lintap-kake-bole
WB-Class-9

লীনতাপ (Latent Heat)

ভৌতবিজ্ঞাননবম শ্রেনি – অধ্যায়: তাপ (দ্বিতীয় পর্ব)


আমরা ‘তাপ’ অধ্যায়ের আগের পর্বে আপেক্ষিক তাপ ও ক্যালোরিমিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এই পর্বে আমরা লীনতাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

তবে লিনতাপ প্রসঙ্গে আসার আগে আমরা যে বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করব সেটা হল তাপ গ্রহণে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন।

আমরা জানি পদার্থের তিন অবস্থা, কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয়।

তাপ গ্রহণ করলে পদার্থের অনুগুলির গতিশক্তি বাড়ে ফলে আন্তরাণবিক দূরত্ব বৃদ্ধি পায় ফলে পদার্থ একসময় কঠিন থেকে তরল এবং ক্রমে গ্যাসে পরিণত হয়।

solid-liquid-gas-in-bengali

একই ভাবে পদার্থ থেকে তাপ নিষ্কাশন করলে তা গ্যাস থেকে তরল এবং কঠিনে পরিণত হয়। এখন, এই যে পদার্থগুলি এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয় তা সাধারণত একটি উষ্ণতাতেই সঙ্ঘটিত হয়। এই তাপমাত্রা গুলিকে গলনাঙ্ক বা হিমাঙ্ক, এবং স্ফুটনাঙ্ক হিসাবে অভিহিত করা হয়।

তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তনকে আমরা এখন লেখচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে চাই।

Heating_curve_in_bengali

একটা ব্যাপার এখানে লক্ষ্য করা প্রয়োজন, যে যদিও আমরা বললাম যে তাপমাত্রা বা উষ্ণতার সঙ্গে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনকে লেখচিত্র হিসাবে দেখাবো কিন্তু দেখালাম তাপমাত্রার সঙ্গে তাপের লেখচিত্র। এর কারণ আমরা আগেই জেনেছি, যে কোন পদার্থ তাপ গ্রহণ করার ফলেই তার উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং তাপ গ্রহণের ফলেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। তাই তাপ গ্রহণকে অবস্থার পরিবর্তনের সাপেক্ষে প্রকাশ করা যেতেই পারে।

এখন লেখচিত্রে দুটি স্থান বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা প্রয়োজন সেগুলো হল ‘AB’ ও ‘CD’। এই স্থান গুলিতে তাপ বাড়লেও উষ্ণতা বাড়ছে না। এবং AB বা CD উভয় অংশেরই প্রাথমিক স্থানে পদার্থের এক অবস্থা এবং অন্তিমে অন্য অবস্থা।

subscribe-jump-magazine-india

লীন তাপ কাকে বলে?

সুতরাং বলা যায় পদার্থের তাপমাত্রা বা উষ্ণতার কোন পরিবর্তন না ঘটিয়েও কেবল অবস্থার পরিবর্তনের জন্য পদার্থ কর্তৃক যে পরিমাণ তাপ গৃহীত বা বর্জিত হয় তাকেই ঐ পদার্থের লীন তাপ বলে।

লীন তাপের একক

লীনতাপের CGS একক ক্যালরি / গ্রাম ও SI একক জুল / কেজি।

এই প্রসঙ্গে জলের লীনতাপের পরিমাণ উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা হল।

জলের কঠিনীভবনের লীন তাপ 80 ক্যালোরি / গ্রাম অথবা বরফ গলনের লীন তাপ 80 ক্যালোরি/গ্রাম।

উক্ত কথাটির অর্থ হল 1 গ্রাম 0ºC উষ্ণতার জলকে বরফে পরিণত করতে 80 ক্যালোরি / তাপ নিষ্কাশন করতে হবে এবং উৎপন্ন বরফের উষ্ণতাও 0ºC ই হবে।

অথবা,

1 গ্রাম 0ºC উষ্ণতার বরফকে জলে পরিণত করতে 80 ক্যালোরি তাপ দিতে হবে এবং উৎপন্ন জলের উষ্ণতাও 0ºC ই হবে।

এই কারণে প্রশ্ন করা হয়, 0ºC উষ্ণতার কোন একটি বরফের স্ল্যাবে খানিকটা গর্ত খুঁড়ে জল ঢাললে সেই জল কি জমে বরফে পরিণত হবে?

এর উত্তর হল না।


JUMP ম্যাগাজিনের ফেসবুক পেজ লাইক করার আবেদন রইল!:)


আমরা ধরে নিতেই পারি, বরফের স্ল্যাবের উপর গর্ত করে যে জল ঢালা হচ্ছে তার উষ্ণতা 0ºC অপেক্ষা অনেক বেশি। ফলে বরফের স্ল্যাবে জল ঢাললে ঐ জল জল বরফের সংস্পর্শে থাকায় বরফকে তাপ দিয়ে দেবে। এর ফলে জলের উষ্ণতা কমতে থাকবে । এই ভাবে উষ্ণতা কমতে কমতে একসময় জল আর বরফ উভয়ের উষ্ণতা সমান হয়ে যাবে অর্থাৎ 0ºC হয়ে যাবে। এখন আমরা জানি যে, তাপমাত্রা যদি সমান হয়ে যায় তবে সংস্পর্শে থাকা বস্তু সমূহের মধ্যে আর তাপ প্রবাহ হবে না। তাই 0ºC উষ্ণতার জল থেকে আর তাপ নিষ্কাশিত না হতে পারায় তা আর বরফে পরিণত হতে পারে না।

একই ভাবে বলা যায়, জলের বাষ্পীভবনের বা জলীয় বাস্পের ঘনীভবনের লীনতাপ 40 ক্যালোরি / গ্রাম।

এর অর্থ হল প্রতি 1 গ্রাম 100ºC উষ্ণতার জলকে ফুটিয়ে 100ºC উষ্ণতার বাস্পে পরিণত করতে যে পরিমাণ তাপ প্রয়োজন তার পরিমাণ 540 ক্যালোরি।

এক্ষেত্রেও একটি প্রশ্ন মনে হতে পারে যে খুব গরম থাকা চা বা কফি খাওয়ার সময় আমরা কিছুক্ষণ ফুঁ দিয়ে খাই কেন? কিংবা কোনটির স্পর্শে ছ্যকা খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি ফুটন্ত জল না ফুটন্ত জল থেকে উত্থিত জলীয় বাস্প?

এক্ষেত্রেও দ্বিতীয় বা প্রথম প্রশ্ন উভয়ের উত্তর প্রায় এক হলেও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটা দেওয়া আগে হলেই ভালো হয়।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হল ফুটন্ত জল থেকে উত্থিত জলীয় বাস্পের সংস্পর্শে এলেই আমাদের ছ্যাঁকা খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ আমরা আগেই জেনেছি যে ফুটন্ত জল অপেক্ষা ফুটন্ত জল থেকে উত্থিত জলীয় বাস্পে গ্রাম প্রতি 540 ক্যালরি করে তাপ বেশি থাকে। ঠিক এই কারনের জন্যই আমরা যখন খুব গরম চা বা কফি খাই তখন ফুঁ দিয়ে তার উপরে থাকা অধিক তাপ বিশিষ্ট জলীয় বাষ্পকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করি যাতে ঠোঁট পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।


অন্যান্য বিভাগগুলি পড়ুন

দশম শ্রেণি – ভৌতবিজ্ঞান

দশম শ্রেণি – বাংলা

দশম শ্রেণি – গণিত

দশম শ্রেণি – জীবনবিজ্ঞান


এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Dr. Mrinal Seal
ডঃ মৃণাল শীল সাঁতরাগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘুরে বেড়াতে ও নানান ধরণের নতুন নতুন খাবার খেতেও পছন্দ করেন ডঃ শীল।

Leave a Reply