aye-aro-bedhe-bedhe-thaki
Madhyamik

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

বাংলা দশম শ্রেনি – আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি (পদ্য)


কবি পরিচিতি

বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রখ্যাত কবি ‘চিত্তপ্রিয় ঘোষ’ আমাদের কাছে শঙ্খ ঘোষ নামে বহুল পরিচিত। কর্মজীবনে তিনি বঙ্গবাসী কলেজ, সিটি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন। তার সুদীর্ঘ সাহিত্য জীবনে তিনি অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। ‘এখন সময় নয়’, ‘আদিম লতা গুল্মময়’, ‘মূর্খ বড়ো সামাজিক নয়’, ‘বাবরের প্রার্থনা’ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও প্রবন্ধ – গদ্যে তাঁর সাবলীল বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। সাহিত্যে অসামান্য ছাপের জন্য তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, এদের মধ্যে ‘পদ্মভূষণ’, ‘সরস্বতী পুরস্কার’, ‘সাহিত্য আকাডেমী’ পুরস্কার এবং ভারত সরকারের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরষ্কার ‘জ্ঞানপীঠ’ বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য।

JUMP whats-app subscrition

কবিতার উৎস

আলোচ্য ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটির সারাংশ

মানব সভ্যতা গড়ে ওঠার সাথে সাথে জন্ম নিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। সেই প্রাচীন কাল থেকে মানব সভ্যতাকে বার বার ধ্বংসের মুখে নিয়ে এসেছে এই শক্তি।

কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী কারা?

যারা নিজেদের স্বার্থের অর্থাৎ সাম্রাজ্যবৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রেখে একে একে সভ্যতাকে গ্রাস করে তারাই সাম্রাজ্যবাদী। সাম্রাজ্যবাদী গ্রাস কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আমরা ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখতে পাবো এই ঘটনা ঘটছে দীর্ঘকাল ধরে। প্রাচীন ইনকা সভ্যতার উপর স্প্যানিশদের আক্রমণ, ভারতবর্ষের উপর শক্‌, হুন, মুঘল বা ব্রিটিশদের আক্রমণ -এইগুলি কয়েকটি উদারহণ মাত্র। হাজার – হাজার বছর ধরে এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবং আজও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।

একটা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যখন আক্রমণ করে, তখন কাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়?

সবচয়ে বেশি ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের, তারা লুন্ঠিত হয়, ধ্বংস হয়, সভ্যতা লাঞ্চিত হয়, কৃষ্টি- সংস্কৃতি দলিত হয়। কবির ভাষায় ‘আমরা’ হল সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের সর্বত্র বিপদ, ডান পাশে ‘ধ্বস’, বাম পাশে ‘গিরিখাদ’, মাথায় উপর ‘বোমারু বিমান’ আর পায়ে ‘হিমানী’ অর্থাৎ বরফের বাধ। অর্থাৎ ‘আমাদের’ আর কোথাও যাবার জায়গা নেই।

কিন্তু এর থেকে মুক্তির উপায় বা কবির ভাষায় ‘পথ’ কি আছে?

এর উত্তর কবি দিয়েছেন, ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি…’ কথার মধ্যে দিয়ে। ‘বেঁধে’ থাকার অর্থ সঙ্ঘবদ্ধ থাকা।

কিন্তু ‘বেঁধে – বেঁধে’ থাকলে কি হবে?

‘আমরা’ আজ বেঁচে আছি ধ্বংসের মাঝে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা ‘শিশুরা’ ক্রমশ ‘শবে’ বা মৃতদেহে পরিণত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কোন ইতিহাস হয় না, কারণ ‘চোখ – মুখ’ ঢাকা ইতিহাস শুধুমাত্র ‘রাষ্ট্রনায়ক’ দের জন্য রক্ষিত। সাধারণ মানুষের বাঁচা মরার হিসাব সে ইতিহাস রাখে না। তাই আমাদের কিন্তু হারাবার আর কিছুই নেই, আমরা হয় মরে যাবো বা দল বাঁধবো।

কিন্তু আমাদের মধ্যেও কিছু মানুষ আছেন যারা মনুষ্যত্ব, একতা ও সম্প্রীতির কথা বলেন। তাই আমরা যারা ‘কজন বাকি আছি’ তারা দল বেঁধে ‘হাতে হাত রেখে’ সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ভবিষ্যতের পথ খুঁজবো।

কবিতার সরলার্থ

aye-aro-bendhe-bendhe-thaki

“আমাদের পথ নেই কোনো …”

আমরা অর্থাৎ ‘সাধারণ মানুষ’ এক অদ্ভুৎ ধ্বংসের মাঝে বাস করছি। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির গ্রাস, ধার্মিক ও সামাজিক অস্থিরতা ইত্যাদির মধ্যে ক্রমশ অস্তিত্ব হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আজকের সময়ে এই অস্থিরতাকে অগ্রাহ্য করে চোখ বুঝে বসে থাকা সম্ভব নয়। তাই আমাদের সামনে এই ধ্বংসের তাণ্ডব অগ্রাহ্য করার আজ আর কোন ‘পথ’ খোলা নেই।


দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ক লেখাগুলি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

“আমাদের শিশুদের শব / ছাড়ানো রয়েছে কাছে দূরে…”

‘শিশু’ অর্থে এখানে ভবিষ্যতকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমরা জানি সাধারণ মানুষেরা তাদের ভবিষ্যতের ছাপ রেখে যায় তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য দিয়ে। কিন্তু আজকের এই ধ্বংসের দাবানলে সেই ভবিষ্যতও অন্ধকার, তাদের ভবিষ্যত সম্ভবনা আজ মৃতপ্রায় (শব) হয়ে ছড়িয়ে আছে আমাদের অর্থাৎ বর্তমান সভ্যতার সামনে ।

aye-aro-bendhe-bendhe-thaki-2

“আমদের ইতিহাস নেই…”

সেই সাধারণ মানুষেরা যারা সর্বদা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সামনে শোষিত হয়, যাদের কৃষ্টি – সংস্কৃতি নষ্ট হয়, ইতিহাসের পাতায় তাদের কথা লেখা হয় না। ইতিহাস তৈরি হয় রাষ্ট্রনায়কদের নিয়ে, সাধারণ মানুষ সেখানে বঞ্চিত। তাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষেরা নিজেদের অস্তিত্ব ভুলে, চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাস মেনে নিতে বাধ্য হয়। তাই তাদের কোন ইতিহাস থাকে না।


আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করার অনুরোধ রইল! 🙂


“আমরা ভিখারি বারো মাস…”

ভিখারির কিছু সঞ্চয় থাকে না, ভিক্ষাবৃত্তি করে তার যা জোটে তা দিয়েই সে গ্রাসাচ্ছাদন করে, জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকে। কবি ‘আমরা’ অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে ‘ভিখারির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন আর ‘বারো মাস’ কথাটি সবসময় বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, সাম্রাজ্যবাদী ও ধ্বংসাত্মক উগ্র শক্তির সামনে আক্রান্ত হতে হতে আমদের ‘সঞ্চয়’ অর্থাৎ ‘অতীতের গর্বের  কথা’ লুণ্ঠিত হয়। আর তার পরিবর্তে আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় পরিবর্তিত নিয়ম – পট পরিবর্তন হয় কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয় না। ‘আমরা’ সেই নতুন সময়কেই সর্বদা ‘ভিখারির’ মত মেনে নিই, তা দিয়েই বেঁচে থাকার চেষ্টা করি।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply