pother-dabi
Madhyamik

পথের দাবী

বাংলা দশম শ্রেনি – পথের দাবী (গদ্য)


লেখক পরিচিতি

এখনও পর্যন্ত বাঙালি সাহিত্যিকদের মধ্যে সর্বাধিক পঠিত এবং সবথেকে বেশি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্রের জন্ম হয়। তাঁর পিতা মতিলাল চট্টোপাধ্যায় এবং মাতা ভুবনমোহিনী দেবী। দেবানন্দপুরে আসলে শরৎচন্দ্রের মামারবাড়ি ছিল। ছোটোবেলায় তাঁর ডাকনাম ছিল ন্যাড়া। দারিদ্র্যের কারণে বিদ্যালয়ে পড়াশোনায় ছেদ পড়েছিল তাঁর। নানা কাজের জন্য ভাগ্যান্বেষণে তাঁকে বহু জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। স্কুলে পড়াকালীনই তিনি প্রথম গল্প লেখা শুরু করেন।

দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের [চিত্র সৌজন্যে – soumyajyotibiswas.blogspot.com]
বর্মায় রেলস্টেশনের অস্থায়ী চাকরিতে থাকাকালীন তিনি ‘মন্দির’ নামে একটি সাময়িক পত্রিকায় গল্প লিখে কুন্তলীন পুরস্কার পান। তাঁর প্রকৃত সাহিত্যসাধনার বিকাশ ঘটে ভাগলপুরে। তাঁর ‘বড়দিদি’ গল্পটি ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জগত্তারিণী সুবর্ণপদক-এ সম্মানিত করে। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। বহু ছোটগল্প এবং উপন্যাস লিখেছেন তিনি যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – রামের সুমতি, মহেশ, অভাগীর স্বর্গ ইত্যাদি সব অসামান্য গল্প। অন্যদিকে পরিণীতা, পল্লীসমাজ, বৈকুণ্ঠের উইল, চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত, দেবদাস, গৃহদাহ, পথের দাবীর মতো কালজয়ী জনপ্রিয় উপন্যাসের স্রষ্টা শরৎচন্দ্র।

নিজের উপন্যাসের নাট্যরূপও দিয়েছিলেন তিনি যার মধ্যে ষোড়শী, বিজয়া, রমা অত্যন্ত উৎকর্ষময় এবং বহু অভিনীত। অনিলা দেবী ছদ্মনামে তিনি সাহিত্যরচনা করতেন। বাংলা ভাষায় লেখা তাঁর উপন্যাস-গল্পগুলি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে অসংখ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে শরৎচন্দ্রের উপন্যাস-গল্পকে অবলম্বন করে। ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি যকৃতের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। আজও বাংলার সাহিত্য-পাঠকদের কাছে শরৎচন্দ্র সমানভাবে জনপ্রিয়।

পথের দাবী পাঠ্যাংশের উৎস

আলোচ্য ‘পথের দাবী’ রচনাটি প্রকৃতপক্ষে একটি উপন্যাস। ‘বঙ্গবাণী’ মাসিক পত্রিকায় ১৩২৯ বঙ্গাব্দ (১৯২২ খ্রি.) থেকে ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাস (১৯২৬ খ্রি.) পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। পরে ১৯২৬ সালে উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। আলোচ্য পাঠ্যাংশটি সমগ্র উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত এবং সম্পাদিত রূপ। ‘পথের দাবী’ মূল উপন্যাসের ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদের প্রায় শেষদিক থেকে ৭ম পরিচ্ছেদের শেষ দুটি অনুচ্ছেদ বাদ রেখে বাকি অংশটি নিয়ে গঠিত হয়েছে আলোচ্য পাঠ্যাংশটি।

‘পথের দাবী ‘ বিষয়সংক্ষেপ

‘পথের দাবী’ বই আকারে প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে জনমানসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। শরৎচন্দ্রের সঙ্গে বাংলার বিপ্লবীদের যথেষ্ট মেলামেশা ছিল, ফলে এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘সব্যসাচী’র মধ্যে তিনি বিপ্লবীদের একটি রূপ তৈরি করেছিলেন। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্টের আশঙ্কা ছিল উপন্যাসের সব্যসাচী বিপ্লবী চরিত্রটি বাস্তবে বহু বিপ্লবীদের উজ্জীবিত করতে পারে, সংগ্রামের বীজ বপন করতে পারে যা ব্রিটিশ সরকারের কাছে বিপজ্জনক। এই সন্দেহের বশে ১৯২৭ সালে ‘পথের দাবী’ বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। ততদিনে এই বইয়ের প্রায় হাজার চারেক কপি বিক্রি হয়ে গেছে। সরকারের চিফ সেক্রেটারি বইটিকে ‘বিষময়’ আখ্যা দিয়েছিলেন, কলকাতার পাবলিক প্রসিকিউটরও একে সরকারের বিরুদ্ধে ‘উস্কানিমূলক’ বলে জানিয়েছিলেন। আদালতে একটি বই এভাবে বাজেয়াপ্ত করার প্রতিবাদ করেছিলেন স্বয়ং সুভাষচন্দ্র বসু এবং হরেন্দ্রনাথ চৌধুরী। পরবর্তীকালে ১৯৭৭ সালে ‘পথের দাবী’ উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ‘সব্যসাচী’ নামে যেখানে সব্যসাচীর ভূমিকায় উত্তম কুমারের অভিনয় আজও স্মরণীয়।


দশম শ্রেণির অন্য বিভাগগুলি – বাংলা | English | ইতিহাস | ভূগোল

উপন্যাসের এই বিশেষ পর্বের আগে আমরা জানতে পারি এম.এস.সি উত্তীর্ণ শিক্ষিত হিন্দু বাঙালি অপূর্ব হালদার তাঁর কলেজের অধ্যক্ষের সাহায্যে রেঙ্গুনের বোথা কোম্পানিতে চাকরি পায় এবং সেইমতো বাংলাদেশ থেকে পাচক তেওয়ারীকে সঙ্গে করে রেঙ্গুনে চলে আসে। রেঙ্গুনে এসে জোসেফ সাহেবের বাড়িতে তারা ওঠে আর সেখানেই পরিচয় হয় খ্রিস্টান মেয়ে ভারতীর সঙ্গে। এই অংশের আগেই আমরা জানতে পারি যে অপূর্বর পরিবারে দাদারা নাস্তিক এবং ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও নিয়মনিষ্ঠ নন, মুরগি-রুটি খান প্রকাশ্যেই –  যেন প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের ঘোর প্রতিবাদ। অন্যদিকে এই পরিবারেই অপূর্ব প্রচণ্ড নিয়মনিষ্ঠ, মায়ের অনুগত, বিজ্ঞান নিয়ে পড়েও সে টিকি রাখে মাথায়। রেঙ্গুনে চাকরির খবর শুনে তাঁর মা প্রথমে খুশি হননি কারণ তাঁর মত্রে সেই দেশ হল ম্লেচ্ছ, নিয়ম-কানুনের সেখানে কোনো বালাই নেই। আমরা বুঝতে পারি তৎকালীন সমাজের এই বিদেশযাত্রার প্রতি যে তীব্র অজ্ঞতাজনিত বিরূপ মনোভাব তা থেকে অপূর্বর মা বাদ যাননি।

মারাঠি ব্রাহ্মণ পেশায় অ্যাকাউন্ট্যান্ট রামদাস তলওয়ারকরের সঙ্গে অপূর্বর হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশ পুলিশের পদস্থ অফিসার নিমাইবাবুর কাছ থেকে তিনি বিপ্লবী সব্যসাচীর সম্পর্কে জানতে পারেন। বলে রাখা ভালো, এই নিমাইবাবুর চাকরি করে দিয়েছিলেন অপূর্বর বাবা, তাই অপূর্বর প্রতি অল্প হলেও তিনি বিশেষ যত্নবান।

নিমাইবাবুর কাছে সব্যসাচীর কথা শুনে তাঁর সম্পর্কে অপূর্বর শ্রদ্ধার সীমা থাকে না। ইতিমধ্যে সব্যসাচীর আসার খবরে স্টিমার থেকে কয়েকজন বাঙালিকে সন্দেহবশে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সব্যসাচীকে দেখার কৌতূহলেই অপূর্ব রেঙ্গুন থানায় যায় নিমাইবাবুর সঙ্গে। যদিও অপূর্ব অন্য একটি কারণে থানায় যাচ্ছিল। আগেরদিন তাঁর মেসের ঘরে চুরি হয়ে যায়, সে সন্দেহ করে ভারতীকে আর সেই কথা জানাতেই সে থানায় যেতে চেয়েছিল, পথে নিমাইবাবুর সঙ্গে দেখা হওয়ায় এই বিষয়টি সে জানতে পারে। আলোচ্য পাঠ্যাংশের সূচনা ঠিক এই ঘটনার পর থেকে।

নীচে সব্যসাচী সিনেমার একটি অংশ দেওয়া হল। উৎসাহি ছাত্রছাত্রীরা চাইলে দেখে নিতে পারো।

আমাদের পাঠ্যাংশটিতে মূল উপন্যাসের অনেকাংশ বর্জন করা হয়েছে। ছয় নং পরিচ্ছেদে নিমাইবাবুর বয়ানে আমরা সব্যসাচী সম্পর্কে অনেকটাই জানতে পারি যা পাঠ্যাংশে নেই। রাজনৈতিক আসামী সব্যসাচীর দশ ইন্দ্রিয় নাকি মহাভারতের সব্যসাচী অর্জুনের দুই হাতের মতো সমানভাবে চলে। বন্দুকে তাঁর অভ্রান্ত লক্ষ্য, এমনকি তিনি পদ্মা নদী সাঁতার কেটেই পেরোতে পারেন। এছাড়াও জার্মানির জেনায় ডাক্তারি পাশ করেছেন, ফ্রান্সে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন এমনকি বিলেত থেকে আইনও পাশ করেছেন এই ত্রিশ-বত্রিশ বছর বয়সী মানুষটি। সব্যসাচী দশ-বারোটা ভাষা বলতে পারেন এমনভাবে যে বোঝাই যাবে না সে বাঙালি সন্তান। ফলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া পুলিশের পক্ষে দুষ্কর। এই পরিচ্ছেদেই সব্যসাচীর প্রতি অপূর্বর গভীর মমত্ববোধ এবং শ্রদ্ধার বর্ণনা দিয়েছেন লেখক আর আগে স্বদেশি আন্দোলনে যুক্ত থাকার সুবাদে সব্যসাচীর কথা শুনে অপূর্বর মনে আবার স্বাজাত্যবোধ জেগে উঠেছে। অপূর্ব মনে মনে ভেবেছে,

‘…তুমি দেশের জন্য সমস্ত দিয়াছ, তাই ত দেশের খেয়াতরী তোমাকে বহিতে পারে না, সাঁতার দিয়া তোমাকে পদ্মা পার হইতে হয়;…কোন বিস্মৃত অতীতে তোমারই জন্য ত প্রথম শৃঙ্খল রচিত হইয়াছিল, কারাগার ত শুধু তোমাকে মনে করিয়াই প্রথম নির্মিত হইয়াছিল, – সেই ত তোমার গৌরব!…’

পাঠ্যাংশে আমরা দেখি রেঙ্গুন থানায় বর্মা অয়েল কোম্পানির কাজ ছেড়ে আসা ছয়জন বাঙালির নাম-ঠিকানা জেনে নিয়ে এবং সঙ্গের জিনিসপত্র পরীক্ষা করে জগদীশবাবু তাদের ছেড়ে দেন। তারপরই সব্যসাচী মল্লিককে হাজির করা হয় নিমাইবাবুর সামনে যিনি আসলে ‘পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট’। বয়স তার ত্রিশ-বত্রিশের কম নয়, চোখের দৃষ্টি অদ্ভুত রকমের, রোগা চেহারা এবং সামান্য কাশিতেই এমন হাঁপানি হচ্ছিল তাঁর যে দেখে মনে হচ্ছিল তাঁর আয়ু ক্ষণস্থায়ী। তাঁর পোশাক খুবই আশ্চর্যরকমের যা দেখে নিমাইবাবুর কখনোই সন্দেহজনক মনে হয় না। তিনি ভাবেন যে সব্যসাচীর রুচির সঙ্গে এই লোকটির রুচির কোনো মিল নেই। লোকটির নাম গিরীশ মহাপাত্র। তাঁকে তল্লাশি করে পাওয়া যায় একটি টাকা, গণ্ডা ছয়েক পয়সা, একটি লোহার কম্পাস, ফুটরুল, দেশলাই, বিড়ি ও গাঁজার কল্কে। নিমাইবাবু সন্দেহজনক কিছু না পেয়ে তাঁকে মুক্তি দেন এবং রাতের মেল ট্রেনের প্রতি নজর দেন। তাঁর কাছে খবর আছে যে সব্যসাচী বর্মায় এসেছেন। অপূর্বর সঙ্গে সঙ্গেই গিরীশ মহাপাত্র ভাঙা টিনের তোরঙ্গ-ময়লা বিছানা নিয়ে বেরিয়ে যায়। অপূর্ব ও রামদাস তলওয়ারকর একসঙ্গে অফিসে টিফিন করার সময় অপূর্ব তাঁর ঘরের উপরতলায় চুরির ঘটনা রামদাসকে বলে। সেই প্রসঙ্গে গিরীশকে নিয়ে ঠাট্টা করে দুজনে। অপূর্ব জানায় যে নিমাইবাবুর থেকেও যাকে শিকারীর মতো নিমাইবাবু খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি বেশি আপনজন। কারণ দেশের থেকে আত্মীয়-আপন কেউ নেই অপূর্বর কাছে।


দশম শ্রেণির অন্য বিভাগগুলি – গণিত | জীবন বিজ্ঞান | ভৌতবিজ্ঞান |

অফিসের বড়োসাহেবের থেকে সেদিনই অপূর্ব একটা টেলিগ্রাম পায় যে ভামো, ম্যানডালে, শোএবো, মিক্‌থিলা, প্রোম-এর অফিসে গণ্ডগোল চলছে বলে অপূর্বকেই ভামোতে সত্বর যেতে হবে। অপূর্ব রাজি হয়ে যায়। স্টেশনে তাঁকে দেখার জন্য তলওয়ারকর আসে, হঠাৎ করেই সেখানে সাক্ষাৎ হয় গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে। দু-একটি কথা বলে গিরীশ নমস্কার জানিয়ে চলে যায়। যদিও উপন্যাসের পরবর্তী অংশে জানতে পারবে এই গিরীশ মহাপাত্রই ছিল ছদ্মবেশী সব্যসাচী। ট্রেন ছেড়ে দিলে অপূর্ব ভামোর উদ্দেশে রওনা হয়। অপূর্ব ছিল প্রথম শ্রেণির যাত্রী। সন্ধ্যের পর আহ্নিক শেষ করে রাতের খাওয়া খেয়ে শুয়েছিল অপূর্ব। সে ভেবেছিল কেউ তাঁকে বিরক্ত করবে না। কিন্তু অযথা পুলিশের লোক বারবার তাঁর ঘুম ভাঙিয়ে দিলে সে প্রতিবাদ করে। কিন্তু এর ফলে বর্মার সাব-ইন্সপেক্টরের কাছে তাঁকে আবার অপমানিত হতে হয়। এই ঘটনাতেই পাঠ্যাংশের সমাপ্তি ঘটেছে।
subscribe-jump-magazine-india

এর পরে উপন্যাসে কাহিনি ত্রিশটি পরিচ্ছেদ জুড়ে বিধৃত হয়েছে।উপন্যাসে আমরা সব্যসাচীকে ডাক্তার হিসেবেই পাব, অপূর্ব আর ভারতীর কাহিনির সঙ্গে সঙ্গেই আসবে সব্যসাচীর ‘পথের দাবী’ নামক গুপ্ত সংগঠনের কথা যার কাজ ছিল বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে স্বাধীনতার আন্দোলনে অস্ত্র সরবরাহ করা এবং ব্রিটিশ অপশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জাগিয়ে তোলা। আমরা পাব রোজ দাউদের কথা যাকে সব্যসাচী সুমিত্রার পরিচয়ে যুক্ত করেছিলন সেই সংগঠনে। সবমিলিয়ে পুরো উপন্যাসটি একটি স্বদেশপ্রেমের পটভূমিতে নির্মিত যেখানে এইসব চরিত্রগুলি ভারতমাতার পরাধীনতা মুক্তির চেষ্টায় নিয়োজিত। সব্যসাচী যেন তাঁদের মধ্যে আদর্শ বিপ্লবী প্রাণপুরুষ।

digital-mock-test

সারসংক্ষেপ

সব্যসাচীর চরিত্র সম্পর্কে কোনো আভাস সেভাবে পাঠ্যাংশে পাওয়া না গেলেও অপূর্বর চরিত্রে যে গভীর স্বদেশপ্রেম, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তা ভোলার নয়। ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়ে বেঁচে থাকা, প্রতিবাদ না করা অপূর্বর কাছে ভীরুতা। শুধুমাত্র ভারতীয় হওয়ার কারণে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তৎকালীন পরাধীন দেশের সামাজিক ছবির সামান্য নিদর্শন পাওয়া যায়। যুগসচেতন লেখক শরৎচন্দ্র তাঁর এই রচনাতেও সেই যুগের ছবি তুলে ধরেছেন।

ভারতমাতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য বিপ্লবীরা যে প্রত্যয়ী তা এই পাঠ্যাংশ থেকেই পরোক্ষভাবে জানা যায়। আর ব্রিটিশ পুলিশ দেশীয় গুপ্তচরদের কাজে লাগিয়ে তাদের ধরার জন্য সদা ব্যস্ত শিকারির মতো। সব্যসাচী মল্লিকও তাদের কাছে সন্দেহভাজন ব্যক্তি। তাই সব্যসাচীর আসার খবরকে কেন্দ্র করে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে গল্পে। অপূর্ব’র চরিত্রের দেশের প্রতি সৎ আবেগ, ব্রিটিশ শোষণের বিরুদ্ধে জমে ওঠা ক্ষোভ, নিমাইবাবুর ভারতীয় হয়েও একজন শ্রদ্ধেয় ভারতীয় বিপ্লবীকে খুঁজে বেড়ানোর নীচ মানসিকতা এমনকি রামদাস তলওয়ারকরের স্বাধীনতার বোধ সব মিলিয়ে আলোচ্য পাঠ্যাংশটি সমকালীন রাজনৈতিক পটভূমিকে তুলে ধরে এবং একাধারে বাংলার বিপ্লবীদের প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

সমাপ্ত।


লেখক পরিচিতিঃ

প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র সিমন রায়। সাহিত্যচর্চা ও লেখা-লিখির পাশাপাশি নাট্যচর্চাতেও সমান উৎসাহী সিমন।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

Leave a Reply