varoter-mrittika
Madhyamik

ভারতের মৃত্তিকা

ভূগোলদশম শ্রেণি – আঞ্চলিক ভূগোল (একাদশ পর্ব)


ভারতবর্ষ বৈচিত্র্যতায় পূর্ণ একটি দেশ। সংস্কৃতি, ধর্ম, ভাষাগত বৈচিত্র্যতার পাশাপাশি প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যেও এই দেশ পরিপূর্ণ। জলবায়ু মৃত্তিকা, স্বাভাবিক উদ্ভিদ সব কিছুতেই এই বৈচিত্র্যতা ব্যাপকতা লাভ করেছে। আগের পর্বে আমরা মৌসুমী বায়ু ও ভারতের ঋতু বৈচিত্র্য সম্পর্কে আলোচনা করেছি।আজকের পর্বে আমরা ভারতের মৃত্তিকা ও তার শ্রেণিবিভাগ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব।

মৃত্তিকা বা মাটি হল প্রাকৃতিক ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্র গঠনের মৌলিক সম্পদ। মাটি স্থলজ উদ্ভিদের বাসভূমি হিসেবেও পরিচিত।

মাটি বলতে বোঝায় ভূত্বকের উপর অবস্থিত ও জৈব পদার্থে মিশ্রিত এক শিথিল স্তর যা উদ্ভিদের জন্ম ও বিকাশে সহায়তা করে থাকে।

ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (Indian council of agricultural research or ICAR) ১৯৫৩ সালে ভারতের মৃত্তিকাকে মাটির উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য, জৈব ও খনিজ পদার্থের উপস্থিতি, গঠন, রং, জল ধারণ ক্ষমতা, জলবায়ুর পার্থক্যের ভিত্তিতে প্রধান আটটি ভাগে ও ২৬ টি উপবিভাগে ভাগ করেছে।

সেগুলি হল-
১) পলিমাটি,
২) কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা কালো মাটি
৩) লাল মাটি বা লোহিত মৃত্তিকা
৪) ল্যাটেরাইট মাটি
৫) মরু মৃত্তিকা
৬) পার্বত্য মৃত্তিকা
৭) লবণাক্ত ক্ষারীয় মৃত্তিকা
৮) জলাভূমির মাটি

[মানচিত্রে অতিরিক্ত কিছু বিভাগ ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে দেওয়া হলেও, পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আমরা শুধু ছটি বিভাগ সম্পর্কেই নিচে আলোচনা করলাম]

1. পলিমাটি

অবস্থান
ভারতের উত্তর অংশে সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি অঞ্চল এবং পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল বিশেষত মহানদী ,গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর মোহনায় এই মাটি দেখা যায়। উঃ পূঃ ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে যেমন পাঞ্জাব,উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ,বিহার, হরিয়ানা, দিল্লি ,গুজরাট, ত্রিপুরা, রাজ্যে এই মাটি দেখা যায়।ভারতের সবথেকে বেশি স্থান জুড়ে প্রায় 15 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার (প্রায় 46%) অঞ্চল এই মাটি দ্বারা গঠিত।

উৎপত্তি

ভারতের উত্তর অংশে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের পাদদেশে সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীসমূহ দ্বারা পাললিক শিলা ক্ষয়ের ফলে উৎপন্ন পলি নদী অববাহিকায় সঞ্চিত হয়ে পলিমাটির সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলে মালভূমির কঠিন শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে পলি সৃষ্টি হয় তার বিস্তার লাভের ফলেও পলিমাটি তৈরি হয়। তবে উপকূলীয় মাটি উত্তরের সমভূমি অপেক্ষা অধিক কর্কশ।

উপাদান
পলিমাটির মূল উপাদানগুলি হল পলি, বালি, কাদা ও খনিজ কণা।

শ্রেণীবিভাগ
পলিমাটিকে ভূ-তত্ত্বগত দিক দিয়ে দুইভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন- ১) খাদার (নবীন) ২) ভাঙ্গড় (প্রাচীন)।
নদী নিকটবর্তী নবীন পলিমাটিকে খাদার বলা হয়। এই মাটি খুবই উর্বর এবং নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠার দরুণ প্রতি বছর প্লাবনের ফলে এই মাটির স্তরগুলির নবীকরণ ঘটে। নদী থেকে দূরবর্তী স্থানে প্রাচীন পলিমাটিকে ভাঙ্গর বলা হয়। গুজরাটে এই মাটির স্থানীয় নাম গোরাট। প্রবীণ হওয়ার কারণে এই মাটি অপেক্ষাকৃত কম উর্বর।

উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে হিমালয় পর্বতের পাদদেশে নদী দ্বারা বাহিত পলি, বালি, কাঁকর ও নুড়ি পাথর দ্বারা সৃষ্ট মাটিকে স্থানীয় ভাষায় ভাবর বলা হয়। উচ্চ গঙ্গা সমভূমির জলাভূমির মাটিকে ধাঙ্কর বলা হয়।

আবার খাদার বা নবীন পলিমাটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়।

ক) দোআঁশ মাটি
এই মাটিতে বালি, পলি ও কাদা সমপরিমাণে থাকে। তাই এই মাটি কৃষি কাজের ক্ষেত্রে আদর্শ। ধান, গম, সরিষা এই দোআঁশ মাটিতে চাষ হয়ে থাকে। পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে এই মাটি দেখা যায়।

খ) এঁটেল মাটি
এই মাটিতে কাদার ভাগ অধিক হওয়ায় এই মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বেশি। অত্যন্ত উর্বর প্রকৃতির। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ এবং পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ভাগে এই মাটি দেখা যায়। জল ধারণ ক্ষমতা বেশি হওয়ার কারণে ধান ও পাট চাষের পক্ষে এই মাটি খুব উপযোগী।

গ) বেলে মাটি
এই মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি তাই এর জল ধারণ ক্ষমতা অনেক কম। এই মাটির উর্বরতা কম। এই মাটিতে আলু, শসা, তরমুজ, ইত্যাদি চাষ ভালো হয়। গাঙ্গেয় সমভূমির পশ্চিম দিকে এই মাটি দেখা যায়।

পলি মাটির বৈশিষ্ট্য
○ পলিমাটিতে বালির তুলনায় কাদার ভাগ বেশি থাকে।
○ এই মাটিতে পটাশিয়াম, ফসফরাস খনিজ ও হিউমাসের পরিমাণ বেশি কিন্তু জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেনের উপস্থিতি কম।
○ এই মাটির pH স্তর 6.5 থেকে 8.4।তাই এই মাটি কিছু ক্ষেত্রে হালকা আম্লিক আবার কখনো কখনো হালকা ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়।
○ পলি মাটির রং ধূসর হয় এবং গভীরতা সর্বত্র সমান হয় না।
○ এই মাটির জল ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় এটি অত্যন্ত উর্বর প্রকৃতির।

উৎপাদিত শস্য

এই মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এই মাটি কৃষিকাজের অত্যন্ত উপযোগী। ধান, পাট, গম ,আলু ,শাক, সবজি খুব ভালো চাষ হয়।

2. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা কালো মাটি

● অবস্থান- দাক্ষিণাত্য মালভূমির প্রায় অর্ধেক অংশই কৃষ্ণ মৃত্তিকা দ্বারা গঠিত। ভারতের প্রায় 5.46 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ প্রায় 17% স্থান জুড়ে এই মাটি দেখা যায়। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাংশ, কর্নাটকের উত্তরাংশ, তামিলনাড়ুর উত্তরাংশ, গুজরাটের দঃ পূর্বাংশ, রাজস্থানের দক্ষিণাংশ ও তেলেঙ্গানা রাজ্যে এই মাটি দেখা যায়। এই মাটিকে স্থানীয় ভাষায় রেগুর মাটি বলা হয়।

উৎপত্তি
স্বল্প বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে (50 থেকে 60 সেন্টিমিটার) প্রধানত ব্যাসল্ট জাতীয় ক্ষারকীয় আগ্নেয় শিলার থেকে এই মাটির সৃষ্টি হয়।

উপাদান
এই মাটির প্রধান উপাদান হলো কাদা। কেওলিনাইট ও মন্টমরিলোনাইট প্রকৃতির কর্দম কণা এই মাটির প্রধান উপাদান। এই মাটিতে বালির পরিমাণ কম থাকে।

