somobhumi-tar-prokarved
WB-Class-9

সমভূমি ও তার প্রকারভেদ

ভূগোলনবম শ্রেণি – ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া (সপ্তম পর্ব)।


আগের পর্বে আমরা লাভা ও ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি সম্পর্কে জেনেছি, এই পর্বে সমভূমি ও তার বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

শুরুতেই আমরা সমভূমি কি সে সম্পর্কে কিছু ধারণা লাভ করবো।

সমভূমি কাকে বলে?

ভূপৃষ্ঠের যে সমস্ত ভূমিরূপ সমুদ্র জলের কাছাকাছি উচ্চতায় 300 মিটারের মধ্যে অবস্থান করে তাদের সমভূমি বলা হয়। সমভূমি বহুদূর বিস্তৃত, সমান তল বিশিষ্ট, হালকা ঢেউ খেলানো ও মৃদু ঢাল যুক্ত হয়।

সমভূমির উদাহরণ

পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি হল সাইবেরিয়ান সমভূমি।

এছাড়া ভারতের গাঙ্গেয় সমভূমি, চীনের হোয়াংহো সমভূমি, ইয়াংসিকিয়াং সমভূমি ও সিন্ধু সমভূমি বিখ্যাত।

বিস্তীর্ণ সমভূমি

সমভূমির বৈশিষ্ট্য

• সমভূমি খুবই কম ঢাল যুক্ত হয় এবং কখনোই এর ঢাল বৃদ্ধি পায়না।

• বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর পৃষ্ঠতল সমতল আকৃতির হতে পারে। তেমন আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে তরঙ্গায়িত হতে পারে।

• সমভূমির আপেক্ষিক উচ্চতার পার্থক্য খুবই কম হয় যা খালি চোখে তা বোঝা যায় না।


[আরো পড়ুন – নবম শ্রেণি – বাংলা | নবম শ্রেণি – ইতিহাস | নবম শ্রেণি – ভূগোল]

• 200 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মালভূমির শেষ প্রান্তে যে সমভূমি দেখা যায় সেখানে উচ্চতার কিছু তারতম্য কিছুটা পরিলক্ষিত হয়।

• সমভূমি সাধারণত নদীর পলি ও কোমল মৃত্তিকা দ্বারা তৈরি হয়।

• সমভূমি বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অবস্থান করে। ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন ভূমিরূপের মধ্যে সমভূমির পরিমাণ সর্বাপেক্ষা বেশি প্রায় 50%।

সমভূমির প্রকারভেদ

সমভূমিকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।

A. ভূ গাঠনিক সমভূমি
B. ক্ষয়জাত সমভূমি
C. সঞ্চয়জাত সমভূমি


[আরো পড়ুন – নবম শ্রেণি – ভৌত বিজ্ঞান | নবম শ্রেণি – জীবন বিজ্ঞান | নবম শ্রেণি – গণিত ]

ভূ গাঠনিক সমভূমি

পৃথিবীর জন্ম লগ্নে পৃথিবী যখন গ্যাসীয় অবস্থা থেকে তাপ বিকিরণ করে ক্রমশ শীতল ও কঠিন অবস্থায় পরিণত হচ্ছিল তখন পৃথিবীপৃষ্ঠ স্বাভাবিক নিয়মেই সমতল হয়ে ভূ-গাঠনিক সমভূমির সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া কোন ধীর অন্তর্জাত প্রক্রিয়ার ফলে ভূত্বকের কোন অংশ উত্থিত বা অবনমিত হয়ে সমভূমি সৃষ্টি করলেও ভূ-গাঠনিক সমভূমি গঠিত হয়।

jump-magazine-subscription

ভূ-গাঠনিক সমভূমির প্রকারভেদ

উৎপত্তি অনুসারে ভূ-গাঠনিক সমভূমি তিন প্রকারের হতে পারে।

i) স্বাভাবিক বা গঠনগত সমভূমি

পৃথিবী তাপ বিকিরণ করে শীতল হওয়ার সময় কঠিন হয়ে ভূত্বকের উপরের স্বাভাবিকভাবেই যে সমতল ভূমি সৃষ্টি করে তাকে স্বাভাবিক সমভূমি বলা হয়।

উদাহরণ

এশিয়া ও ইউরোপের উত্তরের সমভূমি অঞ্চল।

ii) উন্নত সমভূমি

ভূত্বকের উপরের আস্তরন যেমন পুরু বরফের স্তর গলে যাওয়ার জন্য চাপ হ্রাসের ফলে ভূত্বক ধীরে ধীরে উপরে উঠে এসে যে সমভূমি গঠন করে তাকে উন্নত সমভূমি বলা হয়। অনেক সময় ভূ-আলোড়নের ফলে অবনমিত ভূমিভাগ উত্থিত হয়েও সমভূমি গঠন করতে পারে।

উদাহরণ

সাইবেরিয়ান সমভূমি হল উন্নত সমভূমির উদাহরণ।

iii) অবনত সমভূমি

ভূ-আলোড়নের ফলে বিশাল এলাকা জুড়ে ভূত্বকের শিলাস্তর নিচের দিকে বসে গিয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে অবনমিত সমভূমি বলা হয়।

উদাহরণ

তুরানের নিম্নভূমি এইভাবে সৃষ্টি হয়েছে।

পর্ব সমাপ্ত। পরবর্তী পর্ব → ক্ষয়জাত সমভূমি


এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


লেখিকা পরিচিতি

প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রাক্তনী শ্রেয়সী বিশ্বাস। পড়াশোনা এবং লেখালিখির পাশাপাশি, ছবি আঁকা এবং বাগান পরিচর্যাতেও শ্রেয়সী সমান উৎসাহী।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।