chemistry HS
পরীক্ষা প্রস্তুতি

উচ্চ মাধ্যমিক প্রস্তুতি : রসায়ন অন্তিম পর্ব

উচ্চ মাধ্যমিক রসায়নে আমরা কিভাবে 90% নম্বর পাবো, তাই নিয়ে চলছে উচ্চ মাধ্যমিক প্রস্তুতি পর্ব। প্রথম পর্বে আমরা আলোচনা করেছি উচ্চ মাধ্যমিক রসায়নে কোন নম্বরের জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং কতটা সময় লেখার সময় আমরা ব্যয় করতে পারি। দ্বিতীয় পর্বে ছিল ভৌত ও অজৈব রসায়ন। এই অন্তিম পর্বে আমরা বিশদে দেখবো জৈব ও ব্যবহারিক রসায়ন।

[আরও পড়ুন – এই লেখার প্রথম পর্ব]

জৈব রসায়ন

উচ্চমাধ্যমিক বোর্ড জৈব রসায়নের জন্য সাতটি অধ্যায় রেখেছেন। আমরা সেগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করে নিলাম।

1. হ্যালোঅ্যালকেন ও হ্যালোঅ্যারিন, 2. অ্যালকোহল, ফেনল ও ইথার, 3. অ্যালডিহাইড কিটোন ও কার্বক্সিলিক অ্যাসিড এবং 4.নাইট্রো যৌগ নিয়ে জৈব রসায়ন করা হলো।

বাকি তিনটি অধ্যায়  যথাক্রমে 1. জৈব যৌগ, 2. পলিমার ও 3. প্রাত্যাহিক জীবনে বিজ্ঞানকে ব্যবহারিক রসায়নের পাঠ হিসেবে ধরা হয়েছে। জৈব যৌগ থেকে তিনটি 3, একটি বিকল্পসমেত পাঁচটি ও চারটি বহুবিকল্পমূলক প্রশ্ন এসেছে গত তিন বছরের প্রতিবার। এখান থেকে পড়তে হবে –

  • IUPAC নামকরণ
  • IUPAC নাম থেকে রাসায়নিক গঠন আঁকা
  • রাসায়নিক পরিবর্তন
  • শনাক্তকরণের রাসায়নিক পরীক্ষা
  • A B C শনাক্তকরণ, রাসায়নিক পরিবর্তন পদ্ধতি
  • A B C শনাক্তকরণ, প্যারাগ্রাফ পদ্ধতি
  • Name Reaction টিকা
  • কি হয় বর্ণনা করো
  • কারণ দর্শাও
  • উর্ধক্রমে বা অধঃক্রমে সাজাও
  • নির্দেশানুসারে Structure অঙ্কন

 [JUMP ম্যাগাজিনের সব লেখা WhatsApp এর মাধ্যমে নিয়মিত পেতে বিনামূল্যে SUBSCRIBE করুন]

মাত্র তিনটি কাজ এই জৈব রসায়নের সমগ্র সিলেবাসকে মুঠোর মধ্যে এনে দিতে পারে।

মেকানিজম অভ্যাস (ঠিক হোক বা ভুল), রিএজেন্টের ব্যবহার আর নাম বিক্রিয়ার উপযোগিতা। এই তিনটি জিনিস হাতের মুঠোয় থাকলে এই অংশের 18 নম্বর মধ্যে 11-12 নম্বর হাতের মুঠোয় চলে আসবে। এছাড়া কোন বিক্রিয়া, কোন বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় বা করা হয়না তার জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তাহলে ‘কারণ দর্শাও’ ধরণের প্রশ্ন সহজেই করা যেতে পারে। এখানে ক্লাস 11 এর সাধারণ জৈব রসায়নের অধ্যায়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছোট প্রশ্নর জন্য সমাবয়বতা ও নামকরণ ক্লাস 11 থেকে পড়তে হবে। উর্ধক্রমে বা অধঃক্রমে সাজানোর জন্য ইন্ডাকটিভ ও মেসোমেরিক এফেক্টও ক্লাস 11 এর পাঠ্য।

[আরও পড়ুন – এই লেখার দ্বিতীয় পর্ব]

সবশেষে প্রয়োগমূলক বা ব্যবহারিক রসায়ন।

জৈব অণু, পলিমার ও নিত্য ব্যবহার্য রসায়ন নিয়ে এই অংশ। মোট 10 নম্বরের প্রশ্ন আসে প্রতিবার। চারটি বহুবিকল্প প্রশ্ন, একটি অতিসংক্ষিপ্ত, একটি 2 নম্বরের সংক্ষিপ্ত ও একটি তিন নম্বরের প্রশ্ন থেকে এই অংশ সজ্জিত হয়। মুশকিল হচ্ছে এই অংশটা পুরোটাই স্মৃতিনির্ভর।

যা যা প্রশ্ন এসেছে তাদেরকে সাধারণভাবে শ্রেণীবিভাগ করা হলো।

  • ড্রাগস, খাদ্য প্রক্রিয়াকারক ও পরিষ্কারক রাসায়নিকের শ্রেণীবিভাগ, ব্যবহার ও মেকানিজম
  • পলিমারের মনোমার ও তার গঠন
  • মনোমারের পলিমার ও তার নাম
  • পলিমারের শ্রেণীবিভাগ
  • পলিমার তৈরির পদ্ধতি ও মেকানিজম
  • জৈব অণুর গঠন ও চরিত্র
  • জৈব অণু থেকে অবজেক্টিভ প্রশ্নোত্তর
  • কারণ দর্শাও
  • সংজ্ঞা ও উদাহরণ
  • পার্থক্য

এই কয়েকটি অধ্যায়ের জন্য খুঁটিয়ে না পড়লে নম্বর তোলা কঠিন। বড়ো প্রশ্নের ‘অভাব’ এখান থেকে বাঁধা গত খুঁজতে ব্যর্থ। তবুও সংজ্ঞা, শ্রেণীবিভাগ, উদাহরণ প্রভৃতি খুঁটিয়ে পড়লে ভালো নম্বর উঠে আসবে। তবে এ হল সময় অপচয়কারী অধ্যায়। নম্বরের তুলনায় খাটতে বেশি হবে।

এদের মধ্যে অনেকাংশেই ক্লাস 11 এর জ্ঞান লাগছে, বিশেষত যেখানে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সুতরাং ক্লাস 11 এর পাঁচটি অধ্যায় অতিঅবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

  1. পরমাণুর গঠন (ইলেক্ট্রনিক কনফিগারেশন)
  2. পর্যায় সারণী (অজৈব রসায়নে বিভিন্ন ধর্মের পরিবর্তনের রূপরেখা)
  3. রাসায়নিক বন্ধন (জৈব ও জটিল যৌগ, তাদের গঠন ও বিক্রিয়া, পোলারিটি, H-বন্ড, রেজোন্যান্স, হাইব্রিডাইজেশন)
  4. জৈব রসায়নের প্রাথমিক ধারণা (বিভিন্ন বন্ড ভাঙ্গন, ইলেক্ট্রনের চলন, বিভিন্ন এফেক্ট যেমন ইন্ডাকটিভ বা রেজোন্যান্স, বিভিন্ন বিক্রিয়ার ক্রিয়াকৌশল, IUPAC নামকরণ, সমাবয়বতা)
  5. তাপগতিবিদ্যা (তড়িৎ রসায়ন, দ্রবণ, রাসায়নিক গতিবিদ্যা, পৃষ্ঠতলের রসায়ন অধ‍্যায়ে এর প্রয়োগ আছে)

এছাড়াও পাটিগণিতের সাধারণ ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, সমানুপাত; বীজগণিতের সমীকরণ তৈরী, স্থানাঙ্ক জ্যামিতির সরলরেখার সমীকরণ ও তার গ্রাফ আঁকা ও গ্রাফ দেখে চিনতে পারার দক্ষতা 90% ও 70% এর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কারণ, ওই 13 নম্বর গণিতের প্রশ্ন 60 নম্বরকে 47এ দাঁড় করাবে।

যাদের মনে হচ্ছে যে তারা আড়াই ঘন্টার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে না, তারা এই পন্থা অবলম্বন করতে পারে।

প্রথমে হাতের লেখা আস্তে লেখার সুযোগ থাকে, সেই সময় বড়ো প্রশ্ন গুছিয়ে লিখে, পরবর্তী সময়ে দ্রুত বহুবিকল্প, নৈর্ব্যক্তিক ও অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর করলে সময় ক্রয় করা সম্ভব।

এই 90 শতাংশ 100 শতাংশও হতে পারে, যদি সঠিক ভাবে অভ্যাস করা যায়।

তবে তা প্রশ্ন পড়া ও তা বুঝতে পারা, বিকল্পযুক্ত প্রশ্নের মধ্যে অধিক স্কোরিং প্রশ্ন নির্বাচন করা, অনতিরিক্ত শব্দে যথাযথ উত্তর লেখা অভ্যাস ছাড়া সম্ভব নয়।

রসায়ন ও অন্যান্য বিষয়ের যে কোনো প্রশ্ন সরাসরি আমাদের করতে পারো প্রশ্ন – উত্তর বিভাগে। এই পেজে গিয়ে প্রশ্ন পাঠালে, আমাদের বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী ২৪ মধ্যে তার উত্তর দেবেন।

Leave a Reply