বৈশিষ্ট্য
● এই মাটিতে টাইটেনিয়াম অক্সাইডের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই মাটির রঙ কালো।
● এই মাটির মোটামুটি সূক্ষ্ম গ্রথনের হয়ে থাকে।
● এই মাটিতে বালির পরিমাণ খুবই কম থাকে এবং কাদার ভাগ (৫০- ৭৫%) বেশি থাকায় এই মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বেশি হয়।
এই মাটি প্রধানত মন্টমরিলোনাইট, নাইট্রোজেন ,ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম খনিজ সমৃদ্ধ হয়। তবে পটাশ, ফসফেট, নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম। এই মাটি অত্যন্ত উর্বর।

উৎপাদিত শস্য

কার্পাস এই মাটিতে সব থেকে বেশি ভালো জন্মায় তাই এই মৃত্তিকার নাম ‘কৃষ্ণ কার্পাস মৃত্তিকা’। এছাড়া ভুট্টা , মিলেট, তামাক, আখ, তৈলবীজ, ডাল, পিঁয়াজ, আঙ্গুর চাষ হয়।


দশম শ্রেণির অন্য বিভাগগুলিগণিত | জীবন বিজ্ঞান | ভৌতবিজ্ঞান

3. লোহিত মৃত্তিকা বা লাল মাটি

অবস্থান

এই মাটি ভারতবর্ষের প্রায় 3.5 বর্গকিমি অঞ্চল বা 11% অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করছে। মহারাষ্ট্র ও উড়িষ্যার দক্ষিণ-পূর্বাংশ, ঝাড়খন্ড, অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্বাংশ, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম জেলা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামের দক্ষিণাংশ, মেঘালয় মালভূমিতে এই মাটি দেখা যায়।

উৎপত্তি
এই মাটি অত্যন্ত উষ্ণতা ও আর্দ্রতা যুক্ত অঞ্চলে প্রাচীন গ্রানাইট ও নিস শিলা ভেঙে বিয়োজিত হয়ে এই মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়েছে।

উপাদান
এই মাটিতে বালি ও কেওলিনাইট কাদার পরিমাণ বেশি থাকে।

বৈশিষ্ট্য

এই মাটিতে লৌহের পরিমাণ বেশি থাকায় এই রং লাল হয়। এই মাটিতে বালি ও পলির ভাগ সমান থাকে ফলে এই মাটি বেলে, দোআঁশ প্রকৃতির হয়ে থাকে।
● এই মাটি মাঝারি থেকে সূক্ষ্ম দানাযুক্ত হয়।
● এই মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কম হয়।
● উৎপাদিত শস্য: এই মাটি অত্যন্ত অনুর্বর তাও বর্তমানে জলসেচের দ্বারা মিলেট বাদাম, ভুট্টা প্রভৃতি সামান্য পরিমাণে চাষ হয়।

4. ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা

অবস্থান
হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল, পূর্বঘাট পার্বত্য অঞ্চল, অন্ধ্রপ্রদেশ ,ঝাড়খন্ড, তামিলনাড়ু, পশ্চিমঘাট পর্বত ও মেঘালয় মালভূমির কিছু অংশে এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশে এই মাটি দেখা যায়। ভারতের প্রায় 2.5 লক্ষ বর্গ কিমি বা 8% স্থান জুড়ে এই মাটি অবস্থান করে।

উৎপত্তি
ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে উষ্ণ আদ্র জলবায়ু অঞ্চলে সৃষ্টি হয়। এই মাটি প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে প্রাচীন শিলার আবহবিকার এর ফলে উৎপন্ন হয়। প্রাচীন শিলাস্তর থেকে সিলিকা ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ বেড়িয়ে আসার পর পড়ে থাকে লোহা অ্যালুমিনিয়ামের বিভিন্ন অক্সাইড যৌগ।এরাই একত্রিত হয়ে এই মৃত্তিকার সৃষ্টি করেছে।

উপাদান
এই মাটিতে অধিক পরিমাণে অক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড থাকে এবং জৈব পদার্থ ও সিলিকার পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে। এই মাটির কাদার কণাগুলি কেওলিনাইট শ্রেণীর হয়।

বৈশিষ্ট্য

● এই মাটির রং লাল বাদামী, বাদামী বা হলদে বাদামি হয়ে থাকে।
● এতে চুন, পটাশ, ফসফরাস ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম থাকায় এই মাটি অনুর্বর হয়ে থাকে।
● এই মাটিতে লোহা, ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড, বক্সাইট ও কোয়ার্টজ এর উপস্থিতি দেখা যায়।
● এই মাটি আম্লিক প্রকৃতির হয়ে থাকে এর pH এর মান 5.5 এর কম হয়।

উৎপাদিত শস্য স্বাভাবিকভাবে এই মাটি অনুর্বর হওয়ায় জলসেচ ও সার প্রয়োগের মাধ্যমে এই মাটিতে চা-কফি, রাবার, বাদাম প্রভৃতির চাষ করা হয়।

5. মরু মৃত্তিকা

অবস্থান
আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিমে, রাজস্থান মরুভূমি এবং এর সংলগ্ন রাজ্য হরিয়ানা, গুজরাট, পাঞ্জাবে এই মাটির অবস্থান দেখা যায়। ভারতের প্রায় 1.42 বর্গকিলোমিটার বা 4.32% স্থান জুড়ে এই মৃত্তিকার অবস্থান পরিলক্ষিত হয়।

উৎপত্তি
এই মাটি কম বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে (25 সেন্টিমিটার) যান্ত্রিক আবহবিকারের দ্বারা সুদীর্ঘকাল ধরে বেলেপাথর সমন্বিত পাহাড়গুলি ক্ষয়ের ফলে সৃষ্টি হয়।

উপাদান
এই মাটির বেশিরভাগ অংশ বালি দ্বারা গঠিত। এই মাটিতে জৈব পদার্থের উপস্থিতি থাকে না বললেই চলে।

বৈশিষ্ট্য
● এই মাটির রং ধূসর বাদামি হলুদ হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে।
● এই মাটিতে লবণ অর্থাৎ ক্যালসিয়াম কার্বনেট এর পরিমাণ খুব বেশি। এই মাটি অত্যন্ত ক্ষারকীয় এর pH এর মান 7.9 -9.2 হয়ে থাকে।
● এই মাটি অত্যন্ত অনুর্বর হয়। এই মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুব কম থাকায় জল ধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম।

উৎপাদিত শস্য

ফসফেট ও নাইট্রেট থাকার ফলে এই মাটি জল সেচের মাধ্যমে উর্বর করা হয়। এই মাটিতে গম, যব, মিলেট, তৈলবীজ, ভুট্টা ইত্যাদি চাষ করা হয়।

6. পার্বত্য মৃত্তিকা

অবস্থান

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল, দক্ষিণে নীলগিরি, পশ্চিমঘাট পর্বতের অরণ্যভূমি অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়। ভারতের প্রায় 2.85 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার বা 8.70% স্থানজুড়ে পার্বত্য রাজ্যগুলিতে এই মাটি দেখা যায়।

উৎপত্তি

পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ পচে গিয়ে হিউমাস মাটিতে মিশে এই মাটির সৃষ্টি করে।


দশম শ্রেণির অন্য বিভাগগুলি – বাংলা | English | ইতিহাস | ভূগোল

উপাদান

এই মাটিতে কাদার পরিমাণ বেশি থাকে এবং হিউমাসের উপস্থিতির কারণে এতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে।

বৈশিষ্ট্য

● এই মাটির রং ধূসর, ছাই ও কালো রঙের হয়ে থাকে।
● এই মাটির গ্রথন বেলে-দোআঁশ প্রকৃতির ও বড় দানা যুক্ত হয়।
● এই মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকলেও পটাশ ও ফসফরাসের পরিমাণ কম থাকে।
● এই মাটি অম্লধর্মী হয়ে থাকে এর pH এর মান 5- 6.5।

উৎপাদিত শস্য
এই মাটিতে চা, কফি, মশলা ইত্যাদি ভালো চাষ হয়।

পর্ব সমাপ্ত। পরবর্তী পর্ব → ভারতের মৃত্তিকা ক্ষয়


এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


লেখিকা পরিচিতি

প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রাক্তনী শ্রেয়সী বিশ্বাস। পড়াশোনা এবং লেখালিখির পাশাপাশি, ছবি আঁকা এবং বাগান পরিচর্যাতেও শ্রেয়সী সমান উৎসাহী।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



JumpMagazine.in এর নিয়মিত আপডেট পাবার জন্য –

X-geo-5-a-12