিকা [চিত্র সৌজন্য – গ্রন্থগত]
সাধারনের তুলনায় তিনি কিছু দেরিতে তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। পরশুরাম ছদ্মনামে রচিত বিখ্যাত ব্যাঙ্গরচনা ‘শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’ তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। তাঁর উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিগুলির মধ্যে ‘গড্ডলিকা’, ‘কজ্জলী’ ইত্যাদি চিরস্মরণীয়। রম্যরচনা, লেখায় হাস্যরসের ও ব্যঙ্গকৌতুকের ব্যবহার তাঁর লেখাকে অন্যআঙ্গিকে নিয়ে গিয়েছিল। অনুবাদ সাহিত্যেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন।

উৎস

আলোচ্য প্রবন্ধটি রাজশেখর বসুর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বিচিন্তা’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

পটভূমি

ইতিহাসে আমরা জেনেছি যে, ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে পাশ্চাত্য কায়দায় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন করেন। ফলে ভারতবর্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ পাঠ্যক্রম এবং পাশ্চাত্য ভাষা ‘ইংরাজি’র মাধ্যমে পাঠদান শুরু হয়। এর পাশাপাশি আরো একটা বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে যে ষোলশ শতাব্দী থেকে উনিশ শতকের গোড়ার দিক অবধি ইউরোপ বিজ্ঞান চর্চায় যেরূপ উন্নতি করতে পেরেছিল, এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া কোন দেশেরই সেইভাবে বিজ্ঞান চর্চায় উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল না। ফলে বিজ্ঞানচর্চায় বিশ্বজুড়ে ইংরাজির (এবং জার্মানীর) দাপট ছিল চোখে পড়ার মত।

উনিশ শতকের গোড়ার দিক থেকে ভারতবর্ষ বিজ্ঞানচর্চায় ধীরে ধীরে উন্নতি করতে থাকে, যদিও পরাধীন ভারতে আমাদের কাজ তেমনভাবে স্বীকৃতি পেত না। কিন্তু এই বিজ্ঞানচর্চার মূল ভাষা ছিল ইংরাজি, এর ফলে সাধারণ বাঙ্গালির কাছে বিজ্ঞানচর্চা ছিল অধরা।

বেশ কিছু বরেণ্য বৈজ্ঞানিক যেমন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, শ্রী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, শ্রী রাজশেখর বসু প্রমুখের বাংলায় বিজ্ঞান চর্চায় অবদান বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য। ভারতবর্ষ স্বাধীন হবার পরে সরকারের তরফে বিদেশী ভাষা বর্জন করে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার এক বিশেষ চল শুরু হয়েছিল। নব্য স্বাধীন দেশের পাঠক এবং সেই দেশে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার কিছু বিশেষ দিকের কথা নিয়ে এই প্রবন্ধ লেখা  হয়েছে।

এই প্রবন্ধ পড়বার পূর্বে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে এই প্রবন্ধ লেখা হয়েছিল ১৯৫৫ সালে।

JUMP whats-app subscrition

বিষয় সংক্ষেপ

প্রাবন্ধিক প্রথমেই বাংলায় বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের পাঠকদের দুইভাগে ভাগ করেছেন।

প্রথম, যারা ইংরাজি জানেন না বা অতিঅল্প জানেন।

দ্বিতীয়, যারা ইংরাজি জানেন এবং কমবেশি ইংরেজি বই পড়েছেন।

এই দুই ধরণের পাঠক যখন বাংলায় রচিত বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা পড়েন তখন তারা ভিন্ন দুটি সমস্যার সম্মুখীন হন। যেহেতু প্রথম ভাগের পাঠক ইংরেজি জানেন না এবং তাদের ইংরেজি বই পড়ার সুযোগ হয়নি, তাই তাদের কাছে বাংলায় ভাষায় লেখা বিজ্ঞান যে ভাবেই তুলে ধরা হোক না কেন তাতে তাদের কোন অসুবিধা হয় না।

অপর দিকে, যারা আগে ইংরেজি বই পড়েছেন এবং ইংরেজিতেই বিজ্ঞান সংক্রান্ত পরিভাষা জেনেছেন তাদের সামনে যখন বাংলা পরিভাষা-যুক্ত বিজ্ঞান লেখা তুলে ধরা হয় তখন তারা অসুবিধার সম্মুখীন হন। তখন “পাঠকদের পূর্ব পরিচিত ইংরেজি ভাষার প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাত বর্জন করে প্রীতির সাথে মাতৃভাষা আয়ত্ব করতে হয়।”

প্রাবন্ধিক এই ব্যাপারটি একটি উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়েছেন, প্রথমভাগের পাঠক যখন পড়েন যে “এক নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট সরল রেখার উপর এক সমবাহু ত্রিভুজ অঙ্কিত করতে হইবে” তখন সে এই ব্যাপারটার মধ্যে কোন সমস্যা খুঁজে পায় না।

কিন্তু ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত দ্বিতীয় ভাগের পাঠক যিনি এই একই ব্যাপারটি ইংরেজিতে পড়েছেন; ‘Construct and Equilateral triangle on a given straight line’ তাই তিনি যখন একই ব্যাপার বাংলায় পড়েন তখন তাঁর বাংলা লেখাটি বেমানান লাগে।


[আরো পড়ুন – জীবনবিজ্ঞান অধ্যায়  – বংশগতি]


প্রাবন্ধিক যে সময় এই প্রবন্ধটি রচনা করেছেন সেই সময় বাংলায় বিজ্ঞান চর্চা ব্যাপারটি আজকের মতো পরিণতি লাভ করেনি।

সেই সময় প্রধান সমস্যা ছিল পরিভাষা না থাকা। পরিভাষা হচ্ছে একটি বিস্তৃত ধারণাকে সংক্ষেপিত করে একটি শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা। এই পরিভাষা একটি ভাষার শব্দের পরিবর্তে অন্য ভাষায় অন্য শব্দ ব্যবহার প্রয়োগ করা অর্থাৎ ইংরেজি পরিভাষা Equilateral triangle এর বাংলা পরিভাষা ‘সমবাহু ত্রিভুজ’।

প্রবন্ধিক জানিয়েছেন যে, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বাংলায় নানা বিষয়ের পরিভাষা রচনা করার কাজ পূর্বে হয়েছে। এই কাজে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের তুলনায় অধিক সাফল্য লাভ করেছে কারণ পরিষদের কাজটি একযোগে না হবার কারণে তা সাম্যাবস্থায় পৌছায়নি। পরিভাষার অপ্রতুলতা প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক তাঁর মতামত হিসাবে জানিয়েছেন যে “যতদিন উপযুক্ত বাংলা শব্দ রচিত না হয় ততদিন ইংরেজি শব্দই বাংলা বানানে চলানো ভালো”।

এর উদাহরণ হিসাবে তিনি দেখিয়েছেন যে ‘অক্সিজেন বা প্যারাডাইক্লোরোবেঞ্জিন’ এই ধরণের নামের ক্ষেত্রে বাংলা পরিভাষা অনর্থক না খুঁজে শব্দগুলিকে বাংলা হরফে লেখাই অধিক শ্রেয়।

বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার আরো একটি বিশেষ দিক প্রাবন্ধিক আমাদের জানিয়েছেন, পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলির তুলনায়  ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জনসাধারণের সাধারণ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নগণ্য। তাই অন্যান্য দেশের বয়স্কদের জন্য যা লেখা হয়, সেই একই পদ্ধতিতে তা ভারতে লেখা চলে না। কারণ এখানে বিজ্ঞান সম্পর্কিত কোন লেখা একেবারে গোড়া থেকে না লিখলে তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য হবে না। তাই বাংলায় জনসাধারণের জন্য যারা বৈজ্ঞানিক লেখা লেখেন, তাদের এই বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতেই হবে। তবে প্রাবন্ধিকের বিশ্বাস ধীরে ধীরে মানুষের বিজ্ঞান চেতনা বৃদ্ধি পাবে তাই কালক্রমে এই বিশেষ অসুবিধাও দূর হবে।

বাংলা ভাষায় যারা বিজ্ঞানমূলক রচনা যারা লেখেন তাদের অধিকাংশই ইংরেজিতেই বিজ্ঞান পড়েছেন। ফলে তাদের লেখার মধ্যে ইংরেজি ভাষার একটি সুস্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের এই লেখাগুলি ইংরেজি ভাষার আক্ষরিক অনুবাদে পরিণত হয়। এই লেখকদের মধ্যে বহুজন মনে করেন যে ইংরেজি শব্দের যে অর্থব্যাপ্তি আছে, বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও তার প্রতিশব্দ একই হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই ব্যাপারটি কিছু ক্ষেত্রে উৎকট পরিভাষার জন্ম দেয়, যেমন sensitized paper এর আক্ষরিক অনুবাদ স্পর্শকাতর কাগজ, কিন্তু ‘স্পর্শকাতর কাগজ’ শব্দটি লেখায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে একেবারেই বেমানান।

আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, লেখক ইংরেজিতে ভাবছেন এবং তা বাংলা অনুবাদে প্রকাশ করছেন। কিন্তু এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে লেখকের বক্তব্য ভীষণ জটিল হয়ে গেছে।

বাংলা এবং ইংরেজির পরিভাষার এই সমস্যার হাত থেকে বাঁচার জন্য অনেক লেখক পরিভাষা বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করার কথা ভাবেন। কিন্তু এই ভাবনা সঠিক নয়, কারণ ‘পরিভাষার উদ্দেশ্য ভাষার সংক্ষেপ এবং অর্থ সুনির্দিষ্ট করা’। তাই পরিভাষা বাদ দিয়ে যদি বার বার সম্পূর্ণ ব্যাপারটির বর্ণনা দিতে হয় তাহলে লেখার শব্দের ভার অনর্থক অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই বাংলা পরিভাষা প্রথমবার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় কিন্তু পরবর্তী সময়ে শুধুমাত্র পরিভাষা ব্যবহার করাটাই দস্তুর।


[আরো পড়ুন – সিরাজদৌল্লার আলোচনা]

ভাষায় আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন – অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা।

অলংকার বা গহনা যেমন শরীরের শ্রীবৃদ্ধি করে ঠিক তেমনভাবে ভাষার অলংকারও সাহিত্যের শোভা বর্ধন করে। অভিধা কথার অর্থ হল সংজ্ঞা, অর্থাৎ অরণ্য কথাটির অর্থ বন, আবার দেশ কথাটির অর্থ স্থান – এগুলি ‘অভিধা’। কিন্তু ‘লক্ষনা’র ক্ষেত্রে মূল অভিধা বাধাপ্রাপ্ত হয়, যেমন ‘দেশের লজ্জা’ এই কথাটিতে  নির্দিষ্ট একটি দেশের লজ্জার কথা বোঝানো হচ্ছেনা বরং সেই দেশের জনগণের লজ্জার কথা বলা হচ্ছে। আবার ‘অরণ্যে রোদন’ কথাটিতে অরণ্য থাকলেও এর প্রকৃত অর্থ হল ‘নিস্ফল খেদ’ এটি একটি ‘ব্যঞ্জনা’। প্রাবন্ধিক আমাদের মনে করিয়েছেন যে সাহিত্যের ক্ষেত্রে অলংকার শোভা বৃদ্ধি করলেও, বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ না করাই ভালো।

কারণ বিজ্ঞানমূলক রচনার ক্ষেত্রে প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের মূল ব্যাপারটি পাঠকের কাছে উপস্থাপন করা। তাই স্থান বিশেষে উপমা বা রূপকের ব্যবহার করা  গেলেও লেখকের উচিৎ অলংকার বর্জন করা।

সর্বোপরি, প্রাবন্ধিক আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে বিজ্ঞানমূলক রচনার ক্ষেত্রে লেখকের সীমিত বা অল্প জ্ঞান ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে এবং ভুল বৈজ্ঞানিক লেখা পাঠকের পক্ষে অনিষ্টকর। তাই যেকোন বৈজ্ঞানিক লেখা প্রকাশ করার পূর্বে প্রকাশক বা সম্পাদকের উচিৎ তা কোন অভিজ্ঞ লেখককে দিয়ে যাচাই করিয়ে নেওয়া।


আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করার অনুরোধ রইল! 🙂


মূলবক্তব্য

বিজ্ঞানমূলক রচনার ক্ষেত্রে প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের মূল ব্যাপারটি পাঠকের কাছে উপস্থাপন করা। কিন্তু বহুক্ষেত্রে লেখকের সদিচ্ছা থাকলেও লেখাগুলি অনেক সময় পাঠকের কাছে দুর্বোধ্য ও জটিল হয়ে যায়। এর অন্যতম কারণ আমাদের উচ্চশিক্ষায় ইংরেজি ভাষার প্রভাব। যেহেতু লেখকদের অধিকাংশই ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান অধ্যয়ন এবং চর্চা করেন, তাই মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। শুধু তাই নয়, মাতৃভাষায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে আরো একটি বাধা হল সঠিক পরিভাষার অভাব।

বিজ্ঞানে পরিভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ পরিভাষার মধ্যামে বৈজ্ঞানিক অর্থ সংক্ষেপিত এবং সুনির্দিষ্ট করা হয়, যেমন photosynthesis শব্দটির বাংলা পরিভাষা ‘সালোকসংশ্লেষ’ – এই শব্দটির অর্থ বলতে উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া বোঝানো হয় যার মাধ্যমে উদ্ভিদ তার খাদ্য তৈরি করে এবং পরিবেশে অক্সিজেন নির্গত করে। এবার লেখার ক্ষেত্রে প্রতিবার এই প্রক্রিয়া উল্লেখ করে বারবার সম্পূর্ণ বর্ণনা করা  সম্ভব নয়, তাই এক্ষেত্রে পরিভাষা ‘সালোকসংশ্লেষ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


অন্যান্য বিভাগগুলি পড়ুন

দশম শ্রেণি – ভৌতবিজ্ঞান

দশম শ্রেণি – বাংলা

দশম শ্রেণি – গণিত

দশম শ্রেণি – জীবনবিজ্ঞান


প্রাবন্ধিক খুব যত্ন সহকারে আমাদের বুঝিয়েছেন যে কিভাবে পরিভাষা সংক্রান্ত সমস্যাকে অতিক্রম করা যায়। আরো একটি বিশেষ ব্যাপার তিনি উল্লেখ করেছেন তা হল বাংলা ভাষার সাবলীলতা বজায় রেখে বিজ্ঞান রচনা। কারণ প্রতিটা ভাষার একটি নিজস্ব শৈলী (style) আছে, যা বজায় না রাখলে লেখা দুর্বোধ্য এবং জটিল হয়ে যায়। এছাড়াও প্রাবন্ধিক তুলনার মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান সংক্রান্ত লেখার পাঠক এবং আমাদের দেশের পাঠকদের মধ্যে অনেকটাই তফাৎ আছে, তাই তাদের জন্য বিজ্ঞান বিশ্লেষণের পদ্ধতিও ভিন্ন হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

সর্বোপরি বলা যায় এই বলা যায় যে ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটি মাতৃভাষায় বিজ্ঞান রচনার জন্য একটি আদর্শ গাইডলাইন।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply