mint-sauce-worm-bengali-article copy
Article (প্রবন্ধ)

অদ্ভুৎ কিন্তু সত্যি



আমরা তো শুনেছি বা পড়েছি এমন সব সম্পর্কের কথা, যেখানে গাছের মধ্যে ছোট ছোট জীব-জন্তুরা থাকে।

কিন্তু যদি বলি জন্তুর মধ্যে গাছ, এ কথা শুনেছেন কি?

তাহলে আপনার উত্তর কি হবে?

আজ আমরা এমনই এক অদ্ভুত মিথোজীবী অর্থাৎ, ‘symbiotic’ সম্পর্কের কথা আলোচনা করবো।

এই জন্তুটির নাম, বিজ্ঞানসম্মত নাম Symsagittifera roscoffensis, আগে এর নাম ছিল, ,  সহজ ভাষায় বললে এদের চলতি নাম, ‘mint-sauce worm’ (মিন্ট সস, যা কিনা সবুজ রঙের হয়) এই কীট হল একটি ‘ফ্ল্যাটওয়ার্ম’ যা 3 মিলিমিটারের বেশী বাড়ে না। সামুদ্রিক এই কীটটির এমন অদ্ভুত নামকরণের কারণ হল তার উজ্জ্বল সবুজ রং।

mint-sauce worm

এবার, আসল মজাটা এখানেই লুকিয়ে আছে, এই কীটটির কিন্তু নিজের কোন রং নেই, এর আসল রং একদম স্বচ্ছ। তাহলে সবুজ রং এলো কোথা থেকে?

সবুজ রং আসে কীটটির মধ্যে থাকা শ্যাওলা থেকে। আশ্চর্যের বিষয় হল এই কীটের কোন অন্ত্র নেই, তাই এরা পরিপাক করতে পারে না। কিশোর অবস্থায় থাকার সময় কিছু শ্যাওলাকে এই কীট শোষণ করে, আর যেহেতু অন্ত্র নেই, তাই এই শ্যাওলাগুলি পরিপাক না হয়ে কীটের পেটের মধ্যে দিব্বি বেঁচে থাকে। শুধু তাই নয়, ঐ কীটের পেটের মধ্যে থেকেই শ্যাওলাগুলি সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরি করে আর কীটটি সালোকসংশ্লেষের উপজাতর থেকে বেঁচে থাকার রশদ জুগিয়ে নেয়।

JUMP whats-app subscrition

এরা দুজন হল হরি-হর আত্মা; এদের একে-অপরকে ছাড়া চলবে না। কীটটি হল শ্যাওলাগুলির নিরাপদ আশ্রয়, আর শ্যাওলাগুলি কীটটিকে খাবার পরিবেশক। এরা দুয়ে মিলে ,‘super organism’ তৈরি করে, যা সাধারণ সামুদ্রিক উদ্ভিদ যেমন ‘seaweed’ অন্যান্য উদ্ভিদের থেকে অনেক বেশী কার্যকরী হয়।

Seaweed
Seaweed অর্থাৎ সামুদ্রিক ঘাস

এই অদ্ভুদ কীটটিকে পাওয়া যায়, ‘Atlantic ocean’-এর নানা সৈকতে- ‘Coast of Wales’ ও ‘Channel Islands’ এর নানা স্থানে। ভাটার সময় এরা সৈকতের প‌ৃষ্ঠতলে থাকে, আর জোয়ারের সময় এরা বালির ভেতরে চলে যায়, ভেসে যাওয়ার ভয়ে। যতক্ষণ ভাটা থাকে, ততক্ষণ সূর্যের রশ্মি শ্যাওলার উপর পড়ে, ও এই সময়ের মধ্যেই সালোকসংশ্লেষের দ্বারা এরা প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরি করে নেয়।

mint-sauce worm in sea
সমুদ্র কিনারায় অদ্ভুৎ জীব ‘mint-sauce worm’

এই ‘mint-sauce worm’ –রা এমন একটি জীব যাকে এদের অদ্ভুদ চরিত্রের জন্য, ‘plant-animal kingdom’- দুটোতেই ফেলা হয়ে থাকে।

Symsagittifera_roscoffensis

এই লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের যে কোনো প্রশ্ন সরাসরি আমাদের করতে পারো ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Piyal Mukherjee
কলকাতার সাউথ পয়েন্ট ও হরিয়ানা বিদ্যামন্দির বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পিয়াল মুখার্জি বর্তমানে জীববিদ্যা নিয়ে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছে। জীববিদ্যার প্রতিটি বিষয়ে নতুন তথ্য আহরণ করার পাশাপাশি ছবি আঁকা, বই পড়া আর ঘুরে বেরানো পিয়ালের প্রিয় কাজ।

Leave a Reply