paton-in-bengali
WB-Class-9

মিশ্রণের পৃথকীকরণ (পাতন)

ভৌতবিজ্ঞান – নবম শ্রেনি – অধ্যায়: মিশ্রণ (প্রথম পর্ব)


আমাদের চারিপাশে আমরা যা কিছু দেখতে পাই, তার প্রায় অধিকাংশ পদার্থই পৃথক কয়েকটি পদার্থের মিশ্রণে প্রস্তুত। যেমন আমরা জানি সমুদ্রের জলে, জলের সাথে সোডিয়াম ক্লোরাইড মিশ্রিত থাকে, যে কারণে সমুদ্রের জল আমাদের নোনতা লাগে। এদেরকে কি আলাদা করা সম্ভব? সাধারণ ভাবে মিশ্রিত পদার্থের উপাদানগুলি আলাদা না করা গেলেও, কিছু বিশেষ পদ্ধতি মেনে এদের পৃথকীকরণ সম্ভব।

আমরা আগেই জেনেছি যে, মিশ্রণ দুই প্রকার, সমসত্ত্ব মিশ্রণ (যেখানে দ্রবণের সকল অংশে ঘনত্ব এক) এবং অসমসত্ত্ব মিশ্রণের (যেখানে দ্রবণের সকল অংশে ঘনত্ব এক নয়)। এবার এই দুই ধরণের উপর ভিত্তি করে, আলাদা আলাদা পৃথকীকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

১। সমসত্ত্ব মিশ্রণের পৃথকীকরণ

(এক্ষেত্রে সমসত্ত্ব  মিশ্রণ থেকে একই দশায় থাকা আর ভিন্ন দশায় থাকা উপাদানের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে; একই দশা মানে কঠিন-কঠিন, তরল-তরল আর গ্যাস-গ্যাস)

সমসত্ত্ব মিশ্রণকে পৃথক করতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যায়। তবে সেটি দেখতে হবে কোন কোন দশার উপাদান পৃথক করতে হচ্ছে এবং তাদের ধর্মের প্রভেদ কোথায়। এই দুটি ব্যাপারে নিশ্চিত হলেই আমরা নির্ধারণ করতে পারবো কোন মিশ্রণের উপাদান পৃথকীকরণের জন্য আমাদের কোন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে

উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে, কঠিন – তরলের, তরল মিশ্রণ থেকে কঠিন ও তরলকে আলাদা করতে পাতন পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। আবার তরল-তরলের মিশ্রণকে পৃথক করতে আংশিক পাতন (Fractional Distillation) ব্যবহার করা যেতে পারে। 

JUMP whats-app subscrition

২। অসমসত্ত্ব মিশ্রণের পৃথকীকরণ

অসমসত্ত্ব মিশ্রনের উপাদানকে পৃথক করা অপেক্ষাকৃত সোজা। সেক্ষেত্রে আমাদের মাথায় রাখতে হবে উপাদানের ধর্ম যার প্রভেদের ভিত্তিতেই উপাদানগুলিকে পৃথক করা যাবে। 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জল ও তেলের মিশ্রণ আলাদা করতে আমরা দ্বিস্তরীয় আস্রাবণ বা পৃথকীকরণের সহায়তা নিতে পারি।

আমাদের সিলেবাসে এই দুইটি পদ্ধতির আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

ক। পাতন এবং আংশিক পাতন

খ। দ্বিস্তরীয় আস্রাবণ (সেপারেটিং ফানেলের দ্বারা)


[আরো পড়ুন – দ্রবণের প্রাক্‌কথন]

আজকের পর্বে আমরা পাতন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো।

পাতন 

তরলের সাথে কঠিনের সমসত্ত্ব মিশ্রণকে দ্রবণ বলে। কিন্তু দ্রবণটি যেহেতু তরল, ওর মধ্যে মিশে থাকা কঠিন দ্রাবকে পৃথক করা মুশকিল হয়ে যায়। পাতন পদ্ধতিতে তরলকে কঠিন পদার্থে রূপান্তর করে পৃথক করা হয়।

তাহলে, পাতনের সংজ্ঞা হিসাবে বলা যেতে পারে যে, তাপ প্রয়োগে কোন তরলকে বাষ্পীভূত করার পর উৎপন্ন বাষ্পকে ঠাণ্ডা করে পুনরায় তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলা হয়।

পাতন পদ্ধতিতে তরলটিকে বাষ্পীভূত করার পর শীতক যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে চালনা করে কঠিন ও তরলে পৃথকীকরণ করা হয়। একটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে।

সমুদ্রের লোনা জল থেকে লবণ পৃথক করার কথা সবাই শুনেছ। ব্রিটিশদের লবণের ওপর কর বসানোর প্রতিবাদে গান্ধীজি আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন। সমুদ্রজলের থেকে লবণের পৃথক করার এই পদ্ধতিটিই হলো পাতন।

Simple_chem_distillation

উপরের চিত্রটি একটি পাতনের রেখাচিত্র।

  • 1 নং চিহ্নিত অংশে কঠিন ও তরলের তরল দ্রবণ রাখা থাকে, এবং 1 নং অংশ দিয়ে তাতে তাপ প্রয়োগ করা হয়।
  • এই তাপে কেবলমাত্র তরলটি বাষ্পীভূত হতে পারে। কখন বাষ্পীভবন শুরু হচ্ছে আমরা 4 নংএ রাখা থার্মোমিটারের সাহায্যে বুঝতে পারি।
  • বাষ্প 3 নং স্থান দিয়ে পরিচালিত হয়ে পাশের নলে প্রবেশ করে। এই নলটির চারদিকে 5 নং দর্শিত একটি ঘনীভবন শীতক থাকে, যেখানে 6 নং অংশ দিয়ে ঠান্ডা জল প্রবেশ করে 7 নং অংশ দিয়ে গরম জল হিসেবে বেরিয়ে যায়।
  • এই তাপ সেই নলের মধ্যে আবদ্ধ বাষ্প থেকে সংগ্রহ করে। তরলের বাষ্পটি তাপ ছাড়ার ফলে পুনরায় তরলে পরিণত হয় ও 8 নং অংশে রাখা পাত্রে জমা হয়।
  • তাপের ফলে 2 নং পাত্রের অতিরিক্ত গ্যাস প্রসারিত হয়ে 8 নং পাত্রে প্রবেশ করে চাপ বৃদ্ধি করে। সেই কারণে 8 নং পাত্রের সাথে 9 নং একটি টিউব সংযুক্ত করে রাখা হয় যাতে অতিরিক্ত বায়ু সেই নলের সাহায্যে বেরিয়ে যেতে পারে। 2 নং পাত্রে কেবলমাত্র অনুদ্বায়ী কঠিন পড়ে থাকে।

JUMP ম্যাগাজিনের ফেসবুক পেজ লাইক করার আবেদন রইল!:)


পাতন পদ্ধতিতে লক্ষ্যণীয় বিষয়গুলি হল:

  1. কঠিনটি অনুদ্বায়ী হতেই হবে
  2. তরলের স্ফুটনাঙ্ক যত কম হবে পাতন তত সরল ও দ্রুত হবে

আগামী পর্বে আমরা, আংশিক পাতন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply