study-routine
পরীক্ষা প্রস্তুতি

পড়ার রুটিন



করোনার সংক্রমণের আতঙ্কে প্রায় সারা বিশ্ব ঘরবন্দী।

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, কাজ – কর্ম, ব্যবসা – বানিজ্য, অফিস – দোকান সব বন্ধ। স্কুল – কলেজ, প্রাইভেট টিউশনও বন্ধ রয়েছে, ব্যপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পড়াশোনা।

এই অবস্থায় বিগত কয়েকদিন ধরে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে একটা প্রশ্ন পাচ্ছি, তা হল – এই সময়ে পরিকল্পনা মাফিক পড়াশোনা কিভাবে করা যায়।

এই প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন।
JUMP whats-app subscrition

বর্তমান অবস্থা ও সামগ্রিক ক্ষতি

আমরা প্রায় সকলেই টিভির মাধ্যমে বর্তমান অবস্থার দিকে প্রতিনিয়ত নজর রাখছি। একটা বিষয় এই মুহূর্তে খুব পরিষ্কার যে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। তবে এখন পড়াশোনা প্রায় স্তব্ধ হয়ে গেলেও বার্ষিক পরীক্ষা (নবম ও একাদশ) এবং বোর্ডের পরীক্ষা (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) কিন্তু পুর্ব পরিকল্পনা মাফিকই হবে এবং পাঠ্য বিষয়গুলি ভালো ভাবে না বুঝলে পরবর্তী সময়ে বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হতেই হবে।

এই অবস্থায় প্রতিদিন নিয়ম করে পরিকল্পনামাফিক পড়া চালিয়ে যাওয়া ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা নীচে দেওয়া হল।



প্রতিদিনের পড়ার রুটিনঃ

এই সময়ে প্রায় পুরোটাই নিজে পড়তে হবে। তাই একটা রুটিন ফলো করলে পড়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

অঙ্কঃ প্রতিদিনের রুটিনে অঙ্ক রাখতেই হবে। অঙ্ক এমন একটি বিষয় যা অভ্যাস না করলে দক্ষতা কমে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হয়। নতুন অধ্যায় বুঝতে না পারলে পুরানো অধ্যায়ের অনুশীলনী আবার অভ্যাস করা বা টেস্ট পেপারের থেকে নতুন অঙ্ক কষা যেতে পারে। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা অঙ্ক অনুশীলন করতেই হবে।

বিজ্ঞানঃ জীবন বিজ্ঞান ও ভৌত – বিজ্ঞান দুটি বিষয়ের মধ্যে অন্তত একটি বিষয় প্রতিদিন পড়তেই হবে। পুরানো অধ্যায় আরো একবার দেখে নেওয়া এবং নতুন অধ্যায় নিজে থেকেই শুরু করা যেতে পারে।

বাংলাঃ একদিন অন্তর ইংরাজি বা বাংলা পড়া যেতে পারে। সময়ের অভাবে বাংলা ব্যাকরণ অনেক সময় গুরুত্ব পায় না। এই সময়টা ব্যাকরণের ফাঁকগুলি খুঁজে ভালো করে মেরামত করা যেতে পারে।

ইংরাজিঃ গ্রামার রোজ অভ্যাস করো। এছাড়া পুরানো টেস্ট পেপার বা প্রশ্নের বই থেকে একদিন অন্তর একটি করে Unseen passage solve করো। Vocabulary গুলো অবশ্যই বিশেষ মনযোগ দিয়ে করবে, দরকার হয়ে dictionary সাহায্য নাও। পুরানো পাঠ্যগুলো আরো একবার ভালো করে পড়ে নাও।

ইতিহাস ও ভূগোলঃ এই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি প্রতিদিন অভ্যাস করতেই হবে। ইতিহাস একটি অধ্যায় আর একটি অধ্যায়ের সাথে জড়িত। ফলে এই সময়ে যদি পুরো বইটা একবার পড়ে ফেলতে পারো তাহলে পরবর্তী সময়ে বুঝতে খুব সুবিধা হবে। এছাড়া ভূগোলের ক্ষেত্রে এই সময়ে সিলেবাসের সব ম্যাপ পয়েন্টিং করে রাখতে পারো।

তোমাদের সুবিধার জন্য নীচে একটা plan করে দেওয়া হল। প্রতি সপ্তাহ হিসাবে তোমার অধ্যায়ের নাম নিজেরা লিখে নিও। আর একটা বিষয়, শুধু প্ল্যান করলেই হবে না সেই প্ল্যানের পর্যালোচনা করাটা কিন্তু খুব জরুরী।

study-routine-format

MCQ প্রশ্নের সমাধান

MCQ ধরনের প্রশ্ন এবং এক কথায় উত্তর আজকের সময়ের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এইসময়ে টেস্ট পেপার বা অন্য কোন প্রশ্নের বই থেকে তোমরা বিষয় ও অধ্যায় ভিত্তিক ভাবে আলাদা আলাদা করে প্রশ্নগুলির সমাধান লিখে রাখতে পারো। এতে যেমন তোমাদের অভ্যাস বাড়বে ঠিক তেমনই পরীক্ষার আগে ready reckoner হিসাবে দারুণ কাজ দেবে।


[আরো পড়ুন – মধ্যমিকে কিভাবে নম্বর বাড়ানো যায়?]


পড়া ভালো করে বোঝা

স্কুল ও পড়তে যাওয়া বন্ধ থাকার কারনে তোমাদের নিশ্চয়ই নতুন অধ্যায় শুরু করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। এই সময়ে নতুন অধ্যায় শুরু করলে যে যে অংশগুলো বুঝতে পারছো না বা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে সেই অংশগুলো একটি আলাদা খাতায় লিখে রাখো। এতে পরে শিক্ষক / শিক্ষিকাদের জিজ্ঞাসা করে ব্যাপারগুলি খুব সহজেই বুঝে নিতে পারবে।

যাদের সুযোগ আছে তারা তাঁদের শিক্ষক / শিক্ষিকাদের ফোনের মাধ্যমেও ওই বিষয়গুলি সহজভাবে বুঝে নিতে পারো। এছাড়া JUMP ম্যাগাজিনের অধ্যায় ভিত্তিক আলোচনাগুলিও পড়ে নিতে পারো, তোমাদের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির আলোচনার লিঙ্কগুলি দেয়া রইল।


নবম শ্রেণির লেখাগুলি পড়ুন
দশম শ্রেণির লেখাগুলি পড়ুন

প্রশ্ন উত্তর লেখা

প্রতিদিন যেমন পড়ার অভ্যাস করতে হবে তেমনই লেখার অভ্যাসটাও চালিয়ে যেতে হবে। তাই একটা সময় আলাদা করে রাখতে হবে প্রশ্ন – উত্তর লেখার জন্য। এই সময়ে নিজেই কিছু প্রশ্ন বেছে নিয়ে তার উত্তর লেখা অভ্যাস করতে পারো। লেখা হয়ে গেলে নিজের লেখা উত্তর, নিজে দুই – একবার পড়লেই নিজেই ভুলগুলি ধরতে পারবে।


JUMP ম্যাগাজিনের ফেসবুক পেজ লাইক করার আবেদন রইল!:)


সময়ের উপযোগিতা

পড়াশোনা করার পরেও এই সময়ে যে তোমাদের হাতে অনেকটা সময় বেঁচে যাবে তা নিশ্চয় বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আমাদের অনুরোধ, সময় নষ্ট না করে এই সময়কে যত কাজে লাগাতে পারবে ততটাই তোমাদের লাভ। যেমন ধরো, কোন বই পড়া হয়নি – এই সময়ে পড়ে ফেলতে পারো, লেখালিখি করতে ভালো লাগে – এই সময়ে জমিয়ে একটা গল্প বা কবিতা লিখতে পারো, রান্না করতে ভালো লাগে – একদিন বিকালে দারুণ জল-খাবার রান্না করে বাড়ির সবাইকে চমকে দিতে পারো।

অর্থাৎ, যা খুশী করতে পারো কিন্তু মোবাইলে গেম খেলে বা বোকা-বোকা ভিডিও দেখে সময় নষ্ট করো না।

একটা কথা মাথায় রাখবে, এই সময়ে গোটা বিশ্ব এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কবে কাটবে তা ভীষণভাবে অপরিষ্কার। তাই আর যাই হোক এই সময়টাকে নেহাৎ ছুটি বলে নষ্ট করো না।

Leave a Reply