varoter-upokuliyo-somobhumi
Madhyamik

উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল

ভূগোলদশম শ্রেণি – আঞ্চলিক ভূগোল (ষষ্ট পর্ব)


আগের পর্বে আমরা ভারতের মালভূমি অঞ্চল সম্পর্কে আলোচনা করেছি এই পর্বে আমরা ভারতের উপকূলীয় সমভূমি সম্পর্কে জেনে নেব।

ভারতের উপকূলীয় সমভূমির শ্রেণিবিভাগ

ভারতের উপকূলীয় সমভূমিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
1. ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি
2. ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি

গুজরাটের কচ্ছের রান থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি এবং পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি পশ্চিমবঙ্গ উড়িষ্যা সীমান্তের সুবর্ণরেখা নদী থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।


দশম শ্রেণির অন্য বিভাগগুলি – বাংলা | English | ইতিহাস | ভূগোল

1. পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি

এই সমভূমিকে প্রধানত ছটি ভাগে ভাগ করা যায়।

● কচ্ছ উপদ্বীপ

এই উপদ্বীপ সিন্ধু এবং লুনি নদী দ্বারা গঠিত। এছাড়া বিভিন্ন উপহ্রদ, উপকূলীয় বালিয়াড়ি এবং ছোট ছোট টিলা দ্বারা এই অঞ্চল গঠিত।

এই অঞ্চলের উত্তরে বৃহৎ রান এবং দক্ষিণ পূর্বে ক্ষুদ্র রান অবস্থিত।

● কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ

এই উপদ্বীপটি কচ্ছ উপদ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত। এই অংশের মধ্যভাগে গির ও মান্ডব পর্বত অবস্থিত। গির পর্বতের মাউন্ট গিরনার (1,117 মিটার)এই অংশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

● গুজরাট সমভূমি

কচ্ছ কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের পূর্ব দিকে অবস্থিত সমভূমিটি গুজরাট সমভূমি নামে পরিচিত। এই সমভূমিটি নর্মদা, তাপ্তি, মাহি ও সবরমতী নদীর পলি দ্বারা গঠিত।

ভারতের পশ্চিম উপকুলের মুম্বাই [Imaged by, A.Savin]

● কোঙ্কন সমভূমি

গুজরাট সমভূমির দক্ষিণে দমন থেকে গোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় 500 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 50 থেকে 80 কিলোমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট সমভূমিটির নাম হল কোঙ্কন সমভূমি।

● কর্ণাটক সমভূমি

কোঙ্কন সমভূমির দক্ষিণ গোয়া থেকে ম্যাঙ্গালোর পর্যন্ত প্রায় 225 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 30 থেকে 50 কিলোমিটার প্রস্থবিশিষ্ট সমভূমি কর্ণাটক সমভূমি নামে পরিচিত।

● কেরল সমভূমি বা মালাবার উপকূলের সমভূমি

ম্যাঙ্গালোর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় 500 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 96 কিলোমিটার প্রস্থবিশিষ্ট উপকূলটি কেরল সমভূমি বা সমভূমি মালাবার উপকূলের সমভূমি নামে পরিচিত।

এই অঞ্চলের জলাভূমি ও হ্রদগুলি কয়াল নামে পরিচিত। এই অঞ্চলের ভেম্বানাদ (বৃহত্তম হ্রদ) এবং অষ্টমুদি কয়াল হল এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য হ্রদ।

2. পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি

এই সমভূমিটি প্রধাণত তিন ভাগে বিভক্ত সেগুলি হল-

● উৎকল সমভূমি

ওড়িশার মহানদীর বদ্বীপ অংশে প্রায় 400 কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমভূমিটি অবস্থিত। এই অঞ্চলে চিলকা উপহ্রদ অবস্থিত।

● অন্ধ্র সমভূমি

এই সমভূমিটি উৎকল সমভূমির দক্ষিণে চেন্নাই থেকে পুলিকট হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত। গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদীর বদ্বীপ এই সমভূমির উপরে অবস্থিত।

● তামিলনাড়ু সমভূমি

এই সমভূম পুলিকট হ্রদ থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত প্রায় 675 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 100 কিলোমিটার প্রস্থ কাবেরী নদীর পলি দ্বারা গঠিত হয়েছে। কাবেরী নদীর বদ্বীপ এই সমভূমির উপর অবস্থিত।

কন্যাকুমারিকার বিবেকানন্দ রক [Ravivg5, Licensed under, CC BY-SA 3.0]
[Img-2]https://en.wikipedia.org/wiki/Kanyakumari#/media/File:Vivekananda_Rock_Memorial,_Kanyakumari.jpg

কাবেরী নদীর বদ্বীপ ‘দক্ষিণ ভারতের শস্য ভান্ডার’ নামে পরিচিত।

পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি ও পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির মধ্যে তুলনা

দ্বীপপুঞ্জ

অবস্থান অনুসারে ভারতের দ্বীপপুঞ্জকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

1.বঙ্গোপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত প্রধান দ্বীপপুঞ্জ হল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। এই দ্বীপপুঞ্জটি 265 ছোট ও বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত। আন্দামান থেকে 120 কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত হল নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।

এই দ্বীপপুঞ্জের সব থেকে দক্ষিণের বিন্দু ইন্দিরা পয়েন্ট বা পিগম্যালিয়ন পয়েন্ট হল ভারতের দক্ষিণতম স্থলবিন্দু।


দশম শ্রেণির অন্য বিভাগগুলিগণিত | জীবন বিজ্ঞান | ভৌতবিজ্ঞান

আন্দামানের স্যাডেল পিক (737 মিটার) হল এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। ব্যারেন ও নারকোন্ডাম হলো এখানকার সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। মাউন্ট হ্যারিয়েট হল এই অঞ্চলের প্রধান পর্বত।

2.আরব সাগর দ্বীপপুঞ্জ

কেরালার উপকূল থেকে পশ্চিমে 324 কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে 25টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ গঠিত হয়েছে।

লাক্ষাদ্বীপের প্রবাল প্রাচীর

লাক্ষা, আমিনদিভি, মিনিকয় হল লাক্ষাদ্বীপ পুঞ্জের প্রধান দ্বীপ। লাক্ষাদ্বীপের সব দ্বীপগুলি প্রবাল দ্বীপ।

ভারতের ভূ প্রাকৃতিক বিভাগ সমূহের গুরুত্ব

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্ব

ভারতের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল মৌসুমী বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রক, প্রতিরক্ষায়, পার্বত্য নদী দ্বারা গঠিত সমভূমি গঠনে, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষিজ ও বনজ সম্পদের ভাণ্ডার রূপে এবং পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্র রূপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

jump-magazine-subscription

মালভূমির গুরুত্ব

ভারতের মালভূমি অঞ্চল হল ভারতের প্রধান খনিজ ভান্ডার। মালভূমির বন্ধুর ভূমির উপর বয়ে যাওয়া নদী থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, অর্থকরী ও বাণিজ্যিক শস্য উৎপাদন, এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের গুরুত্ব সর্বাধিক।

সমভূমির গুরুত্ব

সমভূমি হল চাষ আবাদের প্রধান ক্ষেত্র। তাই খাদ্যশস্য, বাণিজ্য ও শিল্পের জন্য সবরকম ফসল এখানে উৎপন্ন হয়ে থাকে। ভারতের বৃহৎ শিল্প থেকে কুটির শিল্প সবই সমভূমির উপর গড়ে উঠেছে। সমভূমির অবস্থানের কারণে ভারতে রেলপথ, সড়কপথের ব্যাপক বিস্তার সম্ভব হয়েছে।

সমভূমির সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠেছে যা সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর পক্ষে সহায়ক। নগরের বিকাশ ও সাংস্কৃতিক উন্নতি সমভূমিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। সমভূমির অবস্থান কৃষি-শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুযোগ করে দিয়েছে।

পর্ব সমাপ্ত।


এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


লেখিকা পরিচিতি

প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রাক্তনী শ্রেয়সী বিশ্বাস। পড়াশোনা এবং লেখালিখির পাশাপাশি, ছবি আঁকা এবং বাগান পরিচর্যাতেও শ্রেয়সী সমান উৎসাহী।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।