amra-poem-bengali
WB-Class-9

আমরা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

বাংলানবম শ্রেনি – আমরা (পদ্য) – প্রথম পর্ব

কবি পরিচিতি

রবীন্দ্র-অনুসারী কবি হিসেবে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন অগ্রগণ্য। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি উত্তর ২৪ পরগণা জেলার নিমতা গ্রামে মামার বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রজনীনাথ দত্ত এবং মাতার নাম মহামায়া দেবী। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রবন্ধ লিখতেন যে অক্ষয়কুমার দত্ত তিনি কবির পিতামহ।


আমরা কবিতার আলোচনা দেখে নাও এই ভিডিও থেকে↓

১৮৯৯ সালে কলকাতার সেন্ট্রাল কলেজিয়েট স্কুল থেকে সত্যেন্দ্রনাথ এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করেন এবং ১৯০১ সালে জেনারেল এসেমব্লিজ ইন্সটিটিউশন অর্থাৎ এখনকার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে তিনি তৃতীয় বিভাগে এফ.এ পাশ করেন। বি.এ পড়াকালীন তাঁর বিবাহ হয়ে যায়, ফলে বি.এ পড়া তিনি শেষ করতে পারেননি। সুরেশচন্দ্র সমাজপতির ‘সাহিত্য’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হয় প্রথম এবং সেই থেকেই সাহিত্যসাধনায় নিয়োজিত হন কবি। সবিতা, বেণু ও বীণা, হোমশিখা, ফুলের ফসল, তীর্থরেণু, কুহু ও কেকা, মণিমঞ্জুষা ইত্যাদি তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। তাঁর লেখা ‘ধূপের ধোঁয়ায়’ নামক নাটকটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর অসমাপ্ত উপন্যাসগুলির মধ্যে বারোয়ারি, ডঙ্কানিশান অন্যতম। ‘নবকুমার কবিরত্ন’ ছিল তাঁর ছদ্মনাম। কিছু বিদেশি নাটকের বাংলা অনুবাদের পাশাপাশি তিনি ‘জন্মদুঃখী’ বলে একটি নরওয়েজিয়ান উপন্যাসের ভাষান্তরের কাজও করেছিলেন।

বাংলা সাহিত্যে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছন্দের জাদুকর হিসেবে স্বীকৃত। মূলত শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দের বৈচিত্র্য নির্মাণে সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন একমেবাদ্বিতীয়ম। ১৯২২ সালে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত মারা যান।


নবম শ্রেণির অন্য বিভাগগুলিগণিত | জীবন বিজ্ঞান | ভৌতবিজ্ঞান

আমরা কবিতার উৎস

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘কুহু ও কেকা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘আমরা’ কবিতাটি গৃহীত হয়েছে। এই কবিতাটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩১৮ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসে ‘বাণী’ পত্রিকায়।

আমরা কবিতার মূল বক্তব্য

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘আমরা’ কবিতায় বাঙালি জীবনের প্রশস্তি করেছেন। আটটি স্তবক জুড়ে বাঙালির ভৌগোলিক অবস্থান, গৌরবময় মাতৃভূমির ইতিহাস, অতীত-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি-শিল্প-বিজ্ঞানের ঔজ্জ্বল্য এবং সফল কীর্তিমান বাঙালিদের জয়গান গেয়েছেন। কবির বিশ্বাস এই খ্যাতি-সাফল্য-কীর্তি চিরপ্রবাহমান থাকবে এবং বিধাতার বরে বিশ্বভুবন জয় করবে বাঙালি, সমগ্র বিশ্বে বাঙালির গৌরবগাথা ছড়িয়ে পড়বে। বঙ্কিমচন্দ্র একবার বলেছিলেন ‘বাঙালি ইতিহাসবিস্মৃত জাতি’।


নবম শ্রেণির অন্য বিভাগগুলি – বাংলা | English | ইতিহাস | ভূগোল

তাই হয়তো বাঙালিকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলতে, জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসনে অভিষিক্ত করতে কবি হৃত ইতিহাস আবার টেনে আনেন। অতীশ দীপঙ্কর, বিজয়সিংহ, ধীমান ও বীটপাল, কপিলমুনি, জয়দেব থেকে শুরু করে আধুনিককালের জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, বিবেকানন্দ, মধ্যযুগীয় নিমাই প্রত্যেকেই বাঙালি মনীষার প্রচারক। আর এদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে কবি দেখাতে চেয়েছেন বাঙালি কোনোকালেই অবহেলিত ছিল না, দূর্ভিক্ষ-মড়কেও সে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। আদ্যন্ত সংগ্রামমুখর জীবনে বাঙালি জীবনের মূলমন্ত্র যেন ঐক্যবদ্ধতা – জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক অখণ্ড সংস্কৃতি রচনার দায় রয়েছে যেন বাঙালির।

আর তাই বাঙালির সর্বাঙ্গীণ আত্মকথনের মধ্য দিয়ে কবিতার নামকরণ ‘আমরা’ সার্থক হয়ে উঠেছে।

পরবর্তী পর্ব –  আমরা কবিতার ব্যাখ্যা

এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


লেখক পরিচিতিঃ

প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র সিমন রায়। সাহিত্যচর্চা ও লেখা-লিখির পাশাপাশি নাট্যচর্চাতেও সমান উৎসাহী সিমন।

JumpMagazine.in এর নিয়মিত আপডেট পাবার জন্য –

IX-Ben-Amra-1