John_nash_biography
Histroy of Science (বিজ্ঞানের ইতিহাস)

জন ন্যাশ: একটি সুন্দর মন



মাত্র 22 বছর বয়েসে স্বনামধন্য Princeton University থেকে পিএইচডি।

একদিন হঠাৎ করে প্যারানয়েড হয়ে হসপিটালে ভর্তি, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্মৃতি, স্কিৎজোফ্রেনিয়া এবং গন্তব্য পাগলাগারদ।

তার 35 বছর পরে, এক অনবদ্য কাজের মাধ্যমে 1994 এ নোবেল পুরস্কার।

আর, জীবনের শেষ পর্যায়ে পান ‘গণিতের নোবেল পুরস্কার’ – এবেল পুরস্কার (Able Prize)

 

এমন এক বর্ণময় প্রতিভাকে নিয়ে যে বই লেখা হবে, সে কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। 1994-এ প্রকাশিত হয় তার জীবনী, যা মনোনীত হয় সাহিত্যের অন্যতম সেরা পুরস্কার পুলিৎজারের জন্য।

2001 সালে সেই জীবনীকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বায়োপিক, এবং তা জিতে নেয় সিনেমার সেরা পুরস্কার – অস্কার!

ভাবছেন কার কথা বলছি? আধুনিক গণিত ও অর্থনীতির জগতে ইনি একজন বর্ণময় চরিত্র, নাম জন ফোর্বস ন্যাশ (জুনিয়র)।

1928 সালের ভার্জিনিয়ার পশ্চিম প্রদেশে (ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া) জন ন্যাশ (সিনিয়র) ও মার্গারেট ভার্জিনিয়ার সন্তান জন ন্যাশ (জুনিয়র)। ছেলেবেলা থেকেই গণিতে তার আগ্রহ ছিল।  যদিও তার পড়াশোনা শুরু হয়েছিল রসায়নকে কেন্দ্র করে, তার শিক্ষক জন সিঞ্জের পরামর্শে তিনি অংকের জগতে পদার্পন করেন।

JUMP whats-app subscrition

গণিতে BS ও MS এর পর মাত্র 22 বছর বয়সে পিএইচডি পান যে thesis এর জন্য, সেটি পরে ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম নামে খ্যাত হয়।

‘Non cooperative গেম থিওরির’ জনক জন ন্যাশের জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে মানসিক রোগগ্রস্ত অবস্থায়। কিন্তু আজ তার Non cooperative গেম থিওরি ও Nash Equilibrium সর্বক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়।

John_Nash_quotes

গেম থিওরির সবথেকে বড়ো অবদান হলো, decision making। Cooperative গেম থিওরি যেখানে শেখায় ন্যায়ের মাধ্যমে বন্টন, সেখানে Non cooperative গেম থিওরি থেকে জানা যায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত কাকে বলে।

জন ন্যাশ এই দ্বিতীয় প্রকারের জনক, ব্যাপারটি কিভাবে হয় দেখা যাক।

Game_Theory

ধরা যাক দুইজন অপরাধীকে একটি অপরাধের জন্য গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখানে চারটি সম্ভবনা তৈরি হতে পারে।

প্রথমঃ যদি দুজনেই অস্বীকার করে তবে প্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকেই এক বছরের জেলে পাঠানো হবে।

দ্বিতীয়ঃ তাদের দুজনের মধ্যে কেউ যদি মুখ খোলে এবং অপরাধ স্বীকার করে (অর্থাৎ অপর জনের অংশীদারির কথা ফাঁস করে) আর ওপর জন চুপ থাকে, তবে যে মুখ খুললো, সে রাজ্সাক্ষী হয়ে ছাড়া পেয়ে যাবে, অপর জন আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

তৃতীয়তঃ আবার দুজনেই স্বীকার করলে দশ বছরের জেল।



এমতবস্থায় কি করা উচিত?

এখানে একটা শর্ত। দুজনেই জানে দুজনেই স্বার্থপর। কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। দুজনেই জানে মুখ খুললে জেলে যাওয়া ছাড়াই ছাড়া পেয়ে যেতেও পারে। তাহলে কি সবথেকে সম্ভাব্য ফলাফল কি?

এখানেই আসে চতুর্থ সম্ভাবনাঃ দুজনেই হিসেবে করবে যে মুখ বন্ধ রাখার পুরস্কার কি? হয় এক বছরের জেল নাহলে আমৃত্যু কারাদণ্ড। কিন্তু কোনোভাবেই ছাড়া পাওয়ার উপায় নেই।

বিশ্বাস থাকলে মুখ বন্ধ রাখাই সবথেকে যৌক্তিক। তারা পরামর্শ করবে, ‘আমিও মুখ বন্ধ রাখছি, তুমিও রাখো।‘ এক + এক = দুই বছরের সাজা কেটে বেরিয়ে যাই। কিন্তু লোভও আছে। একজন না হয় যুক্তি দিয়ে ভেবে মুখ বন্ধ রাখলো, কিন্তু অন্য জন যদি সত্য উদ্ঘাটন করে, তার তো অনেক লাভ অনেক; মুক্তি।

তাহলে মুখ খোলার তিরস্কার কি? ছাড়া পাওয়া বা দশ বছর। এখানে রিস্ক আগেরটার থেকে কম, লাভও বেশি। সুতরাং মুখ খোলাটাই শ্রেয়।

এখন দুজনেই যদি এ কথা ভাবে (আর একে অপরকে বিশ্বাসের অভাবে এটা করাই সবথেকে স্বাভাবিক), তবে দুজনেই জেলে যাবে। এটাই সবথেকে সম্ভাব্য পরিণতি।

1994 সালে অর্থনীতিতে এর প্রয়োগের জন্য তিনি ওই বিভাগে নোবেল পান। 1998 সালে সিলভিয়া নাসের A Beautiful Mind নামে তার আত্মজীবনী লেখেন। পরে ওই বইয়ের ওপর ভিত্তি করে রাসেল ক্রো অভিনীত একই নামের সিনেমা মুক্তি পায়। যার জন্য 2002 এ সেরা চলচিত্রের অস্কার পায় সিনেমাটি। আপনাদের জন্য নিচে রইল এই সিনেমার একটি ট্রেলার। যদি সুযোগ হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই সিনেমাটি দেখার অনুরোধ রইল।

আর ভাবছেন তাতে আপনি কি পুরস্কার পাবেন? এর উত্তর, একটি সুন্দর মনের সন্ধান!

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল!


lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply