vouto-rashir-prokarved
WB-Class-9

ভৌতরাশির প্রকারভেদ

ভৌত বিজ্ঞাননবম শ্রেণি – পরিমাপ


আমাদের আশেপাশের এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই সর্বদা কিছু না কিছু পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলছে। কেউ বাড়ছে, তো কারুর ক্ষয় হচ্ছে, কেউ পুরোনো হচ্ছে তো কেউ নিজেকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

আমরাও এই পরিবর্তনের বাইরে নই।

কিন্তু এই পরিবর্তন কতটা হচ্ছে, কেনই বা হচ্ছে, মহাবিশ্ব কোন কোন কার্য্যকলাপ করে চলেছে আমাদের চোখের সামনে বা অন্তরালে, বুঝতে গেলে পরিমাপের সাহায্য নিতে হয়। আমরা কোনো কিছুর কারণ সম্বন্ধে প্রথমে অনুমান করি, তারপর পরীক্ষা করে তার ফলাফল সংগ্রহ করে দেখি তা বাস্তবের সাথে মিললো কিনা; সবশেষে সেখান থেকে অনুমানকে যাচাই করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাই। এই পরীক্ষা সেই পরিবর্তনকে পর্য্যবেক্ষণেরই নামান্তরমাত্র। **এই পরীক্ষাকে পর্যবেক্ষণ বা আরেককথায় পরিবর্তনকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য সাহায্য নিতে হয় ভৌতরাশির। আর এই পরিবর্তনকে ভৌত পরিবর্তন বলা হয়।**

উদাহরণ হিসাবে ধরা যাক তিনটি ঘটনার কথা।

2020 সাল শেষ হয়ে, 2021 সাল শুরু হয়ে গেলো। তুমি আগের বছর যতটা লম্বা ছিলে এ বছর তার থেকে বেশি লম্বা হয়েছো। সকাল বেলা উঠে তুমি আগে এক গ্লাস জল খেতে এখন দু গ্লাস করে খাচ্ছ। বুঝতে পারছো এইখানে কি কি পরিবর্তনের উল্লেখ করা হয়েছে? যা তোমার উত্তর হবে সেগুলোই হল ভৌত রাশি।

অর্থাৎ, উপরের উদাহরণে সময়, দৈর্ঘ্য ও আয়তনের পরিবর্তন উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোই সেই ভৌত রাশি। এরকম অজস্র রাশিমালা রয়েছে যেগুলির পরিবর্তন আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করে চলেছি।

এই ভৌতরাশির সংজ্ঞা হিসাবে বলা যায় –

পরিমাপযোগ্য যেকোনো প্রাকৃতিক বিষয় যা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলছে তাহাই ভৌতরাশি।

একে দুভাবে ভাগ করা যেতে পারে।

a) রাশিটির গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে
b) পরিমাপগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে।

গঠনগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে রাশি দুই প্রকার। ভেক্টর রাশি ও স্কেলার রাশি। পরিমাপে রাশির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, মান ও অভিমুখ।

ভেক্টর রাশি

এই রাশির জন্য মান ও অভিমুখ উভয়কেই পরিমাপ করতে হয়।
যেমন ধরো তুমি আর তোমার দুই বন্ধু একই জায়গা থেকে তিনটি আলাদা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে। তুমি 5 কিলোমিটার উত্তরে গেলে, তোমার এক বন্ধু 5 কিলোমিটার দক্ষিণে গেলো আর আরেক বন্ধু 5 কিলোমিটার পূর্বে গেলো। এখন তোমার থেকে বাকি দুই বন্ধুর দুরত্ব সমান নয়। যে দক্ষিণে গিয়েছে, মেপে দেখলে দেখবে সে 10 কিলোমিটার দূরে আছে তোমার থেকে। আর যে বন্ধু পূর্বে গিয়েছে সে 7 কিলোমিটার 70 মিটার দূরে রয়েছে।
এই পার্থক্যের কারণ দৈর্ঘ্য একটি ভেক্টর রাশি। এখানে বন্ধুরা একই মানের দৈর্ঘ্য অতিক্রম করেছে কিন্তু তোমার সাথে তাদের অন্তিম দূরত্ব পৃথক। কারণ তাদের ভিন্ন অভিমুখে গমন। যে দক্ষিণে গিয়েছে, তোমার পথের সাথে তার পথের অভিমুখের কোণ 180° কিন্তু যে পূর্বে গিয়েছে তার সাথে তোমার পথের কোণ 90°। এই কৌণিক প্রভেদই দূরত্ব পৃথক হওয়ার কারণ।

ভেক্টর রাশির আরো কয়েকটি উদাহরণ – বেগ, ত্বরণ, ভরবেগ ইত্যাদি।

subscribe-jump-magazine-india
স্কেলার রাশি:

এই রাশির জন্য কেবলমাত্র মান গুরুত্বপূর্ণ, অভিমুখ নয়।
উপরের উদাহরণটিকে বিস্তৃত করে বলা হলো তোমার তিনজন তিন দিক থেকে ফিরে আবার প্রথম জায়গাতেই আসছো, তুমি দক্ষিণ অভিমুখে, তোমার প্রথম বন্ধু উত্তরদিকে এবং তৃতীয়জন পশ্চিমদিকে মুখ করে 5 কিলোমিটার এলে। আসবার পথে তুমি 2 কিলো আম, প্রথম বন্ধু 1 কিলো দই আর দ্বিতীয় বন্ধু 500 গ্রাম চিঁড়ে নিয়ে এলো। যে যাই নিয়ে আসুক, যেদিক থেকেই নিয়ে আসুক, মোট ওজন কিন্তু মানের ভিত্তিতেই যোগ হবে। যেমন এখানে মোট 3.5 কিলোগ্রাম খাবার আনা হয়েছে। সেই দই, চিড়ে আর আম মিশিয়ে যদি খাবার তৈরী হয় তবে তার মোট ভর 3.5 কিলোগ্রাম হয়।কারণ ভর একটি স্কেলার রাশি।

স্কেলার রাশির আরো কয়েকটি উদাহরণ – দৈর্ঘ্য, আয়তন, ঘনত্ব ইত্যাদি।

স্কেলার রাশি এবং ভেক্টর রাশির পার্থক্য

scalar_and_vector


[আরো পড়ুন – নবম শ্রেণি – বাংলা | নবম শ্রেণি – ইতিহাস | নবম শ্রেণি – ভূগোল]

পরিমাপগত ভাবেও রাশি দুই প্রকার।

একটি মৌলিক রাশি এবং অপরটি লব্ধরাশি। খুব স্বল্প সংখ্যক রাশিকে সংজ্ঞায়িত করে বাকি রাশিগুলিকে সেই রাশিগুলির সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হয়। স্বল্পসংখ্যক রাশিগুলি হল মৌলিক রাশি এবং তাদের দ্বারা নির্ধারিত রাশিমালা হলো লব্ধরাশি। আমরা বিস্তারিত ভাবে ব্যাপারটা বুঝে নেব।

মৌলিক রাশি:

SI বা International System of Units 7টি রাশির একককে 7টি ভৌত ঘটনার সাথে তুলনা করে সংজ্ঞায়িত করেছে। এই কারণে এই 7টি রাশি কোনো অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না, বরং ওই ধ্রুবকের উপর নির্ভর করে যার সাথে তুলনা করে রাশিটির একক সংজ্ঞায়িত। তাই এদেরকে মৌলিক রাশি বলে।

যেমন আলোর দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্বকে দৈর্ঘ্যের একক হিসাবে ধরা হয়েছে। এই দৈর্ঘ্য তাই একটি মৌলিক একক। আবার একটি নির্দিষ্ট মৌলের নির্দিষ্ট পরিমাণ পরমাণুর ভাঙ্গনের সময়কে একক সময় ধরা হয়েছে। তাই সময়ও একটি মৌলিক রাশি।

এইভাবে প্রাপ্ত 7টি মৌলিক রাশি হলো দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, পদার্থের পরিমাণ,
আলোর তীব্রতা, তড়িৎ প্রবাহমাত্রা এবং তাপমাত্রা।


[আরো পড়ুন – নবম শ্রেণি – ভৌত বিজ্ঞান | নবম শ্রেণি – জীবন বিজ্ঞান | নবম শ্রেণি – গণিত ]

লব্ধ রাশি:

এই সাতটি রাশির মধ্যে আভ্যন্তরীন সম্পর্ক স্থাপন করে যেইসব রাশিমালা, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলে। এই সাতটি রাশির গুণ ভাগ বা ঘাতের ফলে লব্ধরাশি পাওয়া যায়। এদেরকে মৌলিক রাশিমালার সমবায় বলা যেতে পারে।

যেমন সময় ও দৈর্ঘ্যের মধ্যে সম্পর্ক তৈরী করে বেগ, সুতরাং বেগ একটি লব্ধ রাশি। আবার আয়তন সেই দৈর্ঘ্যেরই তৃতীয় ঘাত। বল, ভর ও দৈর্ঘ্যের গুণফলের সাথে সময়ের বর্গের অনুপাত। সুতরাং বল-ও একটি লব্ধ রাশি। এটিতে গুণ, ভাগ এবং ঘাত তিনটি পদ্ধতিরই প্রয়োগ রয়েছে।

পর্ব সমাপ্ত।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করতে ভুলো না।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply