karma-in-begali
Class-11

Karma – বাংলায় সারসংক্ষেপ

ইংরাজিএকাদশ শ্রেনি – Karma (part 1)


Karma গল্পের বাংলা সারসংক্ষেপ

ব্রিটিশ অধিনস্থ ভারতের সময়কালে রচিত এই গল্পে সেইসময়কার কিছু মধ্যবিত্ত ভারতীয়র হঠাৎ পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের মাতৃভূমিকে অগ্রাহ্য করার মানসিকতাকে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

‘Karma’ গল্পের মূল চরিত্র প্রধানত দুটি।

পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত স্যার মোহনলাল, এবং ভারতীয় অবহেলিত নারীসমাজের প্রতিনিধি স্যার মোহনলালের পত্নী “লছমি”।

গল্পের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে মোহনলাল তার বিদেশী নিখুঁত সাজগোজকে পর্যবেক্ষণ করছেন ভারতীয় রেলস্টেশনের ফার্স্টক্লাস ওয়েটিং রুমের লজঝরে আয়নায়। গল্পে আয়নার করুণাবস্থা দেখে স্যার লালের ঐ আয়নার প্রতি অবহেলা ফুটে উঠেছে।

স্যার লাল ঐ আয়নার অবস্থার সাথে ভারতীয় সমাজ ও অর্থনীতির দুরাবস্থার তুলনা করেছেন।

বিপরীতে ঐ আয়নাও যেন তার প্রতি এক তীব্র শ্লেষাত্মক হাসি ফিরিয়ে দিয়েছে। অদৃষ্টে ঘটতে চলা অহংকারের শাস্তির কথা ভেবে যেন আয়নাও তাঁর অমন “নিখুঁত” বিদেশী সাজগোজকে তীব্র ব্যাঙ্গ করেছে।


একাদশ শ্রেণি থেকে → Physics | Chemistry | Biology | Computer

নিজের বিদেশী সাজের ভালভাবে পরীক্ষা শেষ করে স্যার মোহনলাল ট্রেনের দেরি দেখে মদ্যপানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে তাঁর “সাধারণ” “অশিক্ষিতা” স্ত্রী লছমি পান চিবোতে চিবোতে কুলির সাথে আড্ডা জমান। একাকিত্বে গৃহবন্দী লছমি তাঁর মনের কথা বলার জন্য বহুদিন পড়ে কাউকে (কুলিকে) পান। কুলির প্রশ্নে সে জানায় তিনি একা নন সঙ্গে তাঁর বিলেত ফেরত অহংকারী উকিল স্বামী রয়েছেন।

অশিক্ষিত বিদেশী আদব কায়দার কাছে বেমানান হওয়ায় স্বামীর কাছে স্ত্রী হিসাবে তাঁর কোনো গ্রহণযোগ্যতাই নেই। বাড়িতেও তাঁর স্বামী তাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন। স্বামী থাকেন বাড়ির এক তলায় আর লছমির স্থান দু তলায়। তাই লছমির অশিক্ষিত আত্মীয় পরিজনও স্যার মোহনলালের বিরক্তির কারন। স্বামী মাঝে মধ্যে তাঁর কাছে নিজের কামনার তৃপ্তি ঘটানোর জন্য আসলেও তাদের কোনো সন্তান নেই।

লছমি কুলির কাছে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ইন্টার ক্লাস ট্রেনের ভিড় হওয়ার খবর নিতে নিতেই সে তাঁর সঙ্গের রুটি ও আমের আচার দিয়ে ক্ষিদে মেটায়। এর মধ্যেই ট্রেন এসে পড়ে এবং ফাঁকা একটি কামরায় তাঁর বসার স্থানও জুটে যায়।

অন্যদিকে লছমির মদ্যপানরত স্বামী মোহনলাল ইঞ্জিনের পিছনের ফাঁকা ফার্স্ট ক্লাস কামরায় গিয়ে বসেন।

শিক্ষিত ইংরেজ অফিসারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সবরকম ব্যবস্থাই তিনি করেন।

তাঁর সঙ্গের একটি বিখ্যাত ব্রিটিশ ম্যাগাজিন খুলে এমনভাবেই শব্দছক সমাধান করতে বসেন যাতে আসে-পাশের যাত্রীদের ঐ ম্যাগাজিনের নাম চোখে পড়ে, তাঁর বিদেশী টাই ও সিগারও ব্রিটিশ যাত্রীদের তাঁর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের অন্যতম একটি উপায়। যদি এই উপায়গুলিও ব্যর্থ হয় তবে তাঁর শেষ মোক্ষম অস্ত্র ব্রিটিশদের প্রিয় স্কচ। কারন তাঁর ধারণা ছিল বেয়ারাকে ডেকে স্কচ নিয়ে আসার হুকুম দিলে নিশ্চয়ই তা ব্রিটিশ সহযাত্রীদের কাছে আকর্ষণের বস্তু হবে।

কিন্তু এত কিছু ভেবে কি লাভ!

ট্রেনের কামরাতো জনশূন্য। তাই স্যার মোহন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন ব্রিটিশ সহযাত্রীর জন্য। হঠাৎ তিনি দুই উন্মত্ত ব্রিটিশ ফৌজকে তাঁর কামরার দিকে বেসামাল পায়ে এগিয়ে আসতে দেখেন। তারাও ঐ কামরা খালি দেখে তাতে উঠে পড়ে, এবং স্যার মোহনকে কু-ভাষায় নেমে যেতে বলে। আকস্মিক এই ঘটনায় স্যার মোহন অবাক হলেও তার বিস্ময় গোপন করেন। তিনি সম্পূর্ণ ব্রিটিশ ঢঙে ইংরাজিতে তাদের পুলিশের ভয় দেখান। কিন্তু তারা বিচলিত হয়না।

স্যার মোহনের ব্রিটিশ উচ্চারণে বলা ইংরাজি তাদের অবাক করে। কিন্তু তারা ব্যাপারটিকে নিছকই তাদের অতিরিক্ত মদ্যপানের ফল হিসাবে ধরে নেয়। স্যার মোহনের সকল সামগ্রি এমনকি সেই বিদেশী ম্যাগাজিনও তারা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্যার মোহন। ট্রেন ছাড়ে। আর তাঁর সাথে সাথেই ঐ দুই উন্মত্ত ব্রিটিশ সেনা স্যার মোহনকে ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।


একাদশ শ্রেণি থেকে → বাংলা | ইংরাজি

স্যার মোহন ও তাঁর পাশ্চাত্য শিক্ষার অহংকার দুইই ষ্টেশনে মুখ থুবড়ে পড়ে।
ট্রেন তার গতিতে প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে। স্যার মোহন দেখতে পান তার “অশিক্ষিতা” স্ত্রী লছমিকে। লছমি জানতেও পারেনা তাঁর অহংকারী স্বামীর এই পরিণামের কথা। ট্রেন প্ল্যাটফর্ম পেরোয়। নির্লিপ্ত লছমি; স্বাভাবিক কায়দায় পানের পিক ফেলেন।

লেখকের মনে হয় ঠিক যেন লছমির মুখের পানের রস বা এক রাশ অবজ্ঞা, স্যার লালের বিদেশী শিক্ষার মিথ্যা অহংকারের দিকেই ধেয়ে আসে।

পর্ব সমাপ্ত। পরবর্তী পর্ব – Karma summary in English


এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।