importance-of-marks
Editorial (সম্পাদকীয়)

ভালো রেজাল্ট বা খারাপ রেজাল্ট – গুরুত্ব কি?



সদ্য প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল।

এবার দুটি পরীক্ষাতেই পাশের হার উল্লেখযোগ্য রকমের ভালো। দুটি পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকই আশানুরূপ ফল করেছে আবার অনেকেই তাদের মনোমত ফল করতে পারেনি। আজকের এই বিশেষ সম্পাদকীয়তে আমরা এই দুই ধরণের ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে অল্প কথায় আলোচনা করবো।

যারা মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে আশানুরূপ ফল করেছ।

প্রথমত বলে রাখি ফলাফলের নিরিখে ভালো বা মন্দের কোন স্থান নেই; পুরোটাই আপেক্ষিক। তোমার কাছে 80% শতাংশ নম্বর খুব ভালো হতে পারে আবার কারুর কাছে 80% শতাংশ নম্বর মোটেও ভালো নয়। তাই আমরা ভালো মন্দের বদলে আশানুরূপ কথাটি ব্যাবহার করছি। এই ভাবনার একটা প্রতিফলন তুলে ধরছি, এই বছর ICSE পরীক্ষায় 98.4% নম্বর পাওয়া ছাত্রের অভিভাবক তার সন্তান সম্পর্কে বলছেন “ও যা খেটেছিল তাতে 99% পাওয়া উচিৎ ছিল”। অর্থাৎ 98.4% এর মতো নম্বর পাওয়া স্বত্ত্বেও কারুর কাছে সেটাও আশানুরূপ নয়।

পরীক্ষায় খুব ভালো নম্বর পেলে কি হবে?

হ্যাঁ বা না এর মধ্যে দিয়ে এর উত্তর খোঁজা সম্ভব নয়। পরীক্ষায় ভালো নম্বর নিজের মনোবল বৃদ্ধি করে, ভালো কলেজ বা স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে কাজে লাগে কিন্তু ভবিষ্যত কেরিয়ারে তেমন মারাত্মক কিছু লাভ হয় না। 

সারা ভারতে প্রায় এক কোটি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী দশম শ্রেণির পরীক্ষা এবং প্রায় 75 লাখ ছাত্রছাত্রী দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দেয়। এরা সবাই যখন আগামী দিনে কাজের জগতে বা ব্যবসার জগতে প্রবেশ করবে সেই সময় প্রতিটা ছাত্রছাত্রীকে নিজের জায়গা বুঝে নেবার জন্য নতুন করে লড়াই করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের দারুণ নম্বর তাকে অন্তত কাজের জগতে খুব একটা সাহায্য করবে না।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক এই বছর মাধ্যমিকে যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে তার ইচ্ছে পরবর্তী কালে সে ডাক্তার হবে। সুতরাং, মেডিক্যাল নিয়ে পড়ার জন্য তাকে উচ্চমাধ্যমিকের পরে সর্বভারতীয় পরীক্ষা NEET(UG) দিতে হবে। ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাবার জন্য তাকে কিন্তু এই NEET পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করতে হবে। তার মাধ্যমিকের প্রথম স্থান এই ব্যাপারে তাকে কোনরূপ সাহায্য করবে না। ডাক্তারির মতো অধিকাংশ সরকারী ও বেসরকারি পেশার ক্ষেত্রে সুযোগ পেতে গেলে প্রতিবার নতুন করে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়।

কয়েকটি পেশা অবশ্যই এর ব্যাতিক্রম, যেমন যারা আগামী দিনে শিক্ষকতাকে পেশা করার কথা ভাবছো,  তাদের জন্য পরীক্ষায় ভালো নম্বর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।

তাই তোমরা যারা ভালো ফলাফল করেছ তারা celebrate করো এবং দ্বিগুণ উৎসাহে পরবর্তী সুযোগের (উচ্চমাধ্যমিক / কলেজের পড়াশোনা) জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দাও।

JUMP whats-app subscrition

যারা মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে আশানুরূপ ফল করতে পারোনি।

তোমাদের বলবো তোমার জীবনের একটা পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, ব্যাস এইটুকুই। তোমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েনি। তাই মন খারাপ করে ‘আমার কিছু হবে না’ বা ‘আমি খারাপ স্টুডেন্ট’ এইরকম ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ একটা ভালো রেজাল্ট যেমন তোমার কেরিয়ার গড়তে পারে না ঠিক তেমনই একটা খারাপ পরীক্ষা তোমার কেরিয়ার শেষও করে দিতে পারে না।

এর উদাহরণ তোমারা খুব সহজেই পেতে পারো, তোমারা যদি তোমার চারপাশে ভালো ভাবে দেখ, তাহলে দেখবে সমাজে প্রচুর সফল মানুষ আছেন যারা প্রথমদিকে দুর্ধর্ষ রেজাল্ট না করেও কেরিয়ারে দারুণ সফল। তাই তোমরা পরীক্ষার ফলাফলের দুঃখে হতাশ না হয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হও, এবং সংকল্প করো যে আগামী দিনে যে সুযোগ গুলি আসবে তাতে নিজের সেরাটা দেবে।

  • যদি মাধ্যমিক খারাপ হয় তাহলে আপ্রাণ চেষ্টা করো উচ্চমাধ্যমিকে নিজের সেরাটা দেবার।
  • যার উচ্চ মাধ্যমিকে খারাপ ফল হয়েছে সে চেষ্টা করবে কলেজের সেমেস্টারে নিজের সেরাটা দেবার।

[আরো পড়ুন – উচ্চমাধ্যমিকে বিষয় নির্বাচন করবে কীভাবে?]

তাহলে কি ভালো রেজাল্ট করে কি কোন লাভ নেই?

অবশ্যই আছে, আমার মনে হয় জীবনের যেকোন পরীক্ষাকেই একটা সুযোগ হিসাবে দেখা উচিৎ এবং ঐ পরীক্ষার অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে তোমার সেরাটা দেওয়া উচিৎ। এরপর যা ফলাফল আসবে তা হাসিমুখে মেনে নিয়ে আগামী সুযোগের জন্য সমান আগ্রহে নেমে পড়া উচিৎ।

তাই ভালো রেজাল্ট হলে তার বাহবা তোমার অবশ্যই প্রাপ্য কিন্তু যার ভালো রেজাল্ট হয়নি তার সব শেষ হয়ে গেছে এই ভাবনা একেবারেই ঠিক নয়। একটা সফল কেরিয়ারের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সফলতা। একটা বা দুটো পরীক্ষা দিয়ে সফলতা বিচার করা যায় না।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply