workers-and-peasants-party
প্রশ্ন-উত্তর

ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি

ইতিহাসদশম শ্রেণি – বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন (Chapter – 6)

[এই প্রশ্ন উত্তর পর্বটি দশম শ্রেণীর ইতিহাস বিভাগের ষষ্ট অধ্যায় বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন অধ্যায়ের বিশ শতকের ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেস ও বামপন্থী রাজনীতির সংযোগ আলোচনার অন্তর্গত।]

1920 এর দশক থেকেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারার প্রসার ঘটতে শুরু করে। শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণীর ওপর এই ভাবধারা বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল।

1925 সালের 1লা নভেম্বর হেমেন্দ্র কুমার রায়, কবি নজরুল ইসলাম, কুতুবউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিত্বরা ‘লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠিত করেন।

তার 1 বছর পর অর্থাৎ 1926 এ লেবার স্বরাজ পার্টির নাম পরিবর্তিত হয়ে রাখা হয় ‘ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি’।

এর প্রথম সভাপতি হন নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত। কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তপ্রদেশ, বোম্বাই, পাঞ্জাব ইত্যাদি স্থানে এই পার্টির শাখা গড়ে উঠতে শুরু করে। এই পার্টির মুখপত্র বেশ কিছু প্রদেশে প্রকাশিত হয়।

কিছু উল্লেখযোগ্য মুখপত্র যেমন – কাজী নজরুল ইসলামের লাঙ্গল, এস. এ. ডাঙ্গের ‘সোশ্যালিস্ট’, মুজাফফর আহমেদ-এর ‘গণবাণী’।

ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টির উদ্দেশ্য

1) শ্রমিকদের কাজের সময়সীমা হ্রাস করানো
2) সর্বনিম্ন মজুরির হার নির্ধারণ
3) জমিদারি প্রথার উচ্ছেদকরণ ইত্যাদি।

ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টির গড়ে ওঠার কারণ

ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টির গড়ে ওঠার কারণ ছিল শ্রমিকদের মধ্যে শ্রেণী সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন করা ও এটা প্রচার করা যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা তখনই আসা সম্ভব যখন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পাওয়া যাবে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা গুরুত্বহীন।
এই পার্টি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে তোলে ও শ্রমিকদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। যার ফলে শ্রমিকরা নিজেদের দাবি আদায়ে সচেষ্ট হয় ও শিল্পাঞ্চলে আরো সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে।


এই লেখাটির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই লেখা, অডিও, ভিডিও বা অন্য ভাবে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


JumpMagazine.in এর নিয়মিত আপডেট পাবার জন্য –

X_QA_Hist_Workers-and-peasants-party