abohobikar-khoyibhobon-nobom-sreni
WB-Class-9

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন

ভূগোলনবম শ্রেণি – ভারতের প্রাকৃতিক ভূগোল (প্রথম পর্ব)


এই পর্বে আমরা আবহবিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আবহবিকার বা weathering শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে আবহাওয়ার ইংরেজি প্রতিশব্দ weather থেকে।

আবহবিকার কাকে বলে?

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন উষ্ণতা ,আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত ইত্যাদির মাধ্যমে যখন ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থিত শিলাস্তরের যান্ত্রিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিয়োজন ঘটে এবং সেই বিয়োজিত পদার্থ ঐ স্থানেই অবস্থান করে তখন তাকে আবহবিকার বলা হয়।

বিখ্যাত ভূবিজ্ঞানী W. D. Thornbury এর মতে – ” Weathering may be defined as a disintegration or decomposition of rock in place… “


[আরো পড়ো – নবম শ্রেণি – বাংলা | নবম শ্রেণি – ইতিহাস | নবম শ্রেণি – ভূগোল]

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের পাশাপাশি উদ্ভিদ, প্রাণী, পশুপাখি এমনকি মানুষ আবহবিকার ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবহবিকারের মাধ্যমে শিলার ভাঙ্গন ঘটে বা শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয় কিন্তু এই চূর্ণ-বিচূর্ণ অংশগুলি সেই স্থান থেকে অপসারিত হয় না। সেই স্থানে অবস্থান করে এজন্য আবহবিকারকে একটি স্থৈতিক প্রক্রিয়া (Static process) বলা হয়।

ক্ষয়ীভবন কাকে বলে?

আবহবিকারের ফলে চূর্ণ-বিচূর্ণ শিলাখণ্ড বা বিয়োজনের ফলে উৎপন্ন পদার্থ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন নদী, বায়ু, জলধারার, হিমাবাহ ও সমুদ্র তরঙ্গ ইত্যাদি দ্বারা স্থানচ্যুত হয় এবং অন্যত্র সঞ্চিত হয়। সেই প্রক্রিয়াকেটিকে ক্ষয়ীভবন বলা হয়।
আবহবিকারজাত পদার্থ মূল স্থান থেকে অপসারিত হয় বলে এটি একটি অস্থানিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়।

আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনে প্রক্রিয়ার পার্থক্য

পুঞ্জিত ক্ষয় কাকে বলে?

ক্ষয়ীভবনের একটি প্রক্রিয়া হল পুঞ্জিত ক্ষয়। আবহবিকারজাত বড় বড় শিলাখণ্ড যখন অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে ভূমির ঢাল বরাবর অন্যস্থানে স্থানান্তরিত হয় এই প্রক্রিয়াকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলা হয়। পুঞ্জিত ক্ষয়ের শুধুমাত্র ঢাল যুক্ত ভূমির উপরে সংঘটিত হয় এবং এটি ধীর এবং দ্রুত দুই ভাবেই হতে পারে।

আবহবিকার, ক্ষয়ীভবন ও পুঞ্জিত ক্ষয় এই তিনটি প্রক্রিয়া কে একত্রে নগ্নীভবন বলা হয়।

আবহবিকার সংঘটিত হওয়ার পর চূর্ণ-বিচূর্ণ ও বিয়োজিত পদার্থগুলি পুঞ্জিত ক্ষয়ের দাঁড়া মূল স্থান থেকে অপসারিত ও হয় এর ফলে নিচের শিলাস্তর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে অর্থাৎ নিচের শিলাস্তরের উন্মোচন ঘটে।


[আরো পড়ুন – নবম শ্রেণি – ভৌত বিজ্ঞান | নবম শ্রেণি – জীবন বিজ্ঞান | নবম শ্রেণি – গণিত ]

নগ্ন কথাটির অর্থ হলো আবরনহীন অবস্থা। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে শিলার উপরের আবরণ অপসারিত হয় এবং নিচের শিলাস্তর দৃষ্টিগোচর হয় বলে এই প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলা হয়। নিচের স্তরের শিলা নগ্নীভবনের মাধ্যমে উন্মুক্ত হয়ে নতুনভাবে আবহবিকার প্রক্রিয়ার সংস্পর্শে আসে।

সুতরাং বলা যায় আবহবিকার + ক্ষয়ীভবন= নগ্নীভবন।

পর্ব সমাপ্ত। পরবর্তী পর্ব → যান্ত্রিক আবহবিকার


এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



JumpMagazine.in এর নিয়মিত আপডেট পাবার জন্য –

X-geo-5-a