biology-hs-last-part
পরীক্ষা প্রস্তুতি

উচ্চ মাধ্যমিক প্রস্তুতি – জীববিদ্যা (অন্তিম পর্ব)



উচ্চ মাধ্যমিক প্রস্তুতি পর্বে আমরা আলোচনা করছি উচ্চ মাধ্যমিক জীববিদ্যা। আগের দুই পর্বে আলোচনা করা হয়েছে কি ভাবে প্রস্তুতি নিলে জীববিদ্যায় ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব। আজ শেষ পর্বে আমরা আলোচনা করবো জীববিদ্যার শেষ তিনটি একক।

[আরো পড়ুন – এই লেখার প্রথম পর্ব] 

তৃতীয় একক – জীববিদ্যা ও মানবকল্যান

এই এককটিতে তিনটি অধ্যায় আছে। ‘সুসাস্থ্য ও ব্যাধি’, ‘খাদ্য উৎপাদনের উন্নতি সাধন’ ও ‘মানব হিতসাধনে অনুজীব’। তৃতীয় এককটি থেকে কোনো পাঁচ নম্বরের প্রশ্ন আসে না। প্রতিটি অধ্যায় থেকেই এক, দুই অথবা তিন নম্বরের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে।

[আরো পড়ুন – এই লেখার দ্বিতীয় পর্ব]

প্রথম অধ্যায় – সুসাস্থ্য ও ব্যাধি

এই অধ্যায়টিতে বিভিন্ন পার্থক্য (যেমন- রস নির্ভর অনাক্রমতা ও কোশনির্ভর অনাক্রমতা, T লিম্ফোসাইট ও  B লিম্ফোসাইট ইত্যাদি) , অনাক্রমতা সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়( যেমন অ্যান্টিবডির গঠন, অ্যান্টিবডির বিভিন্ন প্রকার, আন্টিজেন – অ্যান্টিবডি ক্রিয়া ) বিভিন্ন রোগ (যেমন ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, অ্যাসকেরিওসিস ইত্যাদি) এর সংক্রমণ পদ্ধতি, রোগের লক্ষণ, রোগসৃষ্টিকারী জীবাণুর বিজ্ঞান সম্মত নাম এবং ক্যান্সার কোশের বৈশিষ্ট্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

JUMP whats-app subscrition

দ্বিতীয় অধ্যায় – খাদ্য উৎপাদনের উন্নতি সাধন

দ্বিতীয় অধ্যায়ে উচ্চ খাদ্যগুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টির বিভিন্ন পদ্ধতি (যেমন সংকরায়ণ পদ্ধতি, কোশ কর্ষন, কলাকর্ষন, নিবিড় মাছ চাষ ও মিশ্র মাছ চাষ,  উন্নত উপায়ে মুরগী, মৌমাছি প্রতিপালন, মুক্তা চাষ ইত্যাদি) প্রতিপালিত প্রাণীর বিভিন্ন প্রকার প্রাণীর না না প্রকার রোগ (যেমন-মাছের ফুলকা পচা রোগ ,মুরগীর রাণীখেত ইত্যাদি), মুরগীর বিভিন্ন ব্রিড, মেজর কার্প, মাইনর কার্প ও বিদেশী মাছ সমূহের বিজ্ঞান সম্মত নাম, প্রণোদিত প্রজনন, মধুর উপাদান ও ব্যবহার, SCP এবং বায়োফর্টিফিকেসন গুরুত্বপূর্ণ।

[আরো পড়ুন – উচ্চ মাধ্যমিকে রসায়নে 90% কিভাবে পাওয়া যাবে]

তৃতীয় অধ্যায় – মানব হিতসাধনে অনুজীব

তৃতীয় অধ্যায়ে মানব জীবনে কোন কোন অণুজীব আমাদের খাদ্য উৎপাদনে, ঔষধ  উৎপাদনে, ভিটামিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাদের বিজ্ঞান সম্মত নাম এবং উৎপাদন পদ্ধতি, বায়োগ্যাস এবং শহ রাঞ্চলের বর্জ্য প্রক্রিয়া করণ সম্পর্কে বিশদ ভাবে পড়তেই হবে। বায়োফার্টিলাইজার (যেমন নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া, লৌহ ব্যাকটেরিয়া, PSB, ব্লু-গ্রীন অলগি, মাইকোরাইজা), বায়ো কন্ট্রোল এজেন্ট ও জৈব বিবর্ধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।



চতুর্থ একক – জৈব প্রযুক্তিবিদ্যা এবং এর প্রয়োগ

এই এককটি একটি অধ্যায়েই সীমাবদ্ধ। এই এককটি থেকে  কোন পাঁচ নম্বরের এবং এক নম্বরের প্রশ্ন আসে না। এর থেকে সাধারণত দুই নম্বরের সংজ্ঞা (যেমন জৈব প্রযুক্তি, জেনেটিক ইঞ্জিয়ারিং, জিন থেরাপি, ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ ও প্রাণী [উদাহরণ সহ], ট্রান্স জিন, রিকম্বিনেন্ট DNA Technology, GMO, ক্লোনিং, হাইব্রিডোমা ইত্যাদি) পরীক্ষায় আসে। তিন  নম্বরের জন্য রিকম্বিনেন্ট DNA Technology এর পদ্ধতি, ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টির ধাপ সমূহ, জৈব প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ, জিন থেরাপির প্রয়োগ ( কৃষি ক্ষেত্রে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে), ভেক্টরের বৈশিষ্ট্য, জিনোমিক DNA লাইব্রেরী,  DNA ফিংগার প্রিন্টিং এবং এর প্রয়োগ,  প্লাসমিড [উদাহরণ সহ ], PCR এর প্রয়োগ,[সুবিধা, অসুবিধা]  pBR322 এর গঠন চিত্রসহ, মানব ইনসুলিন বায়ো সেফটি, পেটেন্টের শর্ত সমূহ, বায়ো পাইরেসি ইত্যাদি) খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চম একক  হল বাস্তুবিদ্যা এবং পরিবেশ।

এই একক টি ‘বাস্তুবিদ্যা, পরিবেশ ও জীবগোষ্ঠী’ ‘বাস্ততন্ত্র’ ‘জীব বৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ’ ও ‘পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয় সমূহ’  এই চারটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত।

প্রথম অধ্যায় – বাস্তুবিদ্যা, পরিবেশ ও জীবগোষ্ঠী

এই অধ্যায়  থেকে পার্থক্য (যেমন সিনইকোলজি ও অটইকোলজি, বাসস্থান ও নিচ, খাদ্য জাল ও খাদ্য শৃঙ্খল,  ইত্যাদি), বিভিন্ন প্রকার বায়োম, নিচ, ও নিচের প্রকারভেদ, মাইক্রোহ্যাবিটেট, মাইক্রোএনভায়রনমেন্ট, বিভিন্ন প্রকার মিমিক্রি, পপুলেশন সংক্রান্ত সব বিষয় যেমন জন্মহার, মৃত্যুহার, বয়স ভিত্তিক পিরামিড, ভাইটাল  ইন্ডেক্স, পপুলেশন বৃদ্ধির কার্ভ  খুব  গুরুত্বপূর্ণ। এই অধ্যায় থেকে দুই বা তিন নম্বরের প্রশ্নই বেশী আসে।

Jump-jee-campaign-banner

দ্বিতীয় অধ্যায় – বাস্তুতন্ত্র

এই অধ্যায়ে বাস্ততন্ত্রের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা  করা হয়েছে। এই অধ্যায় থেকে দুই, তিন ও পাঁচ বা (তিন + দুই) নম্বরের প্রশ্ন আসতে পারে। তিন নম্বরের জন্য বাস্তুতন্ত্রের প্রকারভেদ, খাদ্য জাল, খাদ্য শৃঙ্খল, বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শৃঙ্খলের তুলনা বিভিন্ন ধরণের  বাস্তুতন্ত্র  (পুকুর, অরণ্য, মরুভূমি ইত্যাদি) বায়োমাস, বিভিন্ন প্রকার পিরামিড, শক্তি প্রবাহ (বিশেষ করে Y আকৃতির শক্তি প্রবাহ মডেল) , বিভিন্ন ভূ-রাসায়নিক চক্র (যেমন কার্বন চক্র, সালফার চক্র, বিশেষ করে নাই ট্রোজেন চক্র, ইকোলজিক্যাল সাকসেশন( সংজ্ঞা, হাইড্রোসিরি, জেরোসিরি)ইত্যাদি।

তৃতীয় অধ্যায় – জীব বৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ

এই আধ্যায় থেকে সংজ্ঞা বা কাকে বলে এই ধরণের প্রশ্ন যেমন, জীব বৈচিত্র্য, জীব বৈচিত্র্যের অন্তর্গত প্রত্যেক স্তরের পৃথক সংজ্ঞা (জিনগত বৈচিত্র্য, আলফা বৈচিত্র্য, বিটা বৈচিত্র্য, গামা বৈচিত্র্য ইত্যাদি), ইন সিটু এবং এক্স সিটু সংরক্ষণ (উদাহরণ সহ), হটস্পট, রেড ও গ্রীন ডাটা বুক,  হটস্পট নির্ধারনের  শর্ত, অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, কি স্টোন প্রজাতি ইত্যাদি।

পার্থক্য – ইন সিটু সংরক্ষণ এবং এক্স সিটু সংরক্ষণ, রেড ডাটা বুক ও গ্রীন ডাটা বুক,  জীব বৈচিত্র্যের একটি স্তরের সঙ্গে অন্যটির তুলনা ( জিনগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে প্রজাতি গত বৈচিত্র্যের পার্থক্য, আলফা বৈচিত্র্যের সঙ্গে গামা বৈচিত্র্যের পার্থক্য ইত্যাদি),  অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি।

এছাড়া বায়ো স্ফিয়ার রিজার্ভ ও তার বৈশিষ্ট্য, ভারতে অবস্থিত বিভিন্ন হটস্পট গুলির নাম, ভারতের অবলুপ্ত ও বিপন্ন  উদ্ভিদ ও প্রাণী,  বিপন্ন  উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিজ্ঞান সম্মত নাম, তাদের কোথায় দেখতে পাওয়া যায়,  তাদের বিপন্নতার কারণ এবং সংরক্ষণের উপায় বিশদ ভাবে পড়তে হবে।

চতুর্থ  অধ্যায় – পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয় সমূহ

এই অধ্যায়ে বিভিন্ন প্রকার দূষণের কারণ (যেমন বায়ু দূষণ, জল দূষণ, শব্দ দূষণ, তেজস্ক্রিয় দূষণ), প্রভাব ও ফলাফল, প্রতিরোধের উপায়, COD, BOD, IPM, অ্যাসিড বৃষ্টি, জৈব বিবর্ধন, কঠিন বর্জ্য পরিচালনা, গ্রিন হাউস গ্যাস, ওজোন ছিদ্র তৈরির কারণ ও প্রতিকার, অরণ্য বিনাসের কারণ এবং বিশেষ আন্দোলনগুলি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

 

সর্বশেষে বলি, একটু নিয়ম মেনে পড়লে এবং পরীক্ষার খাতায় সঠিক ভাবে লিখলে উচ্চ মাধ্যমিকে জীববিদ্যায় খুব ভালো নম্বর পাওয়া মোটেই শক্ত ব্যপার নয়। খুব ভালো হোক তোমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সবাই সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হও।

Leave a Reply