vasha-2
Class-11

বিশ্বের ভাষা ও পরিবার – দ্বিতীয় পর্ব

বাংলাএকাদশ শ্রেণি – ভাষা (প্রথম অধ্যায়)


এর আগে বিশ্বের ভাষা ও পরিবার – প্রথম পর্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, এই পর্বে আমরা বিশ্বের ভাষা ও পরিবারের দ্বিতীয় পর্বটি আলোচনা করে নেব।

বন্ধুরা তোমরা নিশ্চয়ই ভাষা মানচিত্রে দেখেছো সারা বিশ্বের কোথায় কোথায় কোন ভাষা প্রচলিত। একটা কথা মনে রেখো এগুলো বেশিরভাগই প্রধান ভাষা। এগুলো ছাড়াও আরো শত সহস্র প্রধান ভাষা আছে যে ভাষায় খুব কম লোক কথা বলেন। উপজাতি গোষ্ঠীগুলির মধ্যে এরকম অপ্রচলিত ভাষা ব্যবহৃত হয়।
যেমন ধরো, দক্ষিণ আমেরিকার উপজাতি কিংবা আল্পস্‌ অঞ্চলের উপজাতি, আমাদের ভারতের কত উপজাতি গোষ্ঠী আছে। তাদের এক এক গোষ্ঠীর একেক রকম ভাষা।

আবার একটা বিষয় খেয়াল করেছো হয়তো তোমরা যে, একই ভাষার মধ্যেও স্থান ও অঞ্চল ভেদে বৈচিত্র্য দেখা যায়। অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণে পড়েছিলে না উপভাষা? হ্যাঁ, সেই উপভাষার কথা যদি একটু মনে করো তাহলে দেখবে, এই বাংলা ভাষাতেই কত জায়গায় কত ভিন্ন ভিন্ন রূপ, বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ভঙ্গিতে বাংলা বলা হয়।

অঞ্চলভেদে ভাষার এই কথ্যরূপ বদলে যাওয়ার ফলেই উপভাষার জন্ম হয়।

খোদ বাংলা ভাষারই সাত-আটটি উপভাষা আছে। এরকম যদি বিশ্বের সব প্রধান ভাষার উপভাষার সংখ্যা এক জায়গায় আনতে চাও সত্যিই পাগল হয়ে যেতে পারো। আশ্চর্য হবে ওখানেই। ভাষা সত্যই এত বিপুল, এত বৈচিত্র্যময়। আমরা যেমন প্রতিদিন পোশাক বদলাই, তেমনি ভাষাও নিজেকে বদলায় ক্রমশ আর সেই বদলগুলো বুঝতেই আমাদের এই ভাষাতত্ত্বের ক্লাস।

আজ দ্বিতীয় পর্বের ক্লাসে আমরা জানবো মিশ্র ভাষা সম্পর্কে, আমরা জানবো কৃত্রিম বিশ্বভাষা সম্পর্কে আর জানবো মুখে না বলেও এক বিরাট অংশের মানুষ কিভাবে ভাষার মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে থাকে, তাদের ভাষার রূপটা ঠিক কীরকম।

মিশ্র ভাষা

প্রথমে জেনে নিই চলো বন্ধুরা মিশ্র ভাষা সম্পর্কে। বাজার নিশ্চয়ই দেখেছো তোমরা। সেখানে নিশ্চয়ই দেখেছো কত কত জায়গা থেকে লোক এসে সবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি কত কি বিক্রি করছে। বাজার শেষে আবার যে যার জায়গায় ফিরে যাচ্ছেন। এখন লক্ষ্য করে থাকবে এই বাজারে নানা রকমের ভাষা শুনতে পাবে তোমরা। মানে প্রধান ভাষাটা একই, ধরো বাংলাতেই কথা বলে সবাই কিন্তু তার মধ্যেও অনেক বৈচিত্র্য আছে।

এবার এরকমই একটা জায়গা ধরে নাও যেটা একটা বাজার হতে পারে, একটা অফিস হতে পারে যেখানে বহু জায়গার বহু ভাষাভাষী লোক মিলিত হয়। সেখানে তখন কি হবে জানো?

মোটামুটিভাবে দুটি ভিন্ন ভাষা গোষ্ঠীর লোক যদি এক জায়গায় মিলিত হয় পেশা বা বাসস্থানের কারণে, তখন তারা একে অপরের ভাষার উপাদান অর্জন করবে আর তার ফলে দুই ভাষা মিলে একটা কৃত্রিম মিশ্র ভাষা তৈরি হবে।

দেখবে যারা হিন্দিভাষী বহুদিন পশ্চিমবঙ্গে আছেন, মুদির দোকান-তেলেভাজার দোকান বা জুতোর দোকান ইত্যাদি চালান তারা কিন্তু মাঝে মাঝেই বাংলা বলেন। কিন্তু তার মধ্যেও হিন্দি খানিক মিশে থাকে, অনেকে হয়তো হিন্দির টানেই বাংলা বলে থাকেন। এই মিশ্র ভাষার ব্যাপারটাও অনেকটা এই রকম। এখন এই মিশ্র ভাষার মধ্যে মূলত যেটা দেখা যায় সেটা হল যেকোনো একটি ভাষা প্রাধান্য পায়।

সেই ভাষার গঠনটা ধরো মানা হল, অন্য ভাষার শব্দ সেখানে নিয়ে আসা হল। আবার দেখা যায়, এই মিশ্র ভাষা তৈরি হলেই তার ব্যাকরণটা ঠিক নিয়ম মেনে হয় না। দুটি বা তার বেশি ভাষা মিশলেও যে কোনো একটি প্রধান ভাষার ব্যাকরণই মানা হয়।

ব্যাপারটা হল রাম নিজে কষ্ট করে বাড়িটুকু করে দিলো সম্পূর্ণভাবে আর সেই বাড়িতে অফিস চালানো শুরু করলো শ্যাম। দুর্গা ঠাকুরের কাঠামোর মতো অনেকটা তাই না? ওটা না হলে তো মূর্তিটিই দাঁড়াবে না, সে তোমরা যতই মাটি লেপো আর যতই খড় বাঁধো।

লক্ষণীয় বিষয় মিশ্র ভাষার ক্ষেত্রে খুব কম শব্দ সংখ্যা থাকে, শব্দভাণ্ডার সীমিত।

এর কারণ মূলত মিশ্র ভাষার জন্মের পিছনে পেশাগত বা কর্মের উপযোগী প্রয়োজনীয়তাটা বিরাট পরিমাণে কাজ করে। কাজ মিটে গেলে এই ভাষা মরে যেতেও পারে। ফলে এই মিশ্র ভাষা কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুবই ক্ষণস্থায়ী।

সর্বোপরি বলা যায় মিশ্র ভাষার পুরোটাই কথ্যভাষা কেন্দ্রিক বলে এই ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টি এখনো পর্যন্ত অসম্ভব।

তবে যদি এই মিশ্র ভাষা কারো মাতৃভাষা হয়ে ওঠে তখন মৌখিক সাহিত্য সৃষ্টি হতে পারে, তাহলেও তো হরফের সমস্যা হবে লেখার ক্ষেত্রে।

কোন হরফে লেখা হবে? কোন ভাষার হরফ প্রাধান্য পাবে? ফলে একটা জগাখিচুড়ি তৈরি হয় আর কি! সেই খিচুড়িতে চাল থাকে, ডালও থাকে। চালটা যদি ‘পিজিন’ হয়, ডালটা তাহলে হবে ‘ক্রেওল’। বুঝলে না তো! দাঁড়াও বুঝিয়ে দিচ্ছি।

এই মিশ্র ভাষা দুই রকমের হয়ে থাকে – পিজিন আর ক্রেওল।

এই পিজিন্‌ হল মিশ্র ভাষার প্রাথমিক স্তর। খুবই ক্ষণস্থায়ী এই পিজিন ভাষা। ভাষার ব্যবহারকারী যাকে বলে native speaker যত বাড়বে তত এই ভাষা টিকে থাকবে। কিন্তু যে ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের সংস্পর্শে এই মিশ্র ভাষার জন্ম হয়েছিল সেই গোষ্ঠী যদি কখনো সরে যায় বা বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে এই পিজিন্‌ও লুপ্ত হয়ে যাবে।

পিজিনের পরের স্তর হল ক্রেওল।

পিজিন মিশ্র ভাষা যদি কোনো native speaker-এর মাতৃভাষায় পরিণত হয়, তখন তাকে ক্রেওল বলে।

ক্রেওল লিখিত ভাষা যার একটা সংগঠিত ব্যাকরণ আছে। পিজিন থেকে ক্রেওলে পরিণত হওয়ার পদ্ধতিকে বলে ক্রেওলাইজেশন।


একাদশ শ্রেনি থেকে → বাংলা | ইংরাজি

একবার ক্রেওল তৈরি হয়ে গেলে তা সহজে লুপ্ত হয় না। ফলে পিজিন ক্ষণস্থায়ী হলেও ক্রেওল দীর্ঘস্থায়ী। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, পিজিন কোনো একটা অঞ্চলে দীর্ঘ দীর্ঘ বছর প্রচলিত থাকলে তবেই সেই ভাষা প্রজন্মবাহিত হয়ে কারো মাতৃভাষায় পরিণত হতে পারে। ফলে পিজিন থেকে ক্রেওলে পরিণত হতেও বহু সময় লাগে।

বিশ্বে অদ্ভুত অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটেছে যার ফলে এই পিজিন আর ক্রেওল তৈরি হয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে এককালে স্পেনীয় আর পর্তুগিজ ভাষা একত্রে মিশে তৈরি হয়েছিল ‘বিচ্‌-লা-মার’ নামের একটি মিশ্র ভাষা।

‘বিচ্‌-লা-মার’ ভাষায় ‘সে খাচ্ছে’ এই কথাকে বলা হয় – ‘He kaikai’ আর ‘সে সব খেয়েছে’ এই কথাকে বলা হবে – ‘He kaikai all finish’।

ফলে বুঝতেই পারছো বিচ্‌-লা-মার পিজিনের ক্ষেত্রে লিঙ্গ-কারক অনুযায়ী শব্দ কিন্তু বদলায় না। ক্রিয়ার কাল-পুরুষ-বচনেরও বদল ঘটে না। আবার ইংরেজিতে যাকে Business বলা হয়, চিনা ভাষায় তাকে বলে Pidgin (পিজিন্‌)। চিনা আর ইংরেজি ভাষার মিশ্রণেই ইংরেজি-পিজিন্‌ ভাষার জন্ম হয়েছিল। বাণিজ্যের জন্য ফরাসি আর ইংরেজদের একত্রে আসার ফলে তৈরি হয়েছে ফরাসি-পিজিন্‌।

চলে এসো উত্তর আমেরিকার ওরেগন অঞ্চলে। এখানেই সৃষ্টি হয়েছিল ‘চিনুক’ নামের একটি মিশ্র ভাষার। সেই যে ভূগোলে সমুদ্রস্রোত অধ্যায়ে পড়েছিলে চিনুক সমুদ্রস্রোত যা বরফ গলিয়ে দেয়, এখানে সেটা সমুদ্রস্রোত নয়, মিশ্র ভাষার নাম।

আগেই বলা হয়েছে যে, পিজিন্‌ যদি কোনো ভাষাগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পরিণত হয় তাহলে তাকে বলা হয় ক্রেওল। ক্রেওল মিশ্র ভাষার মধ্যে বিখ্যাত হল মরিশাস-ক্রেওল। নাম শুনেই বুঝতে পারছো তোমরা যে এই ভাষা মরিশাস দ্বীপে তৈরি হয়েছে।

কীভাবে তৈরি হয়েছে জানো?

এই দ্বীপটি যখন ফরাসিদের দখলে ছিল তখন এখানে মাদাগাস্কার দ্বীপ থেকে বহু শ্রমিক আসে, তারপর ভারত থেকেও বহু লোক কাজের জন্য আসে। ফলে এই তিনটি ভাষা মিলে মিশে তৈরি হয়েছে এই মরিশাস-ক্রেওল। এভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মিশ্র ভাষার জন্ম হয়েছে এবং হয়ে চলেছে।

কৃত্রিম বিশ্বভাষা

এরপরে চলো জেনে নিই, কৃত্রিম বিশ্বভাষা সম্পর্কে।

একটা জিনিস খেয়াল করো বন্ধুরা, এখানে দুটো পয়েন্ট আছে –

১. কৃত্রিম ভাষা
২. বিশ্ব ভাষা

কৃত্রিম ভাষা কাকে বলবো?

যে ভাষা মানুষ নিজের ইচ্ছায় এবং নিজের উদ্যোগে বিশেষ বিশেষ সংকেত প্রয়োগের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে, পৃথিবীতে এত এত ভাষা থাকতে মানুষকে আলাদা করে ভাষা তৈরি করতে হল কেন? আসলে দেখা গেছে পৃথিবীর যে কোনো জায়গার মানুষকে প্রথমে তার নিজের নিজের মাতৃভাষা বাধ্যতামূলকভাবে শিখতে হয়।

তারপর সে চাইলে মাতৃভাষার সঙ্গে সংলগ্ন এমন একটি ভাষা শেখে। এছাড়া তার অঞ্চলের বাইরের কোনো একটি বা একাধিক ভাষা সে শিখতে পারে। কিন্তু তার পক্ষে কখনো বিশ্বের সব জায়গায় যাওয়ার এবং কথা বলার উপযোগী করে সব ভাষা শিখে ফেলা সম্ভব নয়।

এখানেই সমস্যার সূত্রপাত হয়!

একজন জার্মান লোক কখনোই রাশিয়ান ভাষা বুঝতে বা পড়তে পারবে না। আবার একজন ভারতীয় যার মাতৃভাষা তামিল, সে না জানলে কোনোভাবেই ওড়িয়া ভাষা বুঝতে বা পড়তে পারবে না।

এখন ভাষাবিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের মাথায় একটা পরিকল্পনা এলো। তাঁরা ভাবলেন যদি এমন একটা উপায় করা যায় যার দ্বারা কোনো নতুন ভাষা জানার দরকার পড়বে না অথচ সব ভাষার মানুষের সঙ্গে একটা নির্দিষ্ট মাধ্যমে অনায়াসে সংযোগস্থাপন করা যাবে, তখনই এই কৃত্রিম ভাষা তৈরি হয়।

এমন একটা বিশ্বজনীন বর্ণমালা ও ভাষারূপ তৈরি করা হল যার সাহায্যে পৃথিবীতে শুধুমাত্র এই বিশেষ বর্ণমালা ও ভাষারূপ জানলেই সমস্ত ভাষার মানুষই একে অপরের সঙ্গে সংযোগস্থাপন করতে পারবে।

উনিশ শতকে এই পরিকল্পনা থেকেই প্রথম যোহান মার্টিন শ্লেইয়ার ‘ভোলাপ্যুক্‌’ নামের একটি কৃত্রিম বিশ্বভাষা সৃষ্টি করেন। আর তারপরই জন্ম নেয় ‘এসপেরান্তো’।

না না ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এটা আহামরি রকেট সায়েন্স নয় যে বুঝতে পারবে না। যদিও রকেট সায়েন্সও চাইলে ও অধ্যবসায় থাকলে বুঝে নেওয়া সম্ভব! যাকগে, এই যে এসপেরান্তোর কথা বললাম এটা হল এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবথেকে সংগঠিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃত্রিম বিশ্বভাষা যা পোল্যাণ্ডের এক চক্ষু চিকিৎসক এল. এল. জামেনহফ্‌ তৈরি করেছিলেন। ১৮৮৭ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়।

পোল্যাণ্ডের ভাষায় ‘এসপেরান্তো’ শব্দের মানে হল – Hopeful বা আশাব্যঞ্জক।

এসপেরান্তো ভাষার বৈশিষ্ট্য

এই এসপেরান্তো ভাষার কিছু বৈশিষ্ট্য তোমাদের মনে রাখলেই পরীক্ষা নামক বৈতরণী পার করতে পারবে সহজেই। যদিও এসপেরান্তো নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং চাইলে তোমরা মাত্র একমাসের মধ্যেই এই এসপেরান্তো শিখে ফেলতে পারো এতটাই সহজ এই ভাষা। আমাদের এই প্রয়াস যদি তোমাদের আগ্রহী করে তুলতে পারে তাহলেই আমরা সফল।


একাদশ শ্রেনি থেকে → Physics | Chemistry | Biology | Computer

চলো দেখে নিই এসপেরান্তোর বৈশিষ্ট্য এক ঝলকে –
১. সমগ্র পৃথিবীতে কুড়ি লক্ষ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন যাদের মধ্যে এক হাজার মানুষের মাতৃভাষাই হল এই এসপেরান্তো।
২. এসপেরান্তোর শব্দগুলি এর উচ্চারণ অনুযায়ী উচ্চারিত হয়।
৩. এর ব্যাকরণে রয়েছে মাত্র ১৬টি সূত্র। ২৩টি ব্যঞ্জনধ্বনি, ৫টি স্বরধ্বনি, ২টি অর্ধস্বর এবং ৬টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে এই ভাষায়।
৪. এই ভাষায় শব্দসংখ্যা ছয় হাজারেরও বেশি।

এত কিছু জানার পর নিশ্চয়ই মাথা ভোঁ-ভোঁ করছে, কান কটকট করছে, নাক সুড়সুড় করছে? কী করছে তো? সেকি! করছে না? তাহলে বলতেই হয় তোমরা অনেক মনোযোগী ছাত্র-ছাত্রী। নাহলে এতক্ষণে ঘুমিয়েই পড়তে, বা টুক করে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঁকি দিয়ে দেখে ফেলতে নতুন কি নোটিফিকেশন এলো।

Para-Language

তাহলে এতটা যখন পড়েই ফেললে, এখন বলো দেখি কথা না বলে বা না লিখে কীভাবে মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে? একথাটা একেবারে শুরুর ক্লাসেই বলেছি। মনে আছে নিশ্চয়ই! হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছো। অঙ্গভঙ্গি আর মুখের অভিব্যক্তির মাধ্যমে। এটাকেই আমরা বলেছিলুম Para-Language। দেখবে যারা মূক-বধির তারা বিশেষ করে এই পদ্ধতিতেই কথা বলে থাকেন।


একাদশ শ্রেনি থেকে → অর্থনীতি | ভূগোল

লক্ষ্য করে দেখবে যেমন তেমনভাবে কিন্তু তারা এই সংকেত প্রয়োগ করে না, তাদের বিশেষ বিশেষ নিয়ম আছে। আঙুল আর হাত ব্যবহার করে তারা অনেক কিছু বোঝাতে পারে। এই পদ্ধতিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Dactyology।

সংকেত প্রয়োগে ভাষার বহিপ্রকাশে হাত ও আঙ্গুলের ব্যবহার

 

চলতি কথায় একেই আমরা সাংকেতিক ভাষা বা Sign Language বলে থাকি। এখন সমস্যা হল এই ভাষা বুঝতে গেলে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে, এই ভাষা না শিখলে এই ভাষার সংকেতগুলি বোঝা অসম্ভব।

ফলে নিশ্চয়ই এই দুটি পর্বের ক্লাসে ভাষার বৈচিত্র্য এবং বিপুল বিস্তার সম্পর্কে একটা সাধারণ ধারণা তোমাদের হয়েছে। আশা করবো এর পরের ক্লাসগুলিতেও তোমরা খুব উপভোগ করে আনন্দ করে ভাষাতত্ত্বের জটিল বিষয়গুলি শিখে নিতে পারবে। তাহলে আজকের মতো ক্লাসের এখানেই ইতি।
বাজলো ছুটির ঘন্টা…
পর্ব সমাপ্ত।


এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


লেখক পরিচিতি

প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র সিমন রায়। সাহিত্যচর্চা ও লেখা-লিখির পাশাপাশি নাট্যচর্চাতেও সমান উৎসাহী সিমন।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



JumpMagazine.in এর নিয়মিত আপডেট পাবার জন্য –

XI_Beng_Bhasa_2