somudrer-joler-ushnota
Class-11

সমুদ্র জলের উষ্ণতা

ভূগোলএকাদশ শ্রেণি – অধ্যায় – সমুদ্র জলের উষ্ণতা, লবণতা ও ঘনত্ব


সমুদ্রজলের উষ্ণতার তারতম্যের গুরুত্ব

সমুদ্রজল উষ্ণ হয় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তেমনই সমুদ্র জলের উষ্ণতার ও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।

মাছ সংগ্রহ

সমুদ্রজলের উষ্ণতার পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মহীসোপানগুলিতে।

সমভাবাপন্ন জলবায়ু

সমুদ্রস্রোত উষ্ণ হলে উপকূলবর্তী শীতল জলবায়ু অঞ্চলের আবহাওয়া সমভাবাপন্ন থাকে।

পরিবহন

সমুদ্র জল উষ্ণ হলে জাহাজ সহজে চলাচল করতে পারে। কিন্তু সমুদ্র জল শীতল হলে জাহাজ পরিবহনে অসুবিধা হয়।

আবহাওয়ার পরিবর্তন

সমুদ্রজলের উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে আবহাওয়া। সমুদ্রজলের উষ্ণতা আচমকা বেড়ে গেলে বেশী বাস্পীভবন হয় এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। আবার উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়। ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে থাকে। আবার উষ্ণ সমুদ্রের ওপর দিয়ে বায়ু প্রবাহিত হলে সেই বায়ু বেশী পরিমাণে জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে এবং স্থলভাগে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়।

জীবের বৃদ্ধি

জীবের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল উষ্ণতায় প্রবাল, সামুদ্রিক আগাছা প্রভৃতি জন্মায়। যা সমুদ্রের সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

সমুদ্রজলের উষ্ণতার পার্থক্য কারণ

সমুদ্রজলের উষ্ণতার তারতম্য তার প্রধান কারণ বলা যায় সূর্যরশ্মির পতনকোণ, এছাড়াও উষ্ণতার তারতম্যের যে বিষয়টির উপর তা হল সমুদ্রের তলদেশে থাকা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎগম যার জন্য বিভিন্ন সমুদ্র জলের বিভিন্ন উষ্ণতা লক্ষ্য করা যায়। তবে অন্যান্য কতগুলি কারণে সমুদ্র জলের উষ্ণতা নির্ভর করে তা নীচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল-


একাদশ শ্রেণি থেকে → Physics | Chemistry | Biology | Computer

1) সমুদ্রস্রোত

উষ্ণতার ও শীতল স্রোত দরুণ সমুদ্রজলের উষ্ণতার তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।সমুদ্রস্রোতের জন্য এক স্থানের জল অন্যত্র সঞ্চালন হয় যার ফলে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জলের মিশ্রন ঘটে থাকে।এর জন্য উষ্ণতার তারতম্য দেখা যায়। উষ্ণ সমুদ্রস্রোত শীতল অঞ্চলের জলকে উষ্ণ করে তোলে ও শীতল স্রোত অঞ্চলের জলকে ঠান্ডা করে তোলে।

 

 

2) সূর্যরশ্মি

স্থলভাগের মতো সমুদ্র জলের উষ্ণতার তারতম্যর ক্ষেত্রেও সূর্যরশ্মি গূরুত্ব অপরিসীম। সূর্যরশ্মি পতনকোণ, সূর্যরশ্মির তীব্রতা ও দিনরাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস বৃদ্ধির সমুদ্র জলের উষ্ণতার তারতম্যকে নিয়ন্ত্রণ করে

 

3) অক্ষাংশ

নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে সেখানকার সমুদ্রজলের উষ্ণতা বেশী এবং দুই মেরু অঞ্চলে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পতিত হয় বলে সেখানকার সুদ্রজলের উষ্ণতা কম হয়। এ থেকে বোঝা যায় যে সমুদ্রজলের উষ্ণতা তারতম্যের জন্য অক্ষাংশগত অবস্থানের গূরুত্বও যথেষ্ঠ।

4) বায়ুপ্রবাহ

সমুদ্রস্রোত যেমন জলকে অন্যত্র সঞ্চালিত করে তেমনি বাতাসও প্রবাহিত হলে তার ঘর্ষণে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশি অন্যত্র তাড়িত হয়।তখন, ওই শূন্যস্থান পূরণের জন্য সমুদ্রের নীচ থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল জল ওপরে উঠে আসে এবং সৌরকিরণে তা উষ্ণ হয়। এছাড়া স্থলভাগ থেকে ঠান্ডা বায়ু বা গরম বায়ু সমুদ্রের ওপরে উঠে এলে সমুদ্রজলের উষ্ণতার তারতম্য ঘটে থাকে।

5) অ্যালবেডো

অ্যালবেডোর তারতম্যের জন্যও সমুদ্রজলের উষ্ণতার হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে।মেরু অঞ্চলে অ্যালবেডোর পরিমাণ বেশি হওয়ায় সমুদ্রজলের উষ্ণতা কম কিন্তু ক্রান্তীয় বা নিরক্ষীয় অঞ্চলে অ্যালবেডো কম হওয়ায় সমুদ্র জলের উষ্ণতা বেশী।

6) হিমশৈলের উপস্থিতি

ভাসমান হিমশৈল সমুদ্রের জলের উষ্ণতা কমিয়ে দেয়।
প্রথমত-হিমশৈলের ক্ষেত্রে অ্যালবেডোর এর পরিমান বেশী হয়, তাই বেশীরভাগ সৌররশ্মি-ই প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। এবং এই স্বল্প পরিমান সৌরশক্তি সমুদ্র জলকে উওপ্ত করতে পারে না।যার ফলে সমুদ্রজলের উষ্ণতা কম হয়।
দ্বিতীয়ত:- হিমশৈলের গলা শীতল জল অপেক্ষাকৃত উষ্ণ জলের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে জলের উষ্ণতাকে হ্রাস করে।

হিমশৈল

7) মগ্ন শৈলশিরা

মগ্ন শৈলশিরাও সমুদ্র জলের উষ্ণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। মগ্ন শৈলশিরা উপস্থিতির কারণে সমুদ্রজলের গভীরতা হ্রাস পায় যার ফলে সমুদ্র জলের উষ্ণতা বেড়ে যেতে থাকে।এছাড়াও মগ্ন শৈলশিরা উপস্থিতির কারণে একটি সাগর থেকে অন্য সাগরে জলের সঞ্চালন বাধা প্রাপ্ত হতে থাকে যেমন বলা যেতে পারে ভারত ও লোহিত মহাসাগরের সংযোগস্থলে শৈলশিরা অবস্থান করায় ভারত মহাসাগরের জল একই গভীরতা থাকা সত্ত্বেও লোহিত মহাসাগরে প্রবেশ করতে পারে না তাই লোহিত মহাসাগরের জলের উষ্ণতা বেড়ে যায়।

8) সমুদ্রজলের লবনতা ও ঘনত্ব

সমুদ্র জলের লবনতা বেশি হলে জলের স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় তাই জলের উষ্ণতাও স্বাভাবিক ভাবে বেশি হয়। আবার ঘনত্বের ক্ষেত্রে সমুদ্রজলের ঘনত্ব বেশি হলে উষ্ণতা বেশি হয় এবং অনুরুপভাবে ঘনত্ব কম হলে উষ্ণতা কম হয়।

9) সমুদ্রের গভীরতা

সমুদ্র গভীরতার সাথে সমুদ্রেরজলের বিপরীতধর্মী সম্পর্ক। সমুদ্র জলের গভীরতা বাড়লে উষ্ণতা কমে যায় এবং গভীরতা কম হলে উষ্ণতা বাড়ে।


একাদশ শ্রেণি থেকে → অর্থনীতি | ভূগোল

থার্মোক্লাইন স্তর কাকে বলে?

সমুদ্রে 300-1000 মিটার গভীরতায় অবস্থিত যে স্তরে উল্লম্বভাবে উষ্ণতার সুস্পষ্ট পরিবর্তন বা হ্রাস প্রাপ্তি ঘটে, তাকে থার্মোক্লাইন স্তর বলে। এই থার্মোক্লাইন স্তরটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

ফোটিক কাকে বলে?

সাগর – মহাসাগরে সমুদ্রতল থেকে 200 মিটার গভীরতা পর্যন্ত যে স্তরে সরাসরি সূর্যরশ্মি প্রবেশ করে তাকে ফোটিক অঞ্চল বলে। এই অঞ্চলের উষ্ণতা অধিক হয় ও উষ্ণতা পরিবর্তনের হার ও অধিক হয়।

লোহিত সাগরের জল আরব সাগর অপেক্ষা উষ্ণ হওয়ার কারণ

লোহিত সাগরের পৃষ্ঠজলের গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা প্রায় 30°C অন্যদিকে আরব সাগরের পৃষ্ঠজলের গড় উষ্ণতা প্রায় 20° C। লোহিত সাগরের জল আরব সাগরের তুলনায় অধিক উষ্ণ হওয়ার প্রধান কারণ হল মগ্ন শৈলশিরার অবস্থান।

মগ্ন শৈলশিরা সমুদ্রজলের উষ্ণতাকে দুইভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।


একাদশ শ্রেণি থেকে → বাংলা | ইংরাজি

প্রথমত, লোহিত সাগর ও আরবসাগরের সংযোগস্থল বরাবর মগ্ন শৈলশিরার অবস্থানের জন্য আরব সাগরের শীতল জলের সাথে লোহিতসাগরের জলের অবাধ সঞ্চালন ব্যাহত হয় ফলে সমুদ্রজলের উষ্ণতা বাড়তে থাকে।
দ্বিতীয়ত, মগ্ন শৈলশিরার উপস্থিতির কারণে সমুদ্রজলের গভীরতা হ্রাস পেলেও উষ্ণতা বাড়তে থাকে। আরবসাগর ও লোহিতসাগরের সংযোগস্থলে মগ্ন শৈলশিরা অবস্থান করায় সমুদ্রের গভীরতা হ্রাস পায় এবং উষ্ণতা বাড়তে থাকে।
প্রধানত এই দুই কারণে লোহিত সাগরের জল আরবসাগরের তুলনায় উষ্ণ হয়।
পর্ব সমাপ্ত।


এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


লেখিকা পরিচিতি

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী মোনালিসা মাইতি। পড়াশোনার পাশাপাশি বই পড়তে এবং গান গাইতে ভালোবাসেন মোনালিসা ।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



JumpMagazine.in এর নিয়মিত আপডেট পাবার জন্য –

XI_geo_9a