chemical-bonding-class10 copy
Madhyamik

রাসায়নিক বন্ধন

ভৌতবিজ্ঞান – দশম শ্রেনি – অধ্যায়: রাসায়নিক বন্ধন (প্রথম পর্ব)


ডালটনের মত অনুসারে পরমাণু পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক।

কথাটি কিছু মৌলের ক্ষেত্রে সত্য হলেও, অ্যাভোগাড্রো প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন যে আসলে পরমাণু নয়, অণুরাই পদার্থের সবথেকে ক্ষুদ্রতম একক, তা মৌলের ও যৌগের উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। পরমাণুদের স্থায়িত্বের অভাবের কারণে তারা একসাথে যুথবদ্ধ হয়ে থাকতে চেষ্টা করে। এই জোট বাঁধবার যৌথ প্রচেষ্টাই রাসায়নিক বন্ধন।

বন্ধন দুই প্রকারের হয়।

  1. অন্তরাণবিক (মূলতঃ রাসায়নিক)
  2. আন্তরাণবিক (মূলতঃ ভৌত)

অন্তরাণবিক বন্ধন অর্থে পরমাণু জোট বেঁধে অণু তৈরী করা। কিন্তু, কিছু কিছু পরমাণু জোট বাঁধতে পারে না, কারণ তারা পরমাণু অবস্থাতেই স্থায়ী। এদের অণুকে তার ‘এক পরমাণুর অণু’ বলা যেতে পারে। এরা হলো He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস।

আগে ধারণা করা হতো বাকি পরমাণু এদের মতো গঠন পাওয়ার জন্যই অণু গঠনের চেষ্টা করে। এই পরমাণুগুলির সর্ববহিঃস্থ কক্ষপথে 2 বা 8টি ইলেক্ট্রন থাকে। বাকি পরমাণুগুলি ইলেকট্রন দান করে বা গ্রহণ করে অথবা যৌথভাবে ভাগ করে নিয়ে নিজের সর্ববহিঃস্থ কক্ষপথে 2 বা 8টি ইলেকট্রন আনবার চেষ্টা করে অষ্টকপূর্তির চেষ্টা করে। একে অষ্টক সূত্র বলে।

কিন্তু দেখা গিয়েছে অধিকাংশ ধাতু যারা আধুনিক পর্যায় সারণির 3 থেকে 12 নম্বর শ্রেণীতে অবস্থান করছে, বা অধাতু যারা তৃতীয় থেকে পঞ্চম পর্যায়ে অবস্থান করছে, তারা এই নিয়ম মানে না।

আন্তরাণবিক বন্ধন হলো যখন ইতোমধ্যে অণু গঠিত হয়ে গিয়েছে, তখন দুটি অণুতে আকর্ষণের ফলে সৃষ্ট একটি অপেক্ষাকৃত দুর্বলতর বন্ধন। এই আকর্ষণের মূল কারণ হয় তাদের ভর, না হয় তাদের মধ্যে উপস্থিত আংশিক প্রশমিত আধান। এদের কারণে পদার্থের অবস্থা নির্ধারিত হয়।

অন্তরাণবিক বন্ধন  আন্তরাণবিক বন্ধন
·         আয়নীয় বা তড়িৎযোজী বন্ধন

·         আণবিক বা সমযোজী বন্ধন

·         ডেটিভ বা অসমযোজী বন্ধন

·         হাইড্রোজেন বন্ধন

·         ভ্যান ডার ওয়াল বন্ধন

আয়নীয় বন্ধন বা তড়িৎযোজী বন্ধন

আয়নীয় বন্ধন মূলত ধাতু ও অধাতু বা অধাতব মূলকের মধ্যে দেখা যায়। এখানে ধাতুগুলির সর্ববহিঃস্থ কক্ষে 1, 2 বা 3 টি ইলেকট্রন থাকে। তার ঠিক নিচের কক্ষপথে 2 বা 8 টি ইলেকট্রন উপস্থিত রয়েছে ধারণা করা হয়। তাই তারা ওই বহিঃস্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করে অষ্টক পূর্তি করে।

ত্যাজ্য ইলেকট্রন নিয়ে সোডিয়াম (Na) [চিত্র সৌজন্য – chem.libretexts.org]
অপরদিকে অধাতু বা মুলকে উপস্থিত অধাতব মূলক সেই ত্যাজ্য ইলেক্ট্রনগুলি গ্রহণ করে অষ্টক পূর্তির চেষ্টা করে।
5
ইলেকট্রন গ্রাহী ক্লোরাইড (Cl) [চিত্র সৌজন্য – chem.libretexts.org]
কারণ এদের সর্ববহিঃস্থ কক্ষপথে 4 থেকে 7 টি ইলেক্ট্রন বর্তমান থাকে। ধাতুগুলি ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আধানপ্রাপ্ত করে। অধাতুগুলি ঋণাত্মক আধান সংগ্রহ করে ঋণাত্মক আধানপ্রাপ্ত হয়। এই বিপরীতধর্মী তড়িদাকর্ষণের কারণে যৌগ গঠিত হয়।

ionic-bond
একত্রে সোডিয়াম ক্লোরাইড

সমযোজী বন্ধন

আবার সমযোজী বন্ধন তখনই গঠিত হয়, যখন অংশগ্রহণকারী উভয় মৌলেরই ইলেক্ট্রন গ্রহণের প্রবণতা বর্তমান থাকে।  অর্থাৎ, যাদের সর্ববহিঃস্থ কক্ষে 4, 5, 6 বা 7 টি ইলেক্ট্রন থাকে তারা নিজেদের মধ্যে 4, 3, 2 বা 1টি ইলেক্ট্রন যৌথভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অষ্টক পূর্তি করে। হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি 1। এটি সর্বাপেক্ষা সুদৃঢ় বন্ধন। যেহেতু এর ফলে স্বয়ংসম্পূর্ণ অণু তৈরী হয়, তাই এই বন্ধনকে আণবিক বন্ধনও বলে। লাইনাস পাউলিং দ্বারা তড়িৎঋণাত্মকতা আবিষ্কারের ফলে আমরা জানতে পেরেছি যে সকল রাসায়নিক বন্ধনই সমযোজী বন্ধন।

JUMP whats-app subscrition

অসমযোজী বন্ধন মূলত সমযোজী বন্ধন ও তড়িৎযোজী বন্ধনের মধ্যেকার রূপ, যেখানে ইলেক্ট্রন কেবলমাত্র একটি “অণু বা পরমাণু” থেকে আসছে কিন্তু বন্ধন গঠিত হওয়ার পরে সেটি সমযোজীর ন্যায় আচরণ করছে।

যখন উভয় পরমাণুই ইলেক্ট্রন গ্রহণে অপারগ তখন ধাতব বন্ধন গঠিত হয়। সেইসময় পরমাণুগুলি সর্ব্ববহিঃস্থ কক্ষের ইলেকট্রনগুলিকে ক্রমাগত নিকটবর্তী পরমাণুর উপর ঠেলে দিতে থাকে। এর ফলে মজবুত বৃহদায়তন জালিকাকার অণু সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, দুটি ভিন্ন মৌলের মধ্যেও ধাতব বন্ধন সৃষ্ট হতে পারে। সেক্ষেত্রে পদার্থটি মিশ্রণ হবে, বিশুদ্ধ পদার্থ না। যেমন সংকর ধাতু পিতল। এখানে তামা ও দস্তার পরমাণুর মধ্যে ধাতব বন্ধন তৈরী হয়। 

Covalent_bond_hydrogen.
হাইড্রোজেনের সমযোজী বন্ধন [চিত্র সৌজন্যে – Wikipedia]
হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরী হয় পরমাণুতে উপস্থিত হাইড্রোজেন ও ফ্লুরিন/নাইট্রোজেন/অক্সিজেনের মধ্যে তড়িৎঋণাত্মকতার প্রভেদের জন্য। এই প্রভেদের কারণে H এর উপর সামান্য ধনাত্মক ও F/N/O এর উপর ঋণাত্মক চার্জ গঠিত হয়। তার ফলে প্রতিবেশী অণুর O/F/N এর সাথে H এর আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এই কারণে H2O তরল কিন্তু ভারী হওয়া সত্ত্বেও H2S গ্যাস।


আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করার অনুরোধ রইল! 🙂


ভ্যান-ডার-ওয়াল প্রথম গ্যাসের অণুগুলির মধ্যে আকর্ষণের কারণ ব্যাখ্যা করেন।

তার মতে, ভারী আণবিক ওজন হলে পদার্থ গ্যাস, তারপর তরল ও শেষে কঠিন হয়। যেমন 60 এর নিচে সমস্ত হাইড্রোকার্বন গ্যাস, 60 এর ওপরে কিন্তু 150 এর নিচে তরল, ও 150 এর ওপরে পদার্থ কঠিন হয়।


দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ক লেখাগুলি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

এই লেখাটি থেকে উপকৃত হলে সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।



এছাড়া,পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে যুক্ত হতে পারেন ‘লেখা-পড়া-শোনা’ ফেসবুক গ্রূপে। এই গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন এখানে।

lekha-pora-shona-facebook-group

Leave a Reply