anthropology
Career (কেরিয়ার)

নৃতত্ত্ববিদ্যা (Anthropology) – কেরিয়ার আলোচনা

কেরিয়ার বিভাগ – নৃতত্ত্ববিদ্যা (Anthropology)


এই প্রবন্ধটা তুমি পড়ছো ডিজিটাল মাধ্যমে, এটি লেখা হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এবং তোমার কাছে পৌছাচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এগুলি সবই সম্ভব হচ্ছে মানব সভ্যতার অগ্রগতির জন্য। বহুবছর আগে, মানুষ এই ধরণের কাজ গুলি করার কথা কল্পনাও করতে পারতো না। তাদের শিল্প-কলার স্থান ছিল গুহা, খাবার ছিল কাঁচা মাংস।

কিভাবে বিকশিত হল সভ্যতার বীজ?

মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্বন্ধীয় সম্যক ধারণা নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণাকেই বলা হয় নৃবিজ্ঞান অথবা নৃতত্ত্ববিদ্যা বা Anthropology। এই বিষয় নিয়ে অনেকেরই ধারণা বিশেষ পরিষ্কার না, এই পর্বে আমরা নৃতত্ত্ববিদ্যা সম্পর্কে আলচনা করবো ।

অতীত এবং বর্তমানের সমগ্র মানব সমাজ ও আচরণ কেন্দ্রিক আলোচনা, মানুষের ক্রমানুসারে বিবর্তন ও সামগ্রিক বিকাশ নৃতত্ত্ববিদ্যার গবেষণার আওতায় পড়ে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে, এর গবেষণার ব্যাপ্তি বিশাল। তাই নৃতত্ত্ববিদ্যার পড়াশোনাকে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান – সামাজিক পট প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয় এবং তার ছাপ পড়ে মানুষের সমাজ জীবনে। তাই নৃবিজ্ঞানের এই শাখায় জনগোষ্ঠীর আচার, রীতিনীতি, প্রথা, বিশ্বাস, সামাজিক রীতি, ধর্ম, অর্থনীতি ও রাজনীতি পর্যবেক্ষণ এবং অধ্যয়ন করা হয়।

পেরু দেশের মাচু পিচু; ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ

জৈবিক নৃবিজ্ঞান – মানব সভ্যতার জৈবিক বিবর্তন অধ্যায়ন করা হয় এই ভাগে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় পরিবেশ, রোগ, পারিপার্শ্বিক পরিবর্তন কিভাবে মানব জাতিকে বিবর্তিত করেছিল তাই এই শাখার অন্যতম বিষয়।

প্রত্নতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান – এই শাখাকে Archaeology বলা হয়। নৃবিজ্ঞানের এই শাখায় মানুষের প্রাচীন সভ্যতার বিকাশ ও বিবর্তন নিয়ে অধ্যয়ন করা হয়।

ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান – অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হল ভাষাতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান। নাম শুনেই নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে যে এই ভাষার বিবর্তন নিয়ে অধ্যয়ন করাই হল এই শাখার বিষয়। আমরা হাতে গোনা কিছু ভাষা জানলেও, পৃথিবীতে ভাষার সংখ্যা অসংখ্য, আবার বহু ভাষা পৃথিবী থেকে বিদায়ও নিয়েছে। তাই নৃবিজ্ঞানের এই বিষয়টিই  হল সব থেকে বিস্তারিত শাখা।

কারা পড়বে নৃবিজ্ঞান?

মূলত যাদের ইতিহাস নিয়ে পড়তে ভালো লাগে। যারা সভ্যতার বিবর্তন নিয়ে আরো জানতে বা গবেষণা করতে আগ্রহী তারা এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে।

নৃতত্ত্ববিদ কাজ করছেন।

কিভাবে পড়বে নৃবিজ্ঞান?

ভারতের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়ানো হয়। দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করার পরে নৃবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক ও আরো পরে স্নাতকোত্তর পড়া যেতে পারে।

দ্বাদশ শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা, রাসায়নবিদ্যা এবং জীববিদ্যা থাকলে নৃবিজ্ঞান পড়তে সুবিধা পাওয়া যায়। কারণ জৈবিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞান পড়ার ক্ষেত্রে রসায়নবিদ্যা এবং জীববিদ্যার একটি আলাদা গুরুত্ব আছে। তবে কলা বিভাগ থেকেও এই  নৃবিজ্ঞান পড়া যেতে পারে।

jump-magazine-subscription

কোর্সের সময়সীমা

Anthropology নিয়ে অনার্স গ্র্যাজুয়েশান এর জন্য 3 বছরের সময়সীমা প্রয়োজন। মাস্টার্স এর ক্ষেত্রে 2 বছর দরকার। এই বিষয়ে BA, MA, BSc, MSc এই সব ধরনের কোর্স করানো হয়।

নৃবিজ্ঞানের পাঠ্য  বিষয়

স্নাতক স্তরে যে মূল বিষয়গুলি পড়ান হয় সেগুলি হল, Physical Anthropology, Socio Cultural Anthropology, Archeological Anthropology, Linguistic Anthropology ইত্যাদি। স্নাতকোত্তর এর ক্ষেত্রে যে মূল বিষয়গুলি পড়ান হয় সেগুলি হল Study of Human beings and Other living beings, Biological, Socio Cultural, Pre historic and similar avenues of human evolution. এছাড়াও Applied linguistic, different archaeological dealings, various aspects of human development ইত্যাদি বিষয়েও পড়ান হয়।

নৃবিজ্ঞান পড়ার ক্ষেত্রে ফিল্ড স্টাডিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

নৃবিজ্ঞান পড়ার কিছু জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান

পশ্চিমবঙ্গের বহু প্রতিষ্ঠানে নৃবিজ্ঞান পড়ানো হয়। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল –

বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি
  • Mrinalini Datta Mahabidyapith, Kolkata
  • Subarnarekha Mahavidyalaya
  • Calcutta University
  • Visva Bharati University
  • Vidyasagar University
  • Mahishadal Girls’ College
  • Sitananda College
  • Haldia Government College

ভারতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল

দিল্লির বিখ্যাত হিন্দু কলেজ
  • Miranda House University College For Women, Delhi
  • Hansraj College, HRC Delhi
  • B.J.B. Autonomous College, Bhubaeswar
  • Hindu College, University of Delhi
  • BU, Bhopal
  • Avadh Girls Degree College, Lucknow
  • Symbiosis School of Liberal Art, Pune
  • NIMS University, Jaipur
  • Dibrugarh University Institute of Engineering And Technology
  • College of Engineering (AU, Visakhapatnam)
  • Indian Institute of Technology, Hyderabad
  • University of Madras, Chennai

[আরো পড়ুন – প্রবন্ধ বিভাগ | প্রযুক্তি বিভাগ | বিজ্ঞানের ইতিহাস বিভাগ]

ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ

Anthropology নিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশায় প্রবেশ করা যেতে পারে।

শিক্ষকতা এবং গবেষণা – নৃবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা এবং তার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা যেতে পারে।

সরকারী গবেষণামূলক সংস্থা – ভারতের বিভিন্ন সরকারী গবেষণামূলক সংস্থায় নৃবিজ্ঞান থেকে নিয়োগ করা হয়। প্রসঙ্গত Anthropological Survey of India, ভারত সরকার অধীনস্থ একটি অন্যতম বিভাগ যারা নৃবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় নানান কাজ করে চলেছে।

কলকাতা জাদুঘর, Anthropological Survey of India-এর সদর দপ্তর

মার্কেট রিসার্চ – নানা বর্ণ – নানা ভাষা – নানান জাতির বাস এই পৃথিবীতে। বিভিন্ন ধরণের নতুন দ্রব্য এই সকল মানুষের কাছে নিয়ে আসার আগে, তা সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করা হয় হয়। এইগুলি সাধারণত করেন বিভিন্ন মার্কেট রিসার্চ এজেন্সি। এই এজেন্সিগুলি নৃবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মানুষদের নিয়োগ করেন মানুষদের আরো ভালো করে বোঝার জন্য।

মিউজিয়াম এবং আর্ট গ্যালারি – বলাই বাহুল্য যে বিভিন্ন মিউজিয়াম এবং আর্ট গ্যালারিতে এই শাখা থেকে নিয়োগ করা হয়।

বিভিন্ন NGO – বিভিন্ন NGO অর্থাৎ Non Governmental Organization নানান সমাজ কল্যাণমূলক কাজ কর্ম করে থাকেন। এই অলাভজনক সংস্থাগুলি নৃবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের নিয়োগ করেন।

বিনোদন জগৎ- ভাবছো নৃবিজ্ঞানের মতো সিরিয়াস একটি বিষয়ের সাথে বিনোদনের কি সম্পর্ক! সম্পর্ক আছে, National Geographic, Discovery TV, BBC-এর মতো বহুজাতিক সংস্থাগুলির বিভিন্ন ডকুমেন্টরি কাজের পেছনে  নৃতত্ত্ববিদদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকে।

National Geographic চ্যানেলে আমরা যেসব রুদ্ধশ্বাস ডকুমেন্টরি দেখি; তাদের পেছনে থাকে নৃতত্ত্ববিদদের দক্ষ টিম [চিত্র সৌজন্য – National Geographic]

শেষকথা

বেশকিছু সময় ধরে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে ভবিষ্যতে নানান পেশার মধ্যে কম্পিউটার তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intaligence) সাহায্যে মানুষের জায়গা নেবে। অর্থাৎ, আজ যে কাজ ১০জন ইঞ্জিনিয়ার করছেন, হয়তো আগামীদিনে  কম্পিউটার কারুর সাহায্য ছাড়া একাই সেই কাজ করবে।

কিন্তু নৃবিজ্ঞানের বিভিন্ন পেশায় কিন্তু কম্পিউটারের থাবা বসানোর সুযোগ কম। নিঃসন্দেহে কম্পিউটার কাজ অনেকটাই সহজ করবে, কিন্ত এই পেশাগুলি কম্পিউটার কোনদিনই সম্পূর্ণভাবে করায়ত্ত করতে পারবে না।

যারা ইতিহাস পড়তে আগ্রহী, তারা স্বচ্ছন্দে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়ে দারুন কেরিয়ার করতে পারে। তবে, দুঃখজনক হলেও এটা ঠিক যে এই শাখায় ভারতের তুলনায় বিদেশে সুযোগ তুলনামূলক ভাবে আরও বেশি।

বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ মধুমালা চট্টোপাধ্যায়, যিনি আন্দামান – নিকোবরের বিভিন্ন জন-জাতির সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সফল হয়েছিলেন। [চিত্র সৌজন্য – theprint.in]

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

Leave a Reply