h2s-hydrogen-sulfide
Madhyamik

হাইড্রোজেন সালফাইড (Hydrogen Sulphide)

শ্রেণি- দশম | বিষয় – ভৌতবিজ্ঞান | অধ্যায় – পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রাসায়ন (হাইড্রোজেন সালফাইড)


আমাদের প্রকৃতিতে যত গন্ধবিশিষ্ট অজৈব ও জৈব যৌগ আছে তাদের মধ্যে অধিকাংশেই S অর্থাৎ গন্ধক (Sulphur) বর্তমান। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় বারুদের পোড়া গন্ধের জন্য দায়ী SO2 বা পচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী H2S।

অধ্যায়ের আলোচনার এই অংশে আমরা এই H2S বা হাইড্রোজেন সালফাইডকে নিয়েই আলোচনা করবো।

kipp-jontre-H2S-preparation
কিপ যন্ত্রে H2S গ্যাস প্রস্তুতি

হাইড্রোজেন সালফাইড প্রস্তুতি

  • H2S হলো এমন একটি গ্যাস যেটিকে ঘরের উষ্ণতায় একটি কঠিন ও একটি তরল মিলিয়ে প্রস্তুত করা সম্ভব। এই ধরণের গ্যাসের প্রস্তুতি কিপ নামক যন্ত্রের সাহায্যে করা যায়।
  • লঘু সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) ও ফেরাস সালফাইডের (FeS) স্পর্শ মাত্রেই বিক্রিয়ায় H2S গ্যাস তৈরী হয়।
  • এই গ্যাসটির আণবিক ভর 34। সুতরাং এর বাষ্পঘনত্ব 17, যা বায়ুর থেকে ভারী। তাই এটিকে বায়ুর উর্দ্ধ অপসারণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। 
  • H2S একটি বিজারক আম্লিক গ্যাস। তাই এটিকে H2SO4 বা CaO দ্বারা শুষ্ক করা হয় না। তার বদলে এটিকে P2O5 দ্বারা শুষ্ক করা হয়।
  • অবিশুদ্ধিরূপে বর্তমান H2 গ্যাসকে তাড়াতে শুষ্কবরফের সাহায্যে H2Sকে তরলে পরিণত করা হয়। কারণ  হালকা H2 গ্যাস এর ফলে তরলীকৃত হতে পারে না, ফলে পৃথক হয়ে উবে যায়।

রাসায়নিক সমীকরণ  FeS + H2SO4 → F2SO4 + H2S↑

subscribe-jump-magazine-india

কিপ যন্ত্রে হাইড্রোজেন সালফাইড প্রস্তুতি

যেকোনো গ্যাস যেটি ঘরের উষ্ণতায় একটি কঠিন ও একটি তরলের মধ্যে বিক্রিয়ায় তৈরী হয় সেই গ্যাসকে কিপ যন্ত্রে প্রস্তুত করা যায়, যেমন H2, H2S, CO2 প্রভৃতি।

kipps apparatus
কিপ যন্ত্র

এই যন্ত্রে দুটি অংশ থাকে।

একটি Input যেটি একটি চোঙ লাগানো গোলক (A); অপরটি output যেটি একটি গোলক (B) ও একটি অর্ধগোলক (C) দিয়ে তৈরী। অর্ধগোলকটির (C) সমতল অংশ ভূমিস্থ হয়। এই অংশেই কঠিন বিক্রিয়ক অবস্থান করে এবং প্রথম অংশের চোঙটি এই অংশে এসে শেষ হয়।

প্রথম অংশের গোলকটি (A) সবার উপরে থাকে তরল বিক্রিয়কটি ধারণ করে। এই গোলকের মাথার দিক খোলা যায় ও নতুন করে তরল বিক্রিয়ক যোগ করা যায়।

দ্বিতীয় অংশের গোলকের (B) সাথে নির্গম নল থাকে যেটির মুখে প্যাচঁকল বসিয়ে গ্যাসের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। A থেকে তরল C তে চোঙ দ্বারা পৌঁছায় ও C-এর মধ্যে রাখা কঠিনের সাথে বিক্রিয়া করে গ্যাস তৈরী করে।

সেই গ্যাস B অংশে উঠে যায় এবং নির্গম নল দ্বারা বাইরে সংগ্রহ করা হয়। নির্গম নলের প্যাঁচ বন্ধ থাকলে উৎপন্ন গ্যাস বিক্রিয়কের উপর চাপ সৃষ্টি করে বিক্রিয়া বন্ধ করে রাখে। এই অবস্থাকে রাসায়নিক সাম্য বলে। 

হাইড্রোজেন সালফাইডের ভৌত ধর্ম

এটি একটি

  • বিষাক্ত
  • বর্ণহীন
  • দুর্গন্ধযুক্ত
  • আম্লিক
  • বায়ুর অপেক্ষা ভারী
  • সহজে তরলীকৃত
  • মৃদু দ্রাব্য (ঠাণ্ডা জলে অধিক)
  • দাহ্য গ্যাস।

হাইড্রোজেন সালফাইডের রাসায়নিক ধর্ম

1. দহনশীলতা H2S একটি দাহ্য গ্যাস যেটি অতিরিক্ত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে নীল শিখায় জ্বলে জল H2O এবং SO2 গ্যাস তৈরী করে.

2 H2S + 3 O2 = 2 H2O + 2 SO2

কিন্তু অতিরিক্ত H2S উপস্থিত থাকলে কেবলমাত্র জলীয় বাষ্প H2O ও হলুদ S-এর অধঃক্ষেপ তৈরী হয়।

2 H2S + O2 = 2 H2O + 2 S

2. অম্লত্ব H2S একটি মৃদু আম্লিক গ্যাস। তাই এটি তীব্র ক্ষারের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও জল তৈরী করে। যেহেতু আম্লিক ধর্ম মৃদু তাই এটি সবসময় H+ আয়ন সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করতে পারে না। অল্প ক্ষারের সাথে বিক্রিয়ায় তাই এটি আম্লিক লবণ তৈরী করে। অতিরিক্ত ক্ষারে দুটি H প্রতিস্থাপিত হয়ে প্রশমিত লবণ ও জল প্রস্তুত করে। 

H2S + H2O =  H3O+ + HS         NaOH + H2S = NaHS + H2O

HS + H2O =  H3O+ + S2-        2NaOH + H2S = Na2S + 2H2O


আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করার অনুরোধ রইল! 🙂


3. বিজারণ ধর্ম H2S বিভিন্ন জারক পদার্থ K2Cr2O7, KMnO4, H2O2-র সাথে বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে S-এর হলুদ অধঃক্ষেপ তৈরী করে বা SO2 গ্যাস নির্গত করে। ফলস্বরূপ K2Cr2O7, KMnO4-এর বর্ণ পরিবর্তন হয়।

K2Cr2O7 + 4 H2SO4 + 3 H2S = K2SO4 + Cr2(SO4)3 + 3 S + 7 H2O

[K2Cr2O7 = K2O + Cr2O3 + 3 [O]

K2O + H2SO4 = K2SO4 + H2O

Cr2O3 + 3 H2SO4 = Cr2(SO4)3 + 3 H2O

3 H2S + 3 [O] = 3 H2O + 3 S]

4. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া H2S বিভিন্ন ধাতব লবণের সাথে বিশেষ মাধ্যমে বিক্রিয়া করে ওই ধাতুর সালফাইড যৌগ ও ওই লবণের Anion-এর উপযুক্ত অ্যাসিড তৈরী করে।

এর সাধারণ বিক্রিয়াটি হলো 

MA + H2S = MS + H2A যেখানে MA ধাতব লবণ (M ধাতু ও A anion) H2S-এর সাথে বিক্রিয়া করে MS সালফাইড ও H2A অ্যাসিড তৈরী করে।

CuSO4 + H2S = CuS + H2SO4

2 AgNO3 + H2S = Ag2S + 2 HNO3

5. শনাক্তকরণ H2Sকে সদ্যপ্রস্তুত সোডিয়াম নাইট্রোপ্রুসাইড দ্রবণের মধ্যে দিয়ে চালনা করলে দ্রবণটি বেগুনি বর্ণ ধারণ করে. এটি H2S গ্যাসকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।


অন্যান্য বিভাগগুলি পড়ুন

দশম শ্রেণি – ভৌতবিজ্ঞান

দশম শ্রেণি – বাংলা

দশম শ্রেণি – গণিত

দশম শ্রেণি – জীবন বিজ্ঞান


সতর্কীকরণ

এই দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস। এটি প্রস্তুত করতে সমস্ত যন্ত্রপাতি বায়ুনিরুদ্ধ করে রাখা উচিত। এটি শুঁকলে অজ্ঞান হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। একটি বিশেষ মাত্রার থেকে বেশি রক্তে প্রবেশ করলে H2S মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করতে ভুলো না।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply