motion-and-force-class-nine-wb
WB-Class-9

বল ও গতি (সরণ, বেগ ও ত্বরণ)

বিষয়: ভৌত বিজ্ঞান । শ্রেণী: নবম । অধ্যায়: বল ও গতি (সরণ, বেগ ও ত্বরণ)



আমাদের চারপাশে যে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন হলো অবস্থানের পরিবর্তন। সময়ের নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই। বিভিন্ন বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে, তাই সময়ের অনুভূতি আমাদের হচ্ছে। পৃথিবী ঘুরছে, দিন রাত্রি হচ্ছে, তাই সময়ের পরিমাপ হচ্ছে। সূর্যের চারিদিকে সাড়ে ২৩ ডিগ্রী হেলে প্রদক্ষিণ করছে, তাই ঋতু পরিবর্তন, বছর পরিবর্তন হচ্ছে। সময়ই পরিবর্তনের পরিমাপ।

[আরো পড়ুন –‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতাটির সারাংশ]

সরণ হলো সময়ের সাথে সাথে অবস্থানের পরিমাপ।

সরণ একটি অবস্থাধর্মী অপেক্ষক। অতিক্রান্ত দূরত্বের সাথে এর তফাৎ হলো, অতিক্রান্ত দূরত্ব (Distance) প্রকৃত পথ, যা সরলরৈখিক নাও হতে পারে। দূরত্ব তাই পথধর্মী অপেক্ষক। দূরত্বের মান আছে এবং এটি অভিমুখের ওপর নির্ভির করে না। সরণ বা displacementএর মান ও অভিমুখ উভয়েই আছে। কারণ এখানে কেবল প্রাথমিক ও অন্তিম অবস্থান দেখা হয়। মনে রাখতে হবে পথধর্মী অপেক্ষকগুলিকে scalar বা স্কেলার রাশি বলে ও অবস্থাধর্মী অপেক্ষকগুলিকে vector বা ভেক্টর রাশি বলে।

JUMP whats-app subscrition

অপরপক্ষে বেগ বা velocity একটি হার।

হার বলতে যাকে সাধারণ বাংলায় দর বোঝায়। বেগ হলো সময়ের সাপেক্ষে সরণের দর। প্রতি একক সময়ে যে সরণ হচ্ছে, সেটিকে বেগ বলে। এর সাথে আছে দ্রুতি বা speed। দ্রুতি অতিক্রান্ত দূরত্ব পরিবর্তনের হার। একটি বস্তু নির্দিষ্ট দ্রুতি নিয়ে চলছে, তার বেগ সমান নাও হতে পারে, কারণ হয়তো বস্তুটি ক্রমাগত অভিমুখ পরিবর্তন করে চলেছে প্রাথমিক অবস্থানের সাপেক্ষে। যেমন বৃত্তাকারে ঘোরা কোনো বস্তু।

distance-time-graph-1

ধরা যাক, ঘড়িতে এখন ১২টা বাজে। ঘন্টা ও মিনিটের কাঁটা একসাথে আছে। মিনিটের কাটা ঘুরতে শুরু করলো। মিনিটের কাটার মাথাতে একটা বল বসানো রয়েছে। সেটি বৃত্তাকারে ঘুরছে। সুতরাং সেটির দ্রুতি মাপা হবে বৃত্তচাপের সাপেক্ষে। তার দ্রতি (২×πxr) প্রতি ঘন্টা। কিন্তু এক ঘন্টা পর মিনিটের কাঁটা আবার ১২টায় ফিরে এসেছে। সুতরাং তার বেগ শূন্য। অর্থাৎ দ্রুতি scalar রাশি ও বেগ vector রাশি।


[আরও পড়ুন – ভৌত বিজ্ঞান । প্রথম অধ্যায়: পরিমাণ ও একক]

ত্বরণ (Acceleration) বা মন্দন (Retardation) শব্দটি কেবলমাত্র বেগের জন্যই ব্যবহৃত হয়।

যখন গাড়ি চলা শুরু করে, তার ঠিক আগে তার বেগ শূন্য থাকে। এবার গাড়ির accelerator এ চাপ দিলেই আস্তে আস্তে বেগ বাড়তে থাকে। এই অবস্থাকে ত্বরণ বলা যায়। ত্বরান্বিত শব্দটি থেকে ত্বরণ শব্দটি এসেছে। ত্বরান্বিত মানে তাড়াতাড়ি করা। ত্বরণকে বেগ বৃদ্ধির হার বা দর বলতে পারি। যখন accelerator ছেড়ে দেওয়া হবে, গাড়ি যে বেগে পৌঁছাবে সেই বেগ নিয়েই চলতে থাকবে। এই নতুন বেগ ও শুরুর যে বেগ তাদের পার্থক্য যে সময় ব্যবধানে সৃষ্টি হয়েছে, সেই সময় ব্যবধানের সাপেক্ষে বেগের বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলা হচ্ছে।



ঠিক তেমনি আবার গাড়িটিকে যখন ধীরে করার প্রয়োজন হবে, বা থামাতে হবে, break এ চাপ দিতে হবে। তাহলেই গাড়ির চাকার ঘোরা থামতে চাইবে, এবং বেগেরও হ্রাস ঘটবে। অথবা যদি গাড়িটিকে না থামিয়ে রাস্তার ঘর্ষণের কারণে আস্তে হতে দেওয়া হয় তাহলেও গাড়িটি এক সময় থেমে যাবে। এই বেশ হ্রাসের হারের নাম মন্দন বা retardation। যেহেতু এটি হ্রাসের হার, তাই এর মান ঋণাত্মক হয়। তাই মন্দনকে ঋণাত্মক ত্বরণও বলা যেতে পারে।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করতে ভুলো না।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

2 Replies to “বল ও গতি (সরণ, বেগ ও ত্বরণ)

Leave a Reply