3-invenstions
Histroy of Science (বিজ্ঞানের ইতিহাস)

দুর্ঘটনার কবলে!

– সে কি দুর্গতি মশাই!!!
– দুর্গতি বলে দুর্গতি? একেবারে হাড় হিম করা, রোমহর্ষক বিপদ।
– তা এতে কি লাভ হলো?
-পুরোটাই লাভ, লাভই লাভ।
-যা ব্বাবা। লাভ? দুর্গতিতে পড়ে কার কি লাভ?
– কেন? বিজ্ঞানের!!!



বিজ্ঞানের সকল আবিষ্কার প্রচুর পরিশ্রমের ফলে আসেনি।

ভাগ্যের সহায়তাও বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয় সহায় হয়েছে কখনো কখনো। আজকে আমরা দেখবো এমন তিনটি আবিষ্কারের কাহিনী যেগুলো আবিষ্কার তো হয়েছিল অ্যাক্সিডেন্টালি, কিন্তু পৃথিবীর চেহারা বদলে দিয়েছে।

একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও, তাতে আগুন পাবে…

match box

আমরা সবাই জানি যে বারুদ আবিষ্কার হয়েছিল চিনে আজ থেকে প্রায় ১৭০০ বছর আগে। কিন্তু বাকি বিস্ফোরকের মতো সেই বারুদকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে মানুষের বহু শতাব্দী লেগে গেছে। আজ সেই বারুদের ব্যবহার ঘরে ঘরে। কি করে যুদ্ধক্ষেত্রের বারুদ ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালালো এটি সেটারই গল্প।

পুরানো দিনের কামান

নশো থেকে হাজার খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে যুদ্ধে বারুদের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। আর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে আজকের বন্দুকের প্রথম সংস্করণ সামনে আসে বাবরের সময়ে। কিন্তু দেশলাই কাঠি নামে যে বস্তুটি আমরা ঘরে ঘরে ব্যবহার করি তার বয়স মাত্র ১৯৩ বছর। এক কাকতালীয় ঘটনার মাধ্যমে তার জন্ম।

জন ওয়াকার নামক এক ব্রিটিশ রসায়নবিদের হাতে হঠাৎই এর জন্ম হয়। ওয়াকার সাহেব তখন কাজ করছিলেন কিছু বিস্ফোরক নিয়েই। তার আগে থেকেই এমন কিছু বিস্ফোরকের কথা জানা ছিল যেগুলো চাপ বা ঘষায় বিস্ফোরণ ঘটাতো।

JUMP whats-app subscrition

কিন্তু সেগুলোকে আয়ত্বে আনতে কাঠের আগায় বারুদ দেওয়ার কথা কারুর কল্পনাতেও আসে নি। জন সাহেব কিছু কাঠি নিয়ে কিছু বিস্ফোরক ঘাঁটছিলেন। হঠাৎ, তার মধ্যে একটা কাঠি মেঝেতে পড়ে যায়। তিনি ওটাকে তুলতে গিয়ে ভুল করে যেই মেঝের ওপর ঘষে ফেললেন, অমনি ফস… প্রথমে তো তিনি ভীষণ ভয় পেয়ে যান। কিন্তু উনি দেখেন যে কাঠে আগুন জ্বলছে, কিন্তু আস্তে আস্তে। ব্যাস, আর কে দেখে?

john-walker-tin

কিন্তু তিনি নিজের আবিষ্কারের কখনো পেটেন্ট করাননি। তিনি চেয়েছিলেন এই আবিষ্কার মুক্ত হোক পৃথিবীবাসীর কাছে। বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পূর্বে সেই সময় সারা পৃথিবীতে আলো ছড়িয়েছিলো তার দেশলাই।

[ আরো পড়ুন : বাংলার অন্যতম সেরা বৈজ্ঞানিক সত্যেন্দ নাথ বসু]

ঠান্ডা মতলব কোকাকোলা!

ছোটবেলায় কে না আমরা এই স্লোগানটা শুনেছি। আমির খানের সেই বিখ্যাত টেলিভিশন বিজ্ঞাপনগুলো মনে পড়ে? এই কোকাকোলার আবিষ্কারও কিন্তু দুর্ঘটনামাত্র। আর তাও সম্পূর্ণ অন্য কাজের জন্য। মার্কিন কনফেডারেট, যারা আমেরিকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন করেছিল ১৮৫৮ সালে এবং যার ফলে ১৮৬০ এ আমেরিকায় গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়, তার একজন কর্নেল ছিলেন জন পেম্বারটন।


যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি আহত হন ও তার ফলে তাকে মরফিন দেওয়া হয়। ক্রমশ তিনি মরফিনের নেশায় আক্রান্ত হয়ে উঠছিলেন এবং তা থেকে তার মাথা ধরা কিছুতেই সারছিলো না। তিনি এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ১৮৮৫ সাল নাগাদ তার বাড়ির রসায়নাগারে তিনি বিভিন্ন চা-এর মতো তরল তৈরী করার চেষ্টা করছিলেন, যা তার সমস্যার সমাধান করবে। তিনি অ্যালকোহোলের সাথে কোকো পাতার গুঁড়ো ও কোলা বাদামের এক্সট্র্যাক্ট মিশিয়ে সেটি খেতে শুরু করেন এবং আশ্চর্য্য আরাম পান। এটিকে তিনি নাম দেন ফ্রেঞ্চ কোলা ওয়াইন।

coca-cola

১৮৮৬ সাল নাগাদ যখন আমেরিকায় জর্জিয়া প্রহিবিশন এক্ট জারি হয় তখন কর্নেল তার পানীয় থেকে অ্যালকোহোল অংশটি বাদ করে দেন। ওদিকে আমেরিকার মাটিতে আরেকটি জনপ্রিয় ড্রিংক ছিল সোডা ওয়াটার। বিভিন্ন ওষুধের দোকান আস্তে আস্তে পরিণত হচ্ছিলো সোডা ফাউন্টেনে। পেম্বারটন অ্যালকোহোলের পরিবর্তে সোডায় নিজের ফর্মুলা মেশাতে শুরু করেন। ফলস্বরূপ আবিষ্কার হয় আজকের স্বাদ বিশিষ্ট কোকা কোলা।




কিন্তু সেটিতে তখন কোকেন মেশানো থাকতো (কোকো পাতার গুঁড়ো), কোকাকোলা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা যিনি পেম্বারটনের সাথে চুক্তি করে এই পানীয়টিকে বাজারে চালু করেন, তিনি ধীরে ধীরে কোকেন অংশ বাতিল করেন এবং তার পরিবর্তে সুরক্ষিত রাসায়নিক নিয়ে আসেন। এই নতুন কোকাকোলার ফর্মুলা আজও গোপন রাখা হয়েছে অতি সযত্নে। পৃথিবীর সবথেকে গোপনীয় তথ্যগুলির একটি এই কোকা কোলার ফর্মুলা।

coca20cola201939
পুরানো কোকাকোলার বিজ্ঞাপন

[আরো পড়ুন : পৃথিবীর শক্তিশালী হাতিয়ার – কল্পনাশক্তি]

পরোপকারের লাভ…

ice-cream-cone-1274894_1920

আইসক্রিম সম্ভবত বর্তমান যুগের সবথেকে জনপ্রিয় তিনটি আন্তর্জাতিক খাদ্যের মধ্যে একটি। এই আইসক্রিমের সবথেকে জনপ্রয় রূপটি হচ্ছে কোন আইসক্রিম। ওয়াফলে মোড়া এই কোন আইসক্রিম সবাই আমরা কখনো না কখনো খেয়েছি। সবথেকে মজা লাগতো যখন ছোটবেলায় আইসক্রিমের সাথে এই কোনটিকেও খেয়ে ফেলতাম। পাত্র সমেত মাল গায়েব!



১৯০৪ সালের সেন্ট লুই শহরের বিশ্বমেলায় আর্নল্ড ফরনাচু নাম এক সিরিয়ান আইসক্রিম বিক্রেতা আইসক্রিম বিক্রি করছিলেন। আইসক্রিমের বিক্রিও বেশ ভালোই ছিল। এদিকে ঠিক তার পাশেই পার্শিয়ান ওয়াফল বিক্রি করছিলেন আর্নেস্ট হামওয়ি। তার বিক্রি ততটা ভালো হচ্ছিলো না। সেই ফাঁকে সে আর্নল্ডের ছেলের সাথে বন্ধুত্ব জমায়।

এমন সময় আর্নল্ডের কাছে আইস ক্রিম কাপ শেষ হয়ে যায়। এদিকে তার দোকানে প্রচুর ভিড়, কি করবে কিছুই আর্নল্ড বুঝতে পারছিলো না। এই সময় আর্নেস্ট তার কয়েকটা ওয়াফল আর্নল্ডকে দেয়। আর্নল্ড সেটিতে জড়িয়েই আইসক্রিমের অর্ডার পূরণ করতে থাকে। তৎক্ষণাৎ সেটি জনপ্রিয় হয় এবং সেই থেকে আমাদের আজকের ওয়াফলে মোড়া আইসক্রিমের ব্যবহার।

তথ্যসূত্র:
1. 15 Accidental Inventions You Can’t Imagine Your Life Without: Bright Side : Youtube Channel
2. https://www.nytimes.com/2013/06/02/magazine/who-made-that-ice-cream-cone.html
3. Richard Gardiner, “The Civil War Origin of Coca-Cola in Columbus, Georgia,” Muscogiana: Journal of the Muscogee Genealogical Society (Spring 2012), Vol. 23: 21–24.
4. Crass, M. F., Jr. (1941). “A history of the match industry. Part 1”. Journal of Chemical Education. 18 (3): 116–120


কেমন লাগছে আমাদের লেখাগুলি? আপনার মূল্যবান মতামত জানান নিনের কমেন্ট বক্সে। 

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু।

এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের যে কোনো প্রশ্ন সরাসরি আমাদের করতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্ৰুপে গিয়ে প্রশ্ন পাঠালে, আমাদের বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার উত্তর দেবেন। গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply