biyoji-funnel
WB-Class-9

বিয়োজী ফানেল ও দ্বিস্তরীয় আস্রাবণ

ভৌতবিজ্ঞান – নবম শ্রেণী – অধ্যায়: মিশ্রণ (তৃতীয় পর্ব)


এই অংশে আমরা আলোচনা করবো দুটি অমিশ্রণীয় তরলের পৃথকীকরণ ও এই পদ্ধতির ব্যবহার।

আমরা প্রথম পর্বেই দেখেছি যে দ্রবণে যদি একটি উপাদান অপর উপাদানের সাথে সম্পূর্ণরূপে মিশে গিয়ে সুসমসত্ত্ব মিশ্রণ তৈরী করে, তখন তাকে পৃথক করতে আমরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হই। কিন্তু যদি উপাদান মিশে না গিয়ে অসমসত্ত্ব অবস্থায় অবস্থান করে তখন তাকে কি আমরা আলাদা করতে পারবো?

হ্যাঁ পারবো, সেই সময় আমরা পৃথকীকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়: আস্রাবণ (অধঃক্ষিপ্ত কঠিন ও তরলের মিশ্রণ: কাদাজল), পরিস্রাবণ (ভাসমান কঠিন ও তরলের মিশ্রণ: কাঠ গুঁড়ো ও জলের মিশ্রণ), দ্বিস্তরীয় আস্রাবণ (তেল-জলের মিশ্রণ)।


[নবম শ্রেণির পাঠ্য ভৌতবিজ্ঞানের অন্যান্য লেখাগুলি পড়তে এই এখানে ক্লিক করুন]


আমাদের পাঠক্রম অনুসারে এই দ্বিস্তরীয় আস্রাবণ পদ্ধতির সাথে আমাদের পরিচিত হতে হবে।

“যখন দুটি বা ততোধিক তরল পরস্পর ভৌত ও রাসায়নিকভাবে মিশে না গিয়ে ঘনত্ব অনুসারে স্তরীভূত হয়, সেই পৃথক স্তরগুলিকে আলাদা পাত্রে সংগ্রহ করলে সকল তরল পৃথক হয়, সেই স্তরীভবন ও পৃথকীকরণ পদ্ধতিকে বহুস্তরীয় আস্রাবণ বলে. এই পদ্ধতি কেবলমাত্র দুটি তরলের জন্য করা হলে একে দ্বিস্তরীয় আস্রাবণ বলে.”

বিয়োজী ফানেলের দ্বারা এই স্তরীভূত মিশ্রণকে পৃথক করা হয়ে থাকে। 

JUMP whats-app subscrition

স্তরীভবনের পরীক্ষা:

চারটি একই আকারের কাঁচের বা প্লাস্টিকের গ্লাসে সমান পরিমাণ জল নেওয়া হলো. প্রথম পাত্রের জলে ২ চামচ চিনি গোলা হলো, দ্বিতীয় পাত্রে ৪ চামচ ও তৃতীয় পাত্রে ৬ চামচ চিনি গোলা হলো. চতুর্থ পাত্রে কিছু গোলা হলো না. এবার প্রত্যেকটি পাত্রে আলাদা আলাদা Food Colour যোগ করা যেতে পারে। যেমন লাল, নীল, হলুদ ও সবুজ যথাক্রমে ৩, ২, ১ ও ৪ নম্বর পাত্রে।

এবার একটি বড় কাঁচের সিলিন্ডারে বা জলের বোতলে তৃতীয় পাত্রের জল ঢালা হলো, তারপর আস্তে আস্তে প্রথম স্তরকে না নাড়িয়ে দ্বিতীয় পাত্রের জল ঢাললে দেখা যাবে লাল স্তরের ওপর নীল স্তর তৈরী হয়েছে। এইভাবে প্রথম ও চতুর্থ পাত্রের জলকেও ঢালা হলো। তাহলে আমরা  নিচ থেকে উপরের দিকে লাল, নীল, হলুদ ও সবুজ রঙের চারটি স্তর দেখতে পাবো যারা একসাথে মিশে যাচ্ছে না।

rainbow-density-experiment-hero-750w
[চিত্র সৌজন্য – littlepassports.com]

এর থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে পৃথকীকরণের শর্ত হলো ঘনত্ব।

তৃতীয় পাত্রে ৬ চামচ চিনি থাকায় তার ওজন সবথেকে বেশি ছিল, কিন্তু আয়তন আর বাকি পাত্রের সাথে সমান। দ্বিতীয়টিতে ৪ চামচ, প্রথমটিতে ২ চামচ ও চতুর্থটিতে কোনো চিনি না থাকার দরুণ এদের ঘনত্ব ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে। তাই স্তরীভবনের সময় লাল রঙের তৃতীয় পাত্রের জল সবার নিচে, তার ওপর নীল রঙের দ্বিতীয় পাত্রের জল, তার ওপর হলুদ রঙের প্রথম পাত্রের জল ও সবার উপরে সবুজ রঙের প্রথম পাত্রের জল অবস্থান করেছে।


JUMP ম্যাগাজিনের ফেসবুক পেজ লাইক করার আবেদন রইল!:)


পৃথকীকরণ পরীক্ষা

separating funnel

    • একটি বিকারে হলুদ রঙের সর্ষের তেল নেওয়া হলো।
    • তাতে সমআয়তন জল মেশানো হলো।
    • উভয়কে একসাথে ঝাঁকানো হলো।
    • এবার, একটি পরিষ্কার বিয়োজী ফানেলের মধ্যে মিশ্রণটিকে ঢেলে একটি ক্ল্যাম্প দিয়ে সেটিকে ব্যুরেট দণ্ডের সাথে লাগিয়ে রাখা হলো।
    • কিছুক্ষণ পরে দেখা যাবে যে হলুদ রঙের তৈলবিন্দুগুলি জুড়ে একটি বৃহৎ তেলের কণা তৈরী করছে।
    • এভাবে চলতে চলতে একসময় লঘুতর দ্রবণ তেল উপরের স্তর ও নিচে ঘনতর জল স্তর সৃষ্টি করেছে।
    • এরপর বিয়োজী ফানেলের তলার নলটি উন্মুক্ত করলেই ভারী জল বেরিয়ে আসবে।
    • সেটিকে একটি কনিক্যাল ফ্ল্যাস্কে সংগ্রহ করা হলো।
    • এই পৃথকীকরণ ততক্ষণ অবধি চলবে যতক্ষণ না উভয়ে পৃথকীকরণের স্তরবিভাজিকা নলের মুখে পৌঁছেছে।
    • এরপর অপর একটি ফ্ল্যাস্ক এনে তেলটি সংগ্রহ করা হলো।

[নবম শ্রেণির পাঠ্য বাংলা লেখাগুলি পড়ুন]


পৃথকীকরণ পদ্ধতির প্রয়োগ:

কোনো জৈব যৌগ জলে দ্রবীভূত হয়ে থাকলে, জল তাড়িয়ে পতন পদ্ধতিতে যৌগটিকে সংগ্রহ করা সমস্যার সৃষ্টি করে।

তাই যৌগটি অধিক দ্রাব্য এমন কোনো অধিক উদ্বায়ী জৈব তরল যেটি জলের সাথে স্তরীভূত দশার সৃষ্টি করতে পারে ওই দ্রবণের সাথে মিশিয়ে যৌগটিকে জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত করিয়ে নেওয়া হয়।

এবার জৈব তরলটিকে অপসরণ করলেই জৈব যৌগ পৃথক হয়ে যাবে।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply