Colloid-jump-magazine
WB-Class-9

কলয়েডের ধারণা

ভৌতবিজ্ঞাননবম শ্রেনি – অধ্যায়: দ্রবণ (দ্বিতীয় পর্ব)


আমরা আগের পর্বেই দেখেছি যে কলয়েড, প্রলম্বন ও দ্রবণের কিভাবে একে অপরের থেকে আলাদা। এদের মধ্যের মূল পার্থক্যটা হল এদের আকার।

কলয়েড কেন তৈরী হয়?

কলয়েডের আকার এতটাও ছোট নয় যে দ্রাবকের আন্তরাণবিক ফাঁকের মধ্যে ঢুকে অদৃশ্য যাবে, আবার এতটাও বড়ো না যে নিজেদের মধ্যে আকর্ষণ করে ভারী হয়ে অধঃক্ষিপ্ত হবে। কলয়েড আকারে মাঝারি, তাই সে ভাসমান অবস্থায় দৃশ্যমান হয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে।

কিন্তু আকারই কি কলয়েড সৃষ্টি হবার একমাত্র কারণ?

না। কলয়েডের সৃষ্টির মূল কারণ হল চার্জ। দ্রবণের মতো কলয়েডের দুটি অংশ, একটি দ্রাবকের মতো যাকে বিস্তার মাধ্যম বলে; অপরটি দ্রাবের মতো, নাম বিস্তৃত দশা।

যদি মিশ্রণটির দুটি উপাদান ভিন্ন দশার; যেমন কঠিন-তরল, গ্যাস-তরল বা কঠিন-গ্যাসের মধ্যে হয়; কলয়েড যার দশা ধারণ করে সেই দশাটিকে বিস্তার মাধ্যম বলে। অপরটিকে বিস্তৃত দশা বলা হবে।

একটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে। কঠিন সোনার অণু তরল জলে বিস্তৃত হয়ে গোল্ড সল তৈরী করে। যেহেতু সল একটি তরল পদার্থ, জল এখানে বিস্তার মাধ্যম, সোনা বিস্তৃত দশা।


[আরো পড়ুন – দ্রবণের প্রাক্‌কথন]

কিন্তু যদি দুটি উপাদান-ই একই দশায় বর্তমান হয়; যেমন তরল-তরল, কঠিন-কঠিন বা গ্যাস-গ্যাস; তবে যেটি বেশি পরিমাণে বর্তমান সেটি-ই বিস্তার মাধ্যম অপরটি বিস্তৃত দশা।

জলের ওপর কয়েকফোঁটা তেল ফেলে জলের মধ্যে ভালো করে প্রলম্বিত করলে তেলের অণু কলয়েড সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে জলের পরিমাণ বেশি, তাই জল বিস্তার মাধ্যম, তেল বিস্তৃত দশা।

JUMP whats-app subscrition

কিন্তু দ্রবণেও তো ধ্রুবীয়তার কারণে দ্রাব দ্রবীভূত হয়। তাহলে প্রভেদ কোথায়?

দ্রবণে, ধ্রুবীয় অণু আয়নে ভেঙে বা H-বন্ধনী গড়ে দ্রবীভূত হয়। কলয়েডে বিস্তৃত দশা আয়নে ভাঙলে বা H-বন্ধন গড়লেও অণুটি এতটাই বড়ো হয় যে দৃশ্যমান থাকে। বিস্তৃত দশার ধ্রুবীয় অংশ মূল কণা থেকে পৃথক হয়ে তারা সুসমসত্ত্ব দ্রবণ তৈরী করার চেষ্টা করলেও, তা পারে না। ফলে সমস্ত বিস্তার মাধ্যমে সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়েও সেগুলির অণু দৃশ্যমাণ থেকে যায়।

যেমন জলের মধ্যে অদ্রাব্য স্টার্চ, DNA, প্রোটিন বা ফ্যাটের দ্রবণ। একটি অনুরূপ কলয়েডের উদাহরণ হলো দুধ। দুধে জলের মধ্যে কেসিন প্রোটিন ও ফ্যাটের মিসেল্স ছড়িয়ে থাকে, তার ফলে আমরা দুধকে সাদা দেখি।


বিজ্ঞাপন


এই কলয়েডে বিস্তৃত দশা দৃশ্যমান হওয়ার কারণে দুটি বিশেষ ঘটনা লক্ষণীয়।

ব্রাউনিয়ান পরিচলন (Brownian motion)

মিশ্রণটি সুষম না হওয়ার কারণে স্থানান্তরে বিস্তৃত দশার গাঢ়ত্বের পার্থক্য দেখা যায়। ফলস্বরূপ বিস্তৃত দশার অণুগুলি ব্রাউনিয়ান পরিচলনে সক্ষম হয় (অধিক গাঢ়ত্বের থেকে কম গাঢ়ত্বের দিকে প্রবাহ।)।

Brownian_motion_large
ব্রাউনিয়ান পরিচলন (সৌজন্যে – উইকিপিডিয়া)

টিন্ডাল এফেক্ট (Tyndall effect)

কণার আকার অর্থাৎ ব্যাস আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রায় কাছাকাছি হওয়ায়, এর মধ্যে দিয়ে আলো পাঠালে আলোকতরঙ্গ বিস্তৃত দশার কণায় লেগে বিচ্ছুরিত হয়। এই বিচ্ছুরণের জন্য আলোকরশ্মির পথ কৌণিক আকারে দেখা যায়, এই ঘটনাকে টিন্ডাল এফেক্ট বলে।

tyndall-effect
টিন্ডাল এফেক্ট (সৌজন্যে – www.scienceabc.com)

দৈনন্দিন জীবনে কলয়েডের উদাহরণ

                 বিস্তৃত দশা

বিস্তার মাধ্যম

কঠিন তরল গ্যাসীয়
কঠিন কঠিন সল

যেমন : স্টিল (লোহায় কার্বনের কলয়েড), ক্র্যানবেরি কাঁচ

জেল 

যেমন: জেলি, জ্যাম, রসায়নাগারে ব্যবহৃত আগার

কঠিন ফোম 

যেমন: স্টাইরোফর্ম (যা সোফায় বা বিছানা বানাতে ব্যবহৃত হয়) বা পিউমিস পাথর

তরল সল 

যেমন: রক্ত, কালি

ইমালশন

যেমন : মেয়োনিজ, দুধ

ফোম 

যেমন: খাবার বা দাড়ি কামাবার ক্রিম

গ্যাসীয় কঠিন অ্যারোসল 

যেমন: বরফজমা মেঘ, ধোঁয়া

তরল অ্যারোসল 

যেমন: কুয়াশা, শিশির, পারফিউম স্প্রে

 

গ্যাসে গ্যাসে সুষম বিস্তারে সর্বদা দ্রবণ তৈরী হয়


[আরো পড়ুন – ইমালশন কাকে বলে]

দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত। পরবর্তী পর্ব পড়ুন → দ্রবণ, দ্রাব, দ্রাবক এবং দ্রাব্যতা

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করতে ভুলো না।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply