siraj-class-10-3
Madhyamik

সিরাজদ্দৌল্লা – তৃতীয় পর্ব

বাংলা দশম শ্রেনি – সিরাজদ্দৌল্লা (নাটাংশ্য) – তৃতীয় পর্ব


দশম শ্রেণির পাঠ্য ‘সিরাজদ্দৌল্লা নাটাংশ্যটি তিনটি পর্বে আলোচিত হবে। এই লেখাটি তৃতীয় পর্ব। এই পর্বে উক্ত নাটাংশ্যটির সভাসদদের দরবার প্রস্থান থেকে যবনিকা পতন অবধি আলোচিত হয়েছে।

প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব পড়ুন।

প্রধান চরিত্রগুলির পরিচয়

লুৎফুন্নেসা

সিরাজের সহধর্মিণী ছিলেন লুৎফুন্নেসা। তিনি সিরাজের পক্ষ ত্যাগ করেননি। সিরাজের মৃত্যুর পরে লর্ড ক্লাইভের বদান্যতায় লুৎফুন্নেসার জীবন বেঁচে যায়।

ঘসিটি বেগম

সিরাজের দাদু নবাব আলীবর্দী খান-এর জ্যেষ্ঠা কন্যা ছিলেন ঘসেটি বেগম বা মেহেরুন্নেসা। আত্মীয়তার অর্থে তিনি ছিলেন সিরাজের মাসি। নবাব আলীবর্দী সিরাজকে তাঁর উত্তরাধিকারী ঘোষণা করলে, ঘসেটি বেগম তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। উল্লেখ্য ঘসেটি বেগম ঢাকার নায়েব (শাসক)মুহম্মদ শাহমাত জং-এর সাথে বিবাহ সুত্রে আবন্ধ হেয়েছিলেন। তাঁদের পালক পুত্র ও নায়েব শাহমাত জং-এর মৃত্যুর পরে ঘসেটি বেগম বিপুল অর্থের অধিকারিণী হন। তিনি মতিঝিল প্রাসাদে বাস করতেন।

Meherunnesa Begum
ঘসেটি বেগম [চিত্র সৌজন্য – daily-bangladesh.com]
সিরাজ নবাবী লাভ করলে, ঘসেটি সিরাজের পরিবর্তে সিরাজের ভাই শওকত জঙ্গ-কে (যিনি বিহারের শাসক ছিলেন) সিংহাসনে বসাবার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সিরাজ শওকতকে হত্যা করে পূর্ণিয়া নিজের অধিকারে আনেন। এর কিছু পরে সিরাজ ঘসেটি বেগমকে মতিঝিল প্রাসাদ থেকে সরিয়ে নিজের প্রাসাদে নজরবন্দী করে রাখেন। ঢাকার বিত্তশালী রাজা রাজবল্লভ ছিলেন ঘসেটি বেগমের প্রিয়পাত্র।

বিষয় সংক্ষেপ

[এই পর্বে নাট্যাংশের সভাসদদের প্রস্থান এবং সভাসদদের প্রস্থান অবধি আলোচনা করা হয়েছে]

দ্বিতীয় পর্বে আমরা সিরাজ ও তাঁর আমত্য ও সেনাপতিদের কথোপকথন পড়েছি। আমরা জেনেছি যে বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে, কারণ এক ভয়ংকর যুদ্ধের সম্মুখীন হতে চলেছে বাংলা। ইংরেজরা নবাবের রাজধানী অভিমুখে তাদের সেনাবাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে, এই অবস্থায় সিরাজ তাঁর সেনাবাহিনীর প্রধান ও আমত্যদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই ভয়ংকর যুদ্ধ প্রতিহত করার আবেদন জানান। সিরাজের পরামর্শ মতো সাবাই তাঁর দরবার ছেড়ে, যুদ্ধক্ষেত্রের (পলাশী) দিকে রওনা দেন।

সভায় পড়ে থাকেন সিরাজ ও তাঁর পার্শ্ব-সহচর গোলাম হোসেন। উৎকণ্ঠিত সিরাজ ও গোলাম হোসেনের কথোপকথনের সময় দরবারে প্রবেশ করেন ঘসেটি বেগম। প্রসঙ্গত, সিরাজের মাসি ঘসেটি বেগম সিরাজের শুভানুধ্যায়ী ছিলেন না। প্রতিহিংসাপরায়ন এই মহিলা মনে প্রাণে সিরাজের পতন চাইতেন। নবাব  ঘসেটি বেগমের চক্রান্তের কথা মাথায় রেখে, ঘসেটি বেগমকে তাঁর ঢাকার মতিঝিল প্রাসাদ থেকে মুর্শিদাবাদে নিজের কাছে নজর বন্দী করে রেখেছিলেন।

JUMP whats-app subscrition

দরবারে প্রবেশ করে ঘসেটি বেগম লক্ষ্য করেন যে সিরাজ কোন কারণে প্রবল উদ্বেগের মধ্যে আছেন।

এর সুযোগ নিয়েই তিনি সিরাজকে নানান তিক্ত কথায় আঘাত করতে শুরু করেন। ঘসেটি সিরাজকে বার-বার  মনে করিয়ে দিতে থাকেন যে সিরাজ, ঘসেটি বেগমকে অন্যায়ভাবে মুর্শিদাবাদের প্রাসাদে বন্দী করে রেখেছে এবং তাঁকে মতিঝিল প্রাসাদে যেতে দিচ্ছেন না।

শুধু তাই নয়, ঘসেটি বেগম সিরাজকে বলেন যে সিরাজ অন্যায় ভাবে নবাবের সিংহাসনে বসেছেন। সিরাজ এর উত্তরে তাঁর মাসিকে আশ্বস্ত করেন যে ঘসেটির প্রিয় মতিঝিল প্রাসাদ ঘসেটিরই আছে শুধু মাত্র রাজনৈতিক বিধিনিষেধের জন্য ঘসেটি মতিঝিলে যেতে পারছেন না। এছাড়া সিরাজ এও বলেন যে ঘসেটি বেগমকে তিনি কোন রকম অসম্মান করছেন না তবুও ঘসেটি বেগম কেন সিরাজকে অকারণে ‘তিরস্কার’ করছেন?

কিন্তু সিরাজের কোন প্রকার আশ্বাসনেও ঘসেটিকে শান্ত হতে দেখা যায় না। বরং তিনি বারবার সিরাজের সামনেই, সিরাজের পতন কামনা করতে থাকেন। স্বামীর মৃত্যু কামনার কথা শুনে সিরাজের পত্নী লুৎফুন্নেসা বা লুৎফা এগিয়ে আসেন। লুৎফা ঘসেটি বেগমকে তিরস্কার করতে মানা করলেও, ঘসেটি বেগম লুৎফাকেও কথার বানে আক্রমণ করেন।

উৎকণ্ঠিত সিরাজ এর পরে কিছুটা হুমকির সুরেই ঘসেটি বেগমকে কারাগার রুদ্ধ করার ভয় দেখান এবং এও জানান ক্রমাগত ঘরে ও বাইরে আক্রমণের কারণে তিনি আজ পরিশ্রান্ত। তিনি চাইলেই সবাইকে নাশ করতে পারেন, সহজেই সবাইকে বন্দী করতে পারেন তাঁর ক্ষমতাবলে, কিন্তু শুধুমাত্র কঠিন হতে পারেন না বলেই সকলের কাছে ‘তাঁকে অপরাধীর মতো করজোড়ে’ থাকতে হয়।

কোন প্রকার আস্ফালনেই ঘসেটি বেগমের প্রতিহিংসার আগুন শান্ত হয় না। তিনি নবাবকে বারংবার অভিসম্পাত করে দরবার থেকে বিদায় নেন।

এরপর আমরা লুৎফা ও নবাবের মধ্যে কথোপকথন দেখতে পাই।

নবাব লুৎফাকে জানান যে তাঁর নবাবীর মাত্র পনেরো মাসেই তাঁর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর ফলে তিনি না পারেন কাউকে ভালবাসতে আবার না পারেন কাউকে শ্রদ্ধা করতে। শুধু তাই নয়, এই পনেরো মাসে যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র দমন ইত্যাদিতেই তাঁর সময় অতিবাহিত হয়েছে। আজ তিনি শেষ যুদ্ধের সামনে উপস্থিত।

ইংরেজদের সাথে আগত যুদ্ধের ব্যাপারে লুৎফা অবগত ছিলেন না। সিরাজ তাঁকে এই যুদ্ধের কথা বুঝিয়ে বলেন যে এটাই হয়তো তাঁর শেষ যুদ্ধ, এই যুদ্ধে সিরাজ জিতলে হয়তো আর যুদ্ধ হবে না আর যুদ্ধে পরাজয় হলে এটা অবশ্যই তাঁর শেষ যুদ্ধ হবে।

সবশেষে নবাব আসন্ন যুদ্ধের প্রাঙ্গণ পলাশীকে রাক্ষসীর সাথে তুলনা করে দরবার ত্যাগ করেন।

পলাশী নামের উৎস হল পলাশ ফুলের প্রাঙ্গণ। আমরা জানি যে পলাশ ফুলের রঙ লাল, পলাশ ফুল গাছ থেকে পড়ে যখন মাটিতে পড়ে থাকে তখন মনে হয় ঠিক যেন একটি লাল রঙের চাদর পড়ে আছে। আবার আমাদের রক্তের রঙও লাল, তাই সিরাজ পলাশীর বুকে রক্তের তৃষ্ণার কথা বলেছেন। লোককথা অনুযায়ী রাক্ষসীর প্রিয় পানীয় হল রক্ত, তাই সিরাজ পলাশীর প্রাঙ্গণকে রক্তপিপাসু রাক্ষসীর সাথে তুলনা করেছেন।

পলাশীর যুদ্ধ
পলাশীর যুদ্ধের কল্পিত চিত্র [চিত্র সৌজন্য – daily-bangladesh.com]
তৃতীয় পর্ব সমাপ্ত। পরবর্তী পর্ব পড়ুন → উপসংহার


অন্যান্য বিভাগগুলি পড়ুন

দশম শ্রেণি – ভৌতবিজ্ঞান

দশম শ্রেণি – বাংলা

দশম শ্রেণি – গণিত

দশম শ্রেণি – জীবনবিজ্ঞান


এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